sara

বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে

  গোলাম রাব্বানী

০৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপ ফুটবল জ্বরে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। বিশ্বকাপের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। রপ্তানি বাজার থেকে শুরু করে ঈদ মার্কেট ছাড়াও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়জুড়ে ছিল বিশ্বকাপের প্রভাব। পছন্দের দল বা খেলোয়াড়দের জার্সি, গেঞ্জি, পতাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফুটবল খেলার সামগ্রী, খেলা দেখার সামগ্রীতে সরগম হয়ে উঠেছে বাজার। কোম্পানিগুলোও ক্রেতাদের ধরতে দিয়েছে বিশেষ ছাড়। সব কিছু মিলিয়ে বিশ্বকাপের বদৌলতে ৯ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাÐ হতে পারে বল ধারণা করা হচ্ছে।

বড় টেলিভিশনে বিশ্বকাপ দেখার জন্য হলেও ঘটা করে টেলিভিশন কিনেছেন ক্রেতারা। চলতি বছরে ৩০ শতাংশ বেশি টেলিভিশন বিক্রি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় চলতি বছরে প্রায় ৫ লাখ অতিরিক্ত টেলিভিশন বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া প্রজেক্টর বিক্রির পরিমাণও বেড়েছে। খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে হচ্ছে নানা ধরনের আয়োজন। খাবার-দাবারসহ অন্যান্য সামগ্রী তো আছেই।

ওয়ালটনের ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম বলেন, বিশ্বকাপে টেলিভিশনের বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেতাদের সুবিধার্থে বিভিন্ন ছাড় ও ডিসকাউন্টের মাধ্যমে টেলিভিশন বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরে নতুন মডেলের অনেক টেলিভিশন আসায় ক্রেতারা নিত্য মডেলের টেলিভিশন কিনেছেন।

বিভিন্ন আকার ও প্রযুক্তিগত মানভেদে ১৩ হাজার থেকে শুরু করে ২ লাখ টাকা দামের টেলিভিশন বিক্রি হচ্ছে। গড়ে ২০ হাজার টাকা ধরলেও ৫ লাখ টেলিভিশনের দাম ১০০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া বিশ্বকাপের মাতমে সমর্থনদানকারী দেশের জার্সি পরছেন সবাই। সব বয়সের সমর্থকই জার্সি ও গেঞ্জি পরে দলকে সমর্থন জোগাচ্ছেন। এমনকি শিশুরাও বাদ যাচ্ছে না।

চলতি বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রায় ১০ কোটি গেঞ্জি ও জার্সি বিক্রি হয়েছে বলে জানায় অভ্যন্তরীণ পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার ৪০০ টাকা দামের গেঞ্জি বা জার্সি পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। বিদেশ থেকে খ্যাতিমান ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানি গেঞ্জি বা জার্সির দাম আরও বেশি। গড়ে ৩০০ টাকা দরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার জার্সি ও গেঞ্জি বিক্রি হয়েছে চলতি বিশ্বকাপ উপলক্ষে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে দেশের পোশাক খাতের রপ্তানি আয়ে। বিশ্বকাপের আসরে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বেশি বা ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই হচ্ছে জার্সি, গেঞ্জি বা অন্যান্য পোশাক। এর আগে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে রপ্তানি করেছিল প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পণ্য। সে তুলনায় এবার ৩০ কোটি ডলারের পণ্য বেশি পাঠাতে পেরেছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে এ বছর বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি আয় আগের বারের তুলনায় ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরেই নয়, অন্য সময়ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে। কেননা ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে বছরজুড়েই ফুটবলের নানা আসরের আয়োজন হয়।

তবে ফুটবলের বিশ্বকাপ হলেও তেমন বেচাকেনা নেই অন্য ক্রীড়াসামগ্রীর পণ্যগুলোর। গুলিস্তানের জনতা স্পোর্টসের কর্ণধার জহিরুল ইসলাম বলেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে আগের মতোই স্বল্প পরিসরে বিক্রি হচ্ছে ক্রীড়াসামগ্রী। গুটিকয়েক ফুটবল বিক্রি ছাড়া বিশ্বকাপসংশ্লিষ্ট আর কোনো পণ্যই বিক্রি হচ্ছে না। ক্রীড়াসামগ্রীর বদলে জার্সি বিক্রি করছে বলেও জানান তিনি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে