প্রাণ ডেইরির কার্যক্রম

চাহিদা-১ কোটি ৫০ লাখ টন, দেশে উৎপাদন ৭৫ লাখ টন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের দুগ্ধশিল্প বিকাশ, বেকার সমস্যা দূরীকরণ, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে প্রাণ ডেইরি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। দেশের দুগ্ধশিল্পে ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ থাকলেও হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ খাতে বিনিয়োগ করেছে। দেশে এখনো গবাদিপশু পালনকে তেমন একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। পরিবারের দুধের চাহিদা মেটাতে কেউ কেউ কেবল গাভী পালন করে থাকে। গবাদিপশু পালনকে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকের মূল আয়ের উৎস হিসেবে ভাবা হয় না। ফলে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত গুঁড়োদুধ দিয়ে দেশে দুধের চাহিদা মেটাতে হয়। দুধ আমদানিতে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ দেশের টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে তরল দুধের চাহিদা রয়েছে প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন। দেশীয়ভাবে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৭৫ লাখ মেট্রিক টন।

ডেইরি হাব : ২০০১ সালে দেশে দুগ্ধ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে প্রাণ ডেইরি লিমিটেড। ডেইরি হাবের ধারণাটি প্রাণই দেশে প্রথম প্রতিষ্ঠা করেছে। পাবনার চাটমোহর, নাটোরের গুরুদাসপুর, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও বাঘাবাড়ী এবং রংপুরে প্রাণের ডেইরি হাব রয়েছে। ডেইরি হাবে খামারিরা সরাসরি দুধ সরবরাহ করে। প্রত্যেক হাবের আওতায় ২০টি দুগ্ধ সংগ্রহ ও শীতলীকরণ কেন্দ্র রয়েছে।

চুক্তিভিত্তিক চাষি : প্রাণ ডেইরির বর্তমানে ১২ হাজার চুক্তিভিত্তিক চাষি রয়েছেন যারা গরু পালন করেন। এসব চাষির অধীনে ৫০ হাজার গরু রয়েছে। দুগ্ধখামার করে এসব খামারিরা নিজেদের ভাগ্য ফিরিয়ে এনেছেন।

দুধ সংগ্রহ প্রক্রিয়া : দেশে প্রাণের ১০১টি দুগ্ধ সংগ্রহ কেন্দ্র রয়েছে। খামারিরা যাতে উৎপাদিত দুধ সহজে বাজারজাত করতে পারে সে জন্য তাদের বাড়ির কাছে দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। নিজস্ব যানবাহনের মাধ্যমে সংগ্রহ কেন্দ্র থেকে নরসিংদী কারখানায় এসব দুধ নিয়ে আসা হয়।

দুধের গুণ বজায় রাখা হয় যেভাবে : সংগ্রহ কেন্দ্র থেকে দুধ নরসিংদী কারখানার মাদার সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। এখানে পুনরায় কেমিক্যাল টেস্ট করা হয়। অত্যাধুনিক কিউসি ল্যাবে মাইক্রোবায়োলজিক্যাল টেস্ট করা হয়। সংগ্রহকৃত দুধ অসুস্থ গরুর কিনা তার জন্য টোটাল সোমাটিক সেল কাউন্ট টেস্ট করা হয়। অপরদিকে দুধে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি জানতে টোটাল প্লেট কাউন্ট টেস্ট করা হয়। পাশাপাশি দুধে ভেজাল বা তেলের মিশ্রণ রয়েছে কিনা তার জন্য রিফ্যাক্টোমিটার টেস্ট করা হয়।

মূল্য পরিশোধ প্রক্রিয়া : প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করে প্রাণ। লিটারপ্রতি ৩৮ টাকা গড় দামে এই দুধ ক্রয় করা হয়। খামারিরা সরাসরি এর সুফল ভোগ করছেন।

দুগ্ধজাত পণ্য : প্রাণ ডেইরি ইউএইচটি ও পাস্তুরিত তরল দুধ, গুঁড়োদুধ, ঘি, মাখন, পনির, লাচ্ছি, দই, ফেভার্ড মিল্ক উৎপাদন করছে। টেট্রাপ্যাক এবং উন্নত মানের ফুড গ্রেডেড ফয়েল প্যাকে এগুলো বাজারজাত করা হচ্ছে।

বায়োগ্যাস প্রজেক্ট : প্রাণ ডেইরির তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩০০ খামারির বাসায় গবাদিপশুর বর্জ্য দিয়ে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খামারির বাড়িতেও এ বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। এটি বায়ুম-লে মিথেন গ্যাসের পরিমাণ কমাতে সহায়তা করে। রান্নার কাজে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি এর উপজাত দিয়ে জৈব সার তৈরি হচ্ছে যা খামারিরা জমিতে ব্যবহার করছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে