ই-টিআইএন খোলায় আগ্রহ বেশি

  ইশরাতুল জাহান শোভা

১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ই-টিআইএন হলো অনলাইনে আয়কর জমা দেওয়া। এটি আয়কর রিটার্ন দাখিলের একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা।

আয়কর মেলায় মানুষের বেশি আগ্রহ দেখা গেছে ইলেকট্রনিক টেক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ই-টিআইএন) খোলার। আয়কর পরিশোধ না করলেও বা আয়কর রিটার্ন জমা না দিলেও অনেকে ই-টিআইএন সনদ নিচ্ছেন। কেননা ই-টিআইএন ২০ ধরনের কাজে ব্যবহৃত হয়। মেলা থেকে খুব সহজে ই-টিআইএন পাওয়া যাচ্ছে বলে এটি করিয়ে নিচ্ছেন। এ ছাড়া আয় অফিসে গিয়ে এটি করতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। মেলায় কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই ই-টিআইএন করা যাচ্ছে।

মেলায় আয়কর রিটার্নের মতো ই-টিআইএন ফরমও ফ্রি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এটি খুলতে কর কর্মকর্তারাও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছেন। মেলায় শুধু ই-টিআইএন খোলার জন্য আটটি বুথ খোলা হয়েছে। এসব বুথের সামনে করদাতারা লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় সেবাটি নিচ্ছেন।

অনেকের আগের টিআইএন আছে। সেগুলোকে মেলা থেকে ই-টিআইএনে রূপান্তর করে নিচ্ছেন। কেননা রাজস্ব বোর্ড এখন আর সাধারণ টিআইএন নম্বর দিচ্ছে না। করদাতাদের হিসাব ডিজিটাল করতে ই-টিআইএন চালু করা হয়েছে।

রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স কাবে অনুষ্ঠিত মেলার ইনফরমেশন ডেস্ক থেকে জানা গেছে, সারাদেশে ৭৭টি স্থানে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলার তৃতীয় দিন গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৬ লাখ ১১ হাজার ৬০৯ জন বিভিন্ন ধরনের সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪৯৮ জন করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ১৪ কোটি টাকার কর আদায় হয়েছে। এর মধ্যে ই-টিআইএন খুলেছেন প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার। বাকিরা অন্যান্য সেবা নিয়েছেন।

এদিকে মেলায় দেখা গেছে, ই-টিআইএন বাড়াতে বেশ প্রচার চালানো হচ্ছে। আয়কর কর্মকর্তারা মনে করেন, ই-টিআইএন খুললেই তিনি তাদের আওতায় চলে এলেন। পরে তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে এবং তদারকি জোরদার করে কর আদায় করা সম্ভব হবে।

মেলার ইনফরমেশন ডেস্ক থেকে জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে এর কলেবর বাড়ছে। এবার নবমবারের মতো মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১০ সালে মেলায় সেবা নিয়েছিলেন ৬০ হাজার ৫১২ জন। এর মধ্যে নতুন টিআইএন খুলেছিলেন ৫ হাজার ৬৩৮ জন। ২০১১ সালে এটি দ্বিগুণ বেড়ে টিআইএন খোলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ হাজার ৪১ জনে। ২০১২ সালে এটি আরও প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ১৬ হাজার ২৮৭ জন টিআইএন খুলেন। ২০১৩ সালে এটি প্রায় সাড়ে ৫ গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬ হাজার ৬৯৩ জনে। ওই বছর থেকে বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক করা হয়। যে কারণে ওই বছর টিআইএন খোলার মাত্রা বহুগুণে বেড়ে যায়।

২০১৪ সালে টিআইএন খোলার মাত্রা আবার কমে যায়। ওই বছর মেলা থেকে ২৬ হাজার ৭৪৫ জন নতুন টিআইএন খুলেন। ২০১৫ সালে এটি আরও কমে ১৫ হাজার ২০০ জনে দাঁড়ায়। ২০১৬ সালে আবার বেড়ে যায়। ওই বছর নতুন টিআইএন খোলা হয় ৩৬ হাজার ৮৫৩ জনের। ২০১৭ সালে এটি আবার কমে ২৯ হাজার ২৫৪ জনে দাঁড়ায়।

টেকনিক্যাল সাপোর্টিং এক্সিকিউটিভ মাজহারুল ইসলাম বলেন, কিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে এক্ষেত্রে রিটার্ন জমা নেওয়া হয়। সম্পূর্ণ টোকেনভিত্তিক হওয়ায় এক্ষেত্রে গ্রাহকদের কোনো প্রকার ঝামেলা পোহাতে হয় না।

ইমপিমেন্টেশন ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রহমান মিলন জানান, এ পদ্ধতিতে সব কাজ অনলাইনে হওয়ায় কোনো ভুল হলে তা খুব সহজেই সংশোধন করা যায়। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের নিজস্ব ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়। ফলে ঘরে বসেই রিটার্ন জমা দেওয়া যায়।

এসব কারণে ই-টিআইএন পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে