বাজেট টু কি টা কি

  ইশরাতুল জাহান

১০ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অনেক ছোট ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থমন্ত্রী তুলে ধরেছেন। সেগুলো এখানে তুলে ধরা হলো :

ভার্চুয়াল বিজনেসের সংজ্ঞা : বর্তমানে ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে পণ্য বা সেবার ক্রয়-বিক্রয় যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পণ্য বা সেবার পরিসরকে আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভার্চুয়াল বিজনেস নামে একটি সেবার সংজ্ঞা সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে অনলাইনভিত্তিক যে কোনো পণ্য বা সেবার ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তরকে এ সেবার আওতাভুক্ত করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে ভার্চুয়াল বিজনেস সেবার ওপর ৫ শতাংশ হারে মূসক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, ভার্চুয়াল বিজনেস যেমন ইউটিউব, ফেসবুক এগুলোর ওপর ট্যাক্স ধার্য করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। কিন্তু অনলাইন বিজনেস আমরা আলাদা করেছি এবং এটার ওপর কোট ভ্যাট বসাইনি। ছাপায় হয়তো ভুল হতে পারে।

ভার্চুয়াল বিজনেস সেবার ওপর ৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আরোপের কথা বলা হয়েছিল অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায়।

সফটওয়্যারের শুল্ক কমল : দেশে তৈরি হয় না, এমন সব সফটওয়্যার যেমন ডেটাবেস, প্রডাক্টিভিটি সফটওয়্যার আমদানিতে শুল্ক সর্বক্ষেত্রে ৫ শতাংশে হ্রাস কমানো হয়েছে। তুলে নেওয়া হয়েছে ভ্যাট। ডেটাবেস, অপারেটিং সিস্টেম, ডেভেলমেন্টস টুল, প্রডাক্টিভিটি, অটোমেটিক ডেটা প্রসেসিং মেশিনের জন্য কমিউনিকেশন বা কোলাবরেশন সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন সফটওয়্যারে এই ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আগে এসব সফটওয়্যারে কাস্টমস ডিউটি ছিল ২৫ শতাংশ। এটি এখন হবে ২০ শতাংশ। ভ্যাট ছিল ১৫ শতাংশ। এখন এই খাতে কোনো ভ্যাট দিতে হবে না। ফলে এসব সফটওয়্যার আমদানির খরচ কমবে। এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বেসিস। তারা বলেছে, এর ফলে দেশে এসব সফটওয়্যার তৈরির চেষ্টা ব্যাহত হবে। কেননা দেশেই এখন অনেক সফটওয়্যার তৈরি হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ : বাজেট বক্তৃতায় এই প্রথমবারের মতো যুক্ত হলো স্যাটেলাইট প্রসঙ্গ। গত মাসে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট দুনিয়ায় প্রবেশ করেছে।

ফেসবুক গুগল ইউটিউবে কর : দেশে ফেসবুক গুগল ইউটিউবের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের আয়ের ওপর ৩.৫ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হবে। অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এবং ভার্চুয়াল ও ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশের কারণে আন্তঃসীমান্ত লেনদেনের ধরন ও আকারে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ভার্চুয়াল ও ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে প্রচুর আয় করছে। ভার্চুয়াল ও ডিজিটাল লেনদেনের বিষয়টি তুলনামূলক নতুন বিধায় এসব লেনদেনকে করের আওতায় আনার মতো পর্যাপ্ত বিধান এতদিন কর আইনে ছিল না। ভার্চুয়াল ও ডিজিটাল খাত যেমনÑ ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশে অর্জিত আয়ের ওপর করারোপের জন্য আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে প্রয়োজনীয় আইনি বিধান সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

করদাতাকে ই-মেইলে নোটিশ : কর ব্যবস্থাকে আধুনিক ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে করদাতাকে ই-মেইলে নোটিশ প্রেরণের বিধান কর আইনে সংযোজন করার প্রস্তাব করা হয়।

অনলাইনে বেতন বিল : সরকারি চাকরিজীবীদের সব আর্থিক সুবিধা তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য কর্মচারী ডাটাবেস তৈরি করা হয়েছে। এগুলো ব্যবহার করে অনলাইনে তাদের বেতন বিল জমা দেওয়ার কার্যক্রম ইতোমধ্যে পাইলট ভিত্তিতে চালু হয়েছে। বেতন বিল দাখিল ছাড়াও কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ তহবিল ও ঋণ অগ্রিমের হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে সব সরকারি কর্মচারীকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে