বিদেশে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা বেশি

  নাজমুল হুসাইন

২৯ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান খাত জনশক্তি রপ্তানি। বিদেশে বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি লোক কর্মরত। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব রেখে চলেছে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসছে। জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড় বাজার হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। পাশাপাশি মালয়েশিয়া, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানি করা হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৭ সালে ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫ জন কর্মী বিদেশে গেছে, যা ২০১৬ সালের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

বিদেশে বাংলাদেশে জনশক্তির সবচেয়ে বেশি চাহিদা দক্ষ শ্রমিকের। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, নার্স, ড্রাইভার, ওয়েল্ডিংয়ের কাজ, নির্মাণ শ্রমিক ও গৃহকর্মীদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এসব খাতে চাকরি নিয়ে গেলে ভালো বেতনও পাওয়া যায়। এ কারণে সরকার থেকেও দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব জনশক্তি রপ্তানি করলে রেমিট্যান্স আয়ও বেশি হয়।

বর্তমানে ৭০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৪৮টি ট্রেডে দেশের তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রম ই-মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা হয়েছে।

২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে বিএমইটির আওতায় পরিচালিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) ও আইএমটিগুলোয় দক্ষতা উন্নয়ন (ডিপ্লোমা ইন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, এসএসসি ভোক, দুই বছর মেয়াদি সার্টিফিকেট ইন মেরিন ট্রেড ও অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি কোর্স), হাউসকিপিং কোর্স ও প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ কোর্সে সর্বমোট ৭ লাখ ৪২ হাজার ৫১৬ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

তারা জানান, বিদেশে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। শ্রমিকরা যে কাজের জন্য বিদেশে যাচ্ছে সেই কাজে দক্ষতা থাকলে খুব সহজেই উন্নতি করা সম্ভব; যা তার পরিবার ও দেশ দুটোর জন্যই কল্যাণকর। এতে বেতনও বেশি পাওয়া যায়। চাকরির নিশ্চয়তাও আছে। কয়েক বছর আগেও প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার অভাবে অদক্ষ শ্রমিকরা বিদেশে গিয়ে ফেরত চলে এসেছে। এখন আগের চেয়ে দক্ষ শ্রমিক বেশি যাচ্ছে।। এ কারণে শ্রমিক ফেরত আসার সংখ্যাও কমছে।

গত বছর সবচেয়ে বেশি জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে সৌদি আরব। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ দেশটিতে সাড়ে পাঁচ লাখ শ্রমিক, যা মোট জনশক্তি রপ্তানির অর্ধেক রফতানি হয়েছে। বাসাবাড়ির গাড়ির ড্রাইভার, রাজমিস্ত্রির কাজ, বিভিন্ন সুপারশপের কাজ, প্রস্তুতকৃত পোশাক তৈরি ইত্যাদি কাজের চাহিদা বেশি। গত বছর মালয়েশিয়ায় যাওয়া কর্মীর সংখ্যা ছিল এক লাখ। মালয়েশিয়ায় শিল্প-কারখানায় শ্রমিকদের চাহিদা বেশি। এ ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্রমিকরা অগ্রাধিকার পায় বেশি। এদিকে ওমানে ৯০ হাজার ও কাতারে ৮২ হাজার কর্মী গত বছর গিয়েছে।

দিন দিন বিদেশে নারীকর্মীর চাহিদাও বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে গৃহকর্মে, নার্স, ডাক্তার ও পোশাক খাতে এসব কর্মীর চাহিদা বেশি। ২০১৭ সালে মোট ১ লাখ ২২ হাজার নারীকর্মী বিদেশে যায়। এদের মধ্যে সৌদি আরবে গেছে ৮৩ হাজার, জর্ডানে প্রায় ২০ হাজার এবং ওমানে ৯ হাজার।

মূলত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোয় বিদেশে শ্রমের চাহিদা অনুযায়ীই কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। তার পরও শতভাগ দক্ষ শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিক সংখ্যানুযায়ী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান অপ্রতুল। বেসরকারি উদ্যোগ কম থাকায় দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে সমস্যা বেড়েই চলেছে। তাই দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্রমিক তৈরি করার জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানান বিএমইটির কর্মকর্তারা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে