প্রাণে চঞ্চল অর্থনীতির প্রাণ

  আব্দুল্লাহ কাফি

১৪ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। দেশীয় পণ্য স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করে দেশে আনছে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। ভালো মানের পণ্য উৎপাদন করে বাংলাদেশের সুনাম অর্জন করছে বিশ্বের বাজারে। পণ্যের গুণগত মান ভালো হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দিন দিন চাহিদা বাড়ছে প্রাণ-আরএফএল পণ্যের। সুনাম রয়েছে দেশের বাজারেও। এ কোম্পানির ওপর ভর করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় পনেরো লাখ মানুষ। দেশের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবন পাল্টে দিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। উন্নত জীবনযাপন করছেন শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও অশিক্ষিত নারী-পুরুষরা। নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন সমাজের ঝরে পড়া অশিক্ষিত নারীরাও। এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ রয়েছে সব ধরনের মানুষের। প্রশিক্ষিত করে যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষ করে যে অঞ্চলে কারখানা তৈরি করা হয়, ওই অঞ্চলের মানুষের চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এর ফলে ওই অঞ্চলের বেকার মানুষরা সহজেই বাড়ি থেকে বাড়ি খেয়ে চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ছোট একটি টিউবওয়েলের কারখানা থেকে বর্তমানে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপে যুক্ত হয়েছে ১৩টি শিল্পপার্ক। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ গ্রুপের সঙ্গে জড়িত প্রায় পনেরো লাখ মানুষ। সরাসরি এ গ্রুপে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন প্রায় এক লাখেরও বেশি। সেই ছোট্ট আরএফএল কারখানা বড় হয়ে বর্তমানে ১ হাজার ৮০০ ধরনের পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। আর প্রাণের উৎপাদন হচ্ছে ৮০০ ধরনের খাদ্যপণ্য। এ গ্রুপের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক চাষি রয়েছেন প্রায় ১ লাখ। রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের প্রায় ১৪১টি দেশে। গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফল প্রক্রিয়াজাত করা ও সংরক্ষণের বাস্তব অভিজ্ঞতা গ্রহণ করে ১৯৯২ সালে পাইনঅ্যাপল ক্যানিং বাজারজাত করেন। পরে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্লাস্টিক ও পিভিসি, ইলেকট্রনিকস এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের দিকে মানোনিবেশ করে। এর পর ১৯৯৬ সালে এক কনটেইনার পাইনঅ্যাপল ক্যানিং ফ্রান্সে রপ্তানি শুরু করে। দেশের ১৩টি স্থানে প্রতিষ্ঠিত কারখানাগুলো গড়ে উঠেছে একেবারেই অজপাড়াগাঁয়। যেখানে ছিল না রাস্তাঘাট, ছিল না শিক্ষিত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোনো মানুষ। এসব এলাকার মানুষদের আয়ের তেমন পথ ছিল না। বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরে বেড়াত যুবকরা। আর নারীদের অনেকেই অন্য মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসারের খরচ মেটাতে হতো। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মার্কেটিং ডাইরেক্টর চৌধুরী কামরুজ্জামান বলেন, গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খান চৌধুরী ব্যবসার শুরুতে নানা ধরনের বাধা এলেও ধৈর্য, সাহস আর সততার সঙ্গে সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই সফল উদ্যোক্তাকে। এক এক করে প্রতিষ্ঠা করেছেন ১৩টি প্রতিষ্ঠান।

উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে রয়েছেÑ খাদ্যপণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস হোম অ্যাপ্লায়েন্স, ফার্নিচার, বাইসাইকেল, লিফট, টেক্সটাইল, ট্রয়লেট্রিজ ও ফেক্সিবল প্যাকেজিং। ডি-মার্ট (ভারত), উইলকিনসন (যুক্তরাজ্য), ডেল্লারামা (কানাডা), ক্যারিফোর (ফ্রান্স), ইসিআই (স্পেন) বিশ্বের এসব বিখ্যাত সুপারশপে এসব পণ্য পাওয়া যায়। পরপর ১৪ বার পেয়েছে রপ্তানি পদক।

একদিকে প্রাণ-নাশতার টেবিলে ব্রেড-দুধ থেকে শুরু করে পানি, চাল, চিনি, বাদাম, চানাচুর, ফ্রুট ড্রিংকস, বিস্কুট, কেচ-আপ, নুডলস, জেলি, পরোটা, শিঙ্গাড়া, সমুচা, রুটি, চিকেন স্প্রিং রোল, চিকেন নাগেট, চিকেন পেটি, চিকেন সসেজ, পুরি, পপকর্ন, স্ট্রিপস, ফ্রেঞ্চফ্রাই, কেক, মিষ্টি, দইসহ আরও অনেক ধরনের খাদ্যপণ্য। এ ছাড়া রান্নাসামগ্রীর মধ্যে রয়েছেÑ হলুদ, মরিচ, ধনে, জিরার গুঁড়াসহ সব ধরনের মসলা গুঁড়া। অন্যদিকে জগ, মগ, বালতি, চেয়ার, টেবিল ও আলমিরাসহ গৃহস্থালির অসংখ্য পণ্য তৈরি করছে আরএফএল। এ ছাড়া রয়েছে টেক্সটাইল। যেখানে উৎপাদিত পণ্যের পুরোটাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে