মুনাফাও নিতে হবে সময়মতো

  আবু আলী

০৮ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুঁজিবাজার একটি স্পর্শকাতর জায়গা। পুঁজিবাজারে মুনাফার সম্ভাবনা যেমন বেশি; তেমনই লোকসানের আশঙ্কাও রয়েছে। এখানে সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা পদ্ধতি মুনাফার নিশ্চয়তা দেয় না। কারণ অনেক ধরনের ফ্যাক্টর কাজ করে পুঁজিবাজারে। আর এসব ফ্যাক্টর নিয়মিত পরিবর্তনশীল। তাই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সময় অনেক সতর্ক ও যতœবান থাকতে হয়; নইলে বড় ধরনের লোকসানের ঝুঁঁকি থাকে। কিছু নিয়মকানুন অনুসরণ করলে এখানে ভালো করার সুযোগ থাকে। লোকসানের আশঙ্কা কম থাকে। আমাদের সময়ের পাঠকের জন্য কিছু দিক তুলে ধরা হলো।

অনেক সময় দেখা যায়, শেয়ারের মূল্য বাড়ছে। বিনিয়োগকারী দিন শেষে হিসাব কষেন। কিন্তু মুনাফা তুলে নেন না। এক পর্যায়ে শেয়ারের মূল্য কমতে থাকে। এজন্য কোনো শেয়ারে কাক্সিক্ষত মুনাফা হলে অপেক্ষা না করে শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া ভালো। এতে খাতাকলমে থাকা মুনাফা আপনার ঘরে (অ্যাকাউন্টে) আসবে।

অনেক সময় দেখা যায় দুর্বল শেয়ারের মূল্য বাড়ে। এক্ষেত্রে সচেতন বিনিয়োগকারী সব সময় ওইসব শেয়ারে বিনিয়োগ করেন না। কোম্পানির মৌলভিত্তি দেখে বিনিয়োগ করা উচিত। এক্ষেত্রে কোম্পানিটি কী পণ্য উৎপাদন করে, উৎপাদিত পণ্য কোথায় বিক্রি করে, গত কয়েক বছরের বিক্রি, মুনাফা ও লভ্যাংশের রেকর্ড দেখা উচিত।

অনেক সময় বিনিয়োগকারী বেশিসংখ্যক কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে থাকেন। খুব বেশি লেনদেন করা ভালো বিষয় নয়। লেনদেন করতে হবে হিসাব করে, পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে। কোনো শেয়ার বিক্রি করার পর এর টাকা দিয়ে ওই দিনই শেয়ার কেনার জন্য অস্থির হয়ে ওঠার কোনো মানে নেই। বরং একটু অপেক্ষা করে পরিকল্পনাটি সাজান। ভালো করে পর্যালোচনা করে দেখুন, কোনো শেয়ারের মূল্যস্তর বিনিয়োগ অনুকূল অবস্থায় আছে কিনা। যৌক্তিক মূল্যে শেয়ার না কিনতে পারলে মুনাফা করার সুযোগ থাকে কম।

অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী শেয়ারে বেশি বেচাকেনা করেন। শেয়ারবাজারে কখনো কখনো কিছু সময় প্রতিদিনই আপনার মুনাফা হতে পারে। কিন্তু তাই বলে প্রতিদিনই মুনাফা হবে এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়। এমন আশায় বিনিয়োগ করা হবে বোকামি। অতিমাত্রার আশাবাদের কারণে আপনার বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ভুল হতে পারে।

যে শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন সে শেয়ার সম্পর্কে ধারণা থাকা ভালো। এক্ষেত্রে গুজবে কান না দেওয়াই ভালো। বরং এমন কোনো তথ্য কানে এলে এর যৌক্তিকতা কী তা পর্যালোচনা করে দেখুন। কোম্পানির কোনো অপ্রকাশিত তথ্য আছে কিনা, সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায় কোনো পরিবর্তন ঘটছে কিনা, এক্সটার্নাল কোনো ফ্যাক্টর আছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা উচিত।

মন্দা বাজারে ধৈর্য ধরা উচিত। শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন নিয়মিত বিষয়। আপনি হয়তো চাঙ্গা বাজারে বিনিয়োগ করেছেন, কিন্তু মুনাফা নেওয়ার আগেই ওই বাজারের গতিপ্রকৃতি বদলে যেতে পারে। একইভাবে একটি শেয়ারের ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখে আপনি হঠাৎ বিনিয়োগ করে বসেছেন, কিন্তু ম্যাচিউরড হওয়ার আগেই শেয়ারটির দাম কমে যেতে পারে। তাই এমন মন্দ সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব টাকা বিনিয়োগ করা উচিত নয়। এক্ষেত্রে পরিকল্পনা থাকা জরুরি। বিনিয়োগ করার মতো যে অর্থ আছে, তাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিনিয়োগ করা উচিত। ধরুন, আপনার হাতে ৩০ লাখ টাকা আছে। এটিকে আপনি তিনটি সমান ভাগে ভাগ করতে পারেন। এ থেকে ১০ লাখ টাকা সঞ্চয়পত্রে, ১০ লাখ টাকা শেয়ারবাজারে এবং বাকি ১০ লাখ টাকা জমি বা অন্য কোনো সম্পদ কেনায় কাজে লাগাতে পারেন।

এভাবে বিভিন্ন খাতে ভাগ করে বিনিয়োগ করা হলে ঝুঁঁকি কমে আসে। একটি খাতে কোনো কারণে মন্দা দেখা দিলে বা লোকসানে পড়লে অন্য খাতের মুনাফা দিয়ে তা পুষিয়ে নেওয়া যায়। তাই ভুলেও আপনার পুরো অর্থ শেয়ারবাজার বা একটি খাতে বিনিয়োগ করবেন না।

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে