আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি

  মোস্তফা তাহান

২৯ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভালো নেই স্বল্প আয়ের মানুষ। তাদের আয় কিছুটা বাড়লেও ব্যয় বেড়েছে অনেক বেশি। বিশেষ করে চাল, ডাল ও বাসাভাড়া বাড়ার কারণে আয় বৃদ্ধির সুফল তারা পাচ্ছেন না। এ ছাড়া দৈনন্দিন ব্যয় মিটিয়ে সঞ্চয়ও করতে পারছেন না। ফলে কোনো রোগে আক্রান্ত হলে বা কোনো কারণে কাজ করতে না পারলে অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় চলতে হয় আগাম শ্রম বিক্রি করে বা কর্জ করে। নিজেরা ভবিষ্যৎ বলে কিছু দেখতে পারছে না। সন্তানদের নিয়ে বেশ চিন্তিত। এখানে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার কিছু চিত্র তুলে ধরেছেন মোস্তফা তাহান

মোজাম্মেল হোসেন; নির্মাণ শ্রমিক

গ্রামের বাড়ি রংপুর। ঢাকায় নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তিনি দিনে ৩৮০ টাকা মজুরি পান। পরিবারে স্ত্রী এবং পাঁচ ছেলেমেয়ে আছে। একমাত্র ছেলেটা সবার ছোট। পরিবারের একমাত্র আয়-রোজগার করেন তিনিই। এতেই সংসার চলে। তিন মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। থাকা-খাওয়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এখন চলতে পারেন না। ৩৮০ টাকা দিয়ে চার সদস্যের পরিবার চলে না। বর্তমানে পরিবার নিয়ে খুব আর্থিক টানাপড়েনের মধ্যে চলতে হয়। বস্তিতে থাকেন। ঘরভাড়া বেড়েছে। ছেলেমেয়েকে স্কুলে দিতে পারেন না। সামনে ভবিষ্যৎ বলতে কিছু নেই। কাজ না করলে খেতে পান না।

আসমা খাতুন; ফুল বিক্রেতা

গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে থাকেন। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ফুল সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। ছোটবেলা থেকেই ফুলের ব্যবসা করেন। শাহবাগ আর আগারগাঁও থেকে ফুল এনে সেগুলো দিয়ে মালা তৈরি করে বিক্রি করেন। ফুল আনেন বাকিতে। মালা বিক্রির পর দিনে ২০০-৩০০ টাকা লাভ থাকে। এ টাকায় সংসার চলে না। ইদানীং বেচাবিক্রিও কমে গেছে। বিভিন্ন উৎসব বা মেলার সময় বেশি বিক্রি হতো। এখন এ সময় পুলিশ বসতে দেয় না। ফলে বিক্রিও তেমন হয় না। বিক্রি কম হলে আয়ও কম হয়। তখন বাকিতে ফুল আনার টাকা পরিশোধ করতে পারেন না।

সুজন আহমেদ; চা-বিস্কুট-পান-সিগারেট বিক্রেতা

গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ। ঢাকার চানখাঁরপুলে থাকেন। দুই বছর ধরে চা-বিস্কুট বিক্রি করেন। আগে ভাঙাড়ির ব্যবসা করতেন। আগেই ভালো ছিলাম। প্রতিদিন প্রায় ৩০০-৪০০ টাকা আয় হতো। এখন আয় কমে গেছে। যেসব স্থানে লোকসমাগম বেশি হয়, সেখানে এগুলো বিক্রি করা হয়। কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাতে আমাদের ওই সব স্থানে ভিড়তে দেয় না পুলিশ। দেখলে ধরে নিয়ে সব ভেঙে ফেলে। ফলে বিক্রি করতে পারি না। আর বিক্রি না করতে পারলে ভালো লাভ হয় না। বর্তমানে আয় হয় ২০০-২৫০ টাকা। এ টাকায় সাতজনের সংসার চলে না। খুবই কষ্টে জীবন চালাতে হচ্ছে।

মো. মফিজ উদ্দিন; মৌসুমি ফল বিক্রেতা

গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মৌসুমি ফল বিক্রি করেন। তিনি ২২ বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলের ভর্তা তৈরি করে বিক্রি করেন। তিন মেয়ের মধ্যে দুজন নীলক্ষেত স্কুলে পড়াশোনা করছে। তাদের ব্যয়ের পাশাপাশি আছে নিজের সংসারের খরচ। আগে আয় ভালো হতো। এখন আয় কমে গেছে। গড়ে প্রতিদিন ৩০০-৫০০ টাকা আয় হয়। বৃষ্টিবাদল, সমাবেশ বা আন্দোলন হলে বসতে দেয় না পুলিশ। তখন আয় করতে পারি না। সংসার চালানোও কষ্ট হয়ে যায়। আর যে টাকা আয় হয় তাতে সংসার চলে না।

আবদুর রহমত উল্লাহ; রিকশাচালক

গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর। ঢাকায় কামরাঙ্গীরচরে থাকেন। তিনি ৩০ বছর ধরে ঢাহা শহরে রিকশা চালান। আগে ভাড়ার রিকশা চালাতেন। দুই বছর হলো একটা পুরনো রিকশা কিনে চালাচ্ছেন। কিছু সঞ্চয় করে এটা কিনেছেন। একবেলা নিজে চালান, অন্য বেলায় ভাড়া দিচ্ছেন। এখন আগের থেকে ভালো আছেন। প্রতিদিন গড়ে নিট আয় থাকে ৪০০-৫০০ টাকা। তবে চাল, ডাল ও বাসাভাড়া যেভাবে বেড়েছে, তাতে এখন আয়-সঞ্চয় করতে পারেন না। ফলে কোনো অসুখে পড়লে বিপদ হয়ে যায়। এ ছাড়া রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে পড়লেও আয় কমে যায়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে