sara

বহুমুখী বাণিজ্য বিশ্বকাপ ফুটবল

  নাজমুল হুসাইন

০৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৮, ০১:৪৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

খেলার জগতে বিশে^র সবচেয়ে বড় আসর হলো ফুটবল বিশ^কাপ। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততাও বেশ নিবিড়। খেলা হচ্ছে রাশিয়ায়, জার্সি, পতাকা, খাবার-দাবার, বাজি, পার্টির আয়োজন হচ্ছে বাংলাদেশজুড়ে। এসব মিলে বাংলাদেশেও জমে উঠেছে বহুমুখী ব্যবসা।

বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে বাণিজ্য শুরু হয় আরও বছরখানেক আগে থেকে। ফিফার চাহিদা অনুযায়ী খ্যাতিমান ব্র্যান্ডগুলো জার্সি, গেঞ্জিসহ নানা সামগ্রী রপ্তানির আদেশ দিতে থাকে। ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের ফুটবল সামগ্রী রপ্তানি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়-স্টাফদের কোচিং জ্যাকেট গেছে দেশের বিভিন্ন কারখানা থেকে। দর্শক ও সাধারণ ভক্তদের পলো শার্ট, টিশার্ট, জার্সিসহ অন্যান্য পোশাকও রপ্তানি হয়েছে বিভিন্ন দেশে।

শুধু রপ্তানিই নয়, দেশের বাজারেও এর চাহিদা কম নয়। দেশে তৈরি জার্সিগুলোও বেশ বিক্রি হয়েছে। পতাকার ব্যাপক ব্যবসা চলেছে। বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু সাপোর্টারদের কেন্দ্র করে জার্সি ও পতাকা দেশের বড় মার্কেটগুলোতে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করছে। পতাকার দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত।

তবে বর্তমানে জার্সি ও পতাকার ব্যবসা অনেকখানি কমে আসছে। সাপোর্টারদের কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা দোকানে মাল তোলেন। দেশের অধিকাংশ সমর্থক আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল ফুটবল দলের। এ ছাড়া আরও কিছু ফুটবল দলের সাপোর্টার রয়েছেন দেশে। সেই ফুটবল দলগুলো হচ্ছেÑ জার্মানি, স্পেন ও পর্তুগাল। কিন্তু শুধু ব্রাজিল ছাড়া বাকি দলগুলো দ্বিতীয় রাউন্ডে হেরে বিদায় নেওয়ায় সেসব দলের জার্সি, পতাকার বিক্রি কমে গেছে। বিভিন্ন পোশাকের শোরুমে ছাড়েও জার্সি বিক্রি হচ্ছে।

পণ্য বিক্রিতে বিশ^কাপ। বিশ^কাপকে ঘিরে ‘প্রাণ আপ ফুটবল ম্যানিয়া’ ক্যাম্পেইন করেছে প্রাণ বেভারেজ লিমিটেড। এই ক্যাম্পেইনে বলা হচ্ছে, প্রাণ আপ কিনে রাশিয়ার টিকিট জিতুন। একইভাবে বিশ^কাপকে কেন্দ্র করে অন্যান্য কোম্পানিও তাদের পণ্য বিক্রি করতে ক্যাম্পেইন করছে।

জরিপে জনপ্রিয়তা বেড়েছে বিটিভি, মাছরাঙা ও নাগরিক টিভি চ্যানেলের। রাশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ^কাপ দেখানোর জন্য বাংলাদেশের এই তিনটি টেলিভিশন চ্যানেল স্বত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া ভারতের সনি পিকচার নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে বিশ^কাপ দেখানোর স্বত্ব পেয়েছে। খেলা চলাকালীন দেখানো বিজ্ঞাপন থেকে প্রচুর টাকা আয় করছে এসব টেলিভিশন চ্যানেল।

বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে দেশে চলছে খাবার-দাবারের ব্যাপক আয়োজন। বিশেষ করে কোকাকোলা এবারের বিশ্বকাপে অফিসিয়াল কোল্ড ড্রিংকস নির্বাচিত হয়েছে। এ কারণে তারা বিশ্বকাপের লোগোসহ পণ্যের উৎপাদন করে বাজারে ছাড়ছে। এ ছাড়া অন্যান্য পানীয়ের ব্যবসাও বেশ ভালো চলছে।

দলবদ্ধভাবে খেলা দেখা আরেকটি উপলক্ষ। এ সময় আয়োজন করা হয় নানা খাবার-দাবারের। ঢাকা, চট্টগ্রামের বড় ও মাঝারি মানের রেস্টুরেন্টগুলোতে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার আয়োজন হচ্ছে। এ উপলক্ষে পছন্দের দল জিতলে হচ্ছে বিশেষ পার্টি। এসব কারণে রেস্টুরেন্ট ব্যবসাগুলোও জমজমাট। দেশের বিভিন্ন সিনেমা হলে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখানোর আয়োজন করা হয়েছে। টিকিটের বিনিময়ে এসব খেলা দেখছে মানুষ। পছন্দের পার্টি জিতবে কিনা, এ নিয়ে হচ্ছে বাজি। বাজিতেও বাণিজ্য হচ্ছে হাজার হাজার টাকার।

এ ছাড়া বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে নানা ধরনের ছোটখাটো ব্যবসা তো আছেই। তবে আর্জেন্টিনা ও জার্মানির পরাজয়ের কারণে বহুমুখী বাণিজ্যে কিছুটা ভাটা পড়েছে। কেননা বাংলাদেশের অনেক দর্শক এ দুটি দলের সমর্থক।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে