মন্দা মোকাবিলায় আর্থিক সংস্কারে বেশি জোর

  গোলাম রাব্বানী

২২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে এবার আর্থিক সংস্কারের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার পর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে আস্থার সঞ্চার ঘটাতে চায় তারা। যে কারণে এবারের বসন্তকালীন সভায় আর্থিক সংস্কারের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাজারের সাম্যাবস্থা ও নিয়ন্ত্রণমূলক বাজার ব্যবস্থা গঠন নিয়েও আলোচনা করা হয় বৈঠকে।

একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংস্কার, ব্যাকিং খাতে স্থিতিশীলতা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে। বৈঠক শেষ হবে আগামী ২২ এপ্রিল। ওইদিন কেন্দ্রীয়ভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বাংলাদেশের পক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নিয়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ বিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিবরাও রয়েছেন।

বৈঠকের প্রথম দিনে সাধারণ গোষ্ঠীর অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া ঋণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আধুনিকায়ন করা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত আসে এ বৈঠকে। আর কৃষক ও ক্ষুদ্র প্রান্তিক পর্যায়ে কর্মজীবীদের ঐক্যের একটি কাঠামো দাঁড় করার বিষয়ে সংগঠনগুলো কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

এ ছাড়া নিম্নমধ্য আয়ের দেশগুলোয় অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যতার ধরন নিয়েও আলোচনার পাশাপাশি প্রযুক্তির কারণে অর্থনীতির ধরন ও লেনদেনের ধরনে কী আমূল পরিবর্তন আসবে সে সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। আর সাহারার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলা নিয়েও আলোচনা হয়।

এবারের বৈঠকের প্রথম দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বিভিন্ন ধরনের বিষয় সম্পর্কে জোর দেওয়া হয়। নতুন উদ্ভাবনের ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজার দখল করা যায় সে সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যাংকিং খাতে আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার বিষয়ে সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সংস্কার করার তাগিদ দেওয়া হয়। বৈঠকে বলা হয়, আর্থিক খাতে বিপর্যয় দেখা দিলে এর পুরো নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে পড়ে। এ কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সময়ের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। বিশ্বব্যাপী যে আর্থিক মন্দা চলছে সেটি এখনো পুরো কাটেনি। ঘুরেফিরে কোথাও না কোথাও মন্দা লেগেই আছে। মন্দা কাটাতে আর্থিক খাত সংস্কারে জোর দেওয়া হয়।

বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে খাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ না করে কোনো নির্দিষ্ট মানুষের উপকার হয় এমন খাতে যাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া খাদ্য ও অন্যান্য কৃষিভিত্তিক পণ্যের ওপর বিনিয়োগেও জোর দেওয়া হয়। আর শেষের দিনে অর্থনৈতিক খাতে দুর্নীতি দূর করে আস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।

এবারের বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি ইস্যু তুলে ধরা হয়।

এবারের আলোচিত ইস্যুগুলোর মধ্যে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) খাতের তিনটি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সম্পর্কিত তিনটি, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের একটি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের দুটি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একটি, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একটি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি এবং অন্যান্য বিষয় রয়েছে একটি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে