sara

বিশ্বকাপ ফুটবল

রাশিয়ার অর্থনীতিতে জোয়ার

জনজীবনে সীমিত প্রভাব

  হাসান শিপলু

০৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাশিয়ায় মাসব্যাপী বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর এখন দারুণ জমজমাট। খেলা দেখা ও পরিচালনা করতে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা এখন রাশিয়ায়। এখনো রাশিয়ামুখী ফুটবলপ্রেমীদের স্রোত কমেনি। বিশ্বকাপের এ আসর উপলক্ষে রাশিয়া ফুটবলপ্রেমীদের আগমন সহজ করতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের কাছে আধুনিক রাশিয়াকে তুলেও ধরা হচ্ছে। সব মিলে ফুটবলপ্রেমীরা এ আসর বেশ উপভোগ করছেন। এসব মিলে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে রাশিয়ার অর্থনীতি। রাশিয়া থেকে ঘুরে এসে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন হাসান শিপলু

সুপ্ত অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে এবারের বিশ্বকাপ রাশিয়ার জন্য টনিক হিসেবে কাজ করছে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীদের ‘ব্যয়ে’ দেশটির অর্থনীতিতে জোয়ার এসেছে। তবে কয়েকটি গবেষণা সংস্থার মতে, বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে এক ধাপ এগিয়ে যাবে ঠিকই, তবে এত বড় অর্থনীতির দেশের জাতীয় পর্যায়ে এ আয়ের প্রভাব খুবই সীমিত থাকবে। জনজীবনেও এর তেমন প্রভাব পড়বে না।

রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে বিশেষ করে যেসব শহরে ফুটবল আসরের ভেন্যু আছে, সেখানে ফুটবলপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর। হোটেল-রেস্তোরাঁ, বিপণিবিতান, রেলস্টেশন কিংবা বাস স্টপেজÑ সব স্থানে পর্যটকদের ভিড় সামলানো দায়। তারা নিজেদের চাহিদা মেটাতে অর্থ ব্যয় করছেন। তাদের ব্যয়ে রাশিয়ার অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে। সার্বিকভাবে এর প্রভাবও পড়েছে। কিন্তু আসরটি এক মাসের। এরপরেই এ প্রভাব আর থাকবে না। তবে যেসব অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে সেগুলোর প্রভাব থাকবে দীর্ঘ সময়।

মার্কিন গবেষণা সংস্থা মুডিজও মনে করে, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে হোটেল, খাবার, টেলিকম ও পরিবহন খাতে বাড়তি আয় হবে, যাতে রাশিয়ার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কিন্তু সার্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব সীমিত বলে মনে করে সংস্থাটি। কারণ রাশিয়া পৃথিবীর অন্যতম বড় অর্থনীতির দেশ। সেখানে ফুটবল আয়োজনের আয় খুব বেশি নয়। সংস্থাটি আরও মনে করে, বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার জেরে ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এক দশকে রাশিয়ার জিডিপি থাকবে ২ হাজার ৬০০ কোটি থেকে ৩ হাজার ৮০ কোটি ডলারের মধ্যে। অর্থাৎ রুশ অর্থনীতিতে টানা ১০ বছর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এ বিশ্বকাপ। এটিকে কেন্দ্র করে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে রাশিয়ার বর্ণিল আয়োজন সবাইকে সন্তুষ্ট করেছে। খুব চোখ ধাঁধানো কিছু না থাকলেও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গেলেই বোঝা যায়, আয়োজনে আন্তরিকতার অভাব নেই বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি এই রাষ্ট্রের। সেন্ট পিটার্সবার্গের বাসিন্দা ডিম্রিটি মনে করেন, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে অনেক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে, যা পর্যটকদের আকর্ষণে ভ‚মিকা রাখবে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।

রাশিয়ান চেম্বার অব অ্যাকাউন্টের তথ্যমতে, বিশ্বকাপ আয়োজনে দেশটির ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা। নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং সংস্কারসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নও করা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের কারো তথ্যমতে, বিদেশ থেকে প্রায় ১৫ লাখ ফুটবলপ্রেমী আসছেন এ আসরে। কেউ বলছেন, এ সংখ্যা ২৫ লাখে ঠেকবে।

দেশটির ১১টি শহরে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব শহরে সারা বছর পর্যটক দিয়ে যা আয় আসে, এবার এক মাসেই সেই আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাশিয়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটক শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। যারা একটি ম্যাচও দেখতে এসেছেন রাশিয়ায়, তারাও বাল্টিক সাগরের তীরে সেন্ট পিটার্সবার্গে গিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বিশ্বকাপ শুরুর আগে রুশ সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী আর্কদি দেভোরকোভিচ জানিয়েছেন, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

মার্কিন রেটিং সংস্থা মুডিজের গবেষণায় ওঠে এসেছে, বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে অর্থনৈতিকভাবে এক ধাপ এগিয়ে যাবে রাশিয়া। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিনিয়োগ করা সব খাতে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে। হোটেল, খাদ্য, পরিবহন ও পর্যটন ব্যবসায় জোয়ার আসবে।

বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে মস্কো, সারানস্ক, নিজনি নভগোগ্রাদ ও সেন্ট পিটার্সবার্গে গিয়ে এসব তথ্য ও বক্তব্যের সত্যতাও পাওয়া গেছে। মস্কোয় হোটেল এবং অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া বেড়েছে দুই থেকে তিন গুণ। তারপরও থাকার জায়গার অভাব। শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টার ও রেড স্কয়ার থেকে ২০-৩০ কিলোমিটার দূরে গিয়েও হোটেল পেতে বেগ পেতে হয়েছে অনেক ফুটবলপ্রেমীর। শুধু এ দিয়েই অনুমান করা যায় হোটেল ভাড়া থেকে কী পরিমাণ আয় হয়েছে। এর পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, নাইট কাবগুলোয় উপচেপড়া ভিড়ও বলে দেয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কেমন হবে।

২০১০ সালেই বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হওয়ার টিকিট পেয়েছিল রাশিয়া। ওই সময় দেশটির জিডিপির প্রবৃদ্ধি অনেক শক্তিশালী ছিল। তখন দেশটির টেকসই উন্নয়নের হার ছিল বছরে ৪ শতাংশ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার তোড়ে এখন সেই দেশ পড়েছে মন্দার কবলে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দেশটির প্রবৃদ্ধির হার চলতি বছরে হবে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির হার ২ দশমিক ৮ শতাংশ।

এর আগে ২০০০ সালে তাদের মূল্যস্ফীতির হার ২০ শতাংশে ওঠে গিয়েছিল। ডিজিপির প্রবৃদ্ধির হার ছিল নেতিবাচক। ২০১০ সালে সব কিছু ইতিবাচক ধারায় ফিরলেও আবার নেতিবাচক হয়ে যায়। গত বছর তাদের মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে