শিঙাড়া-সমুচা যাচ্ছে কানাডা-আমেরিকা

  আব্দুল্লাহ কাফি, ঘোড়াশাল (নরসিংদী) থেকে ফিরে

১৪ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের গ-ি পেরিয়ে শিঙাড়া, সমুচা, পরোটা যাচ্ছে সুদূর কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে দিন দিন চাহিদা বাড়ছে এসব হিমায়িত খাবারের। তেলে ভেজে নিলেই খুব সহজে পরিবেশন করা যায় এসব খাদ্যপণ্য। এ ছাড়া মসলা ও নানা রকম উপকরণ দিয়ে হিমায়িত খাবার মজাদার স্বাদে তৈরি করা হয় বলে শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং তরুণ-তরুণীদের কাছে এর কদরই আলাদা।

নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে প্রাণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে রয়েছে তাদের হিমায়িত খাদ্যের কারখানা ‘প্রাণ ফ্রোজেন ফুডস লিমিটেড’। শীতলক্ষ্যার গা-ঘেঁষে গড়ে ওঠা শিল্পপার্কে সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকে পণ্য বোঝাই করছেন শ্রমিকরা। দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব পণ্য যাবে। এ ছাড়া রপ্তানি করার জন্য পণ্য প্রস্তুত করছেন শ্রমিকরা।

শিল্পপার্কের ৭ নম্বর গেট থেকে ভেতরে গেলেই চোখে পড়ে প্রক্রিয়াজাত হিমায়িত খাদ্যের কারখানা। এখানে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চলছে ৪০ ধরনের হিমায়িত খাদ্যপণ্য উৎপাদন। এসবের মধ্যে রয়েছে পরোটা, শিঙাড়া, সমুচা, রুটি, চিকেন স্প্রিং রোল, চিকেন নাগেট, চিকেন পেটি, চিকেন সসেজ, পুরি, পপকর্ন, স্ট্রিপস, ফ্রেঞ্চফ্রাইসহ বিভিন্ন ধরনের হিমায়িত খাদ্যপণ্য। এসব খাদ্যপণ্য উৎপাদনের জন্য প্রাণের সাতটি উৎপাদন লাইন আছে। উন্নত প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় মেশিনে তৈরি হচ্ছে এসব খাদ্যপণ্য।

কর্মরত শ্রমিকরা জানান, এ কারখানায় দিন-রাত কাজ করছেন তারা। মাসিক বেতনের পাশাপাশি আছে ওভারটাইম করার সুযোগ। ওভারটাইম করেও শ্রমিকরা পাচ্ছেন বাড়তি পারিশ্রমিক। সব মিলিয়ে ভালোভাবেই সংসারের খরচ মেটাতে পারেন তারা।

কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমিকদের একটি অংশ লাইন ধরে যন্ত্রের মধ্যে কাঁচামাল দিচ্ছে, কেউ কেউ আবার যন্ত্র চালাচ্ছেন। কেউ থরে থরে পণ্য সাজিয়ে রাখছেন হিমাগারে। শ্রমিকরা জানান, এসব পণ্য কারখানায় সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে বাজারে ছাড়া হয়।

কারখানাসংশ্লিষ্টরা জানান, রপ্তানির বাজার প্রশস্ত হচ্ছে দিন দিন। গত চার বছরে রপ্তানি বেড়েছে কয়েক গুণ। গত বছরই রপ্তানি বেড়েছে দ্বিগুণ। দেশে বছরে হিমায়িত প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ৪০০ কোটি টাকার বাজারের ১০ শতাংশের জোগান দিচ্ছে প্রাণ। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লাসহ দেশের তিন হাজার রিটেইল ও সুপার স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে প্রাণের হিমায়িত পণ্য। বড় শহরে প্রাণের নিজস্ব আউটলেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে প্রাণের। দেখা গেছে, ‘ঝটপট ব্র্যান্ডের’ হিমায়িত খাদ্যপণ্য তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। পরিবেশবান্ধব এ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে শ্রমিকরাও কাজ করছেন স্বাচ্ছন্দ্যে। জীবন পাল্টে যাচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষদের। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৩ সালে মাত্র ১২০ জন জনবল নিয়ে হিমায়িত খাদ্য উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে কর্মসংস্থান হয়েছে পাঁচ শতাধিক লোকের। প্রতিদিন ৮০ হাজার পিস এসব হিমায়িত পণ্য উপাদন হচ্ছে। সক্ষমতা রয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার পিসের। প্রতি মাসে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৫০০ টন। সক্ষমতা রয়েছে ৭০০ টনের।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সব মিলিয়ে দেশে হিমায়িত খাদ্যের বাজার বছরে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা। বছরে গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩০ শতাংশ। পণ্যভেদে সর্বনি¤œ ৭০ থেকে ২৭০ টাকার মধ্যে ঝটপট ব্র্যান্ডের প্রাণ ফ্রোজেন ফুডস পাওয়া যাচ্ছে স্থানীয় বাজারে।

প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন ম্যানেজার রাসেল রেজা জানান, স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বর্তমানে সাতটি দেশে প্রাণের হিমায়িত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ইতালি, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও সাইপ্রাসের বাজারে রপ্তানি হচ্ছে ‘প্রাণ’ ও ‘ডাব্বো’ ব্র্যান্ড নামে। পরিকল্পনা রয়েছে আরও বেশ কিছু দেশে রপ্তানি করার। তিনি জানান, ২০১৫ সালে প্রাণের হিমায়িত পণ্য বিআরসি সনদ অর্জন করেছে। এ ছাড়া আইএসও সনদ পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বেড়েছে। এ সনদ অর্জনে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে