কেন চা পান করবেন

  মোস্তফা তাহান

০৮ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চা এক ধরনের কোমল পানীয়। এটি পানে অনেক ধরনের উপকারিতা রয়েছে। সে জন্য চা এক ধরনের ভেজষ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে এটি নিয়ে বিশ্বব্যাপী এখন নানা ধরনের গবেষণা হচ্ছে। এখানে ওইসব গবেষণার কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো :

গ্রিন টি : সবুজ চা বা গ্রিন টি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রায় ৪ হাজার বছর পূর্বে চীনে মাথাব্যথার ওষুধ হিসেবে এর ব্যবহার শুরু। সময়ের ব্যবধানে এখন সারা বিশ্বে এর ব্যাপক প্রচলন। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক যেসব মহিলা সবুজ চা পান করেন তাদের যকৃত, মলাশয়, পাকস্থলী ও কণ্ঠনালির ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক কম। 

এক দশকের বেশি সময় ধরে ৬৯ হাজার ৩১০ জন চীনা মহিলার ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় এই তথ্য পেয়েছেন একদল গবেষক। এই প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব মহিলা সপ্তাহে অত্যন্ত তিনবার সবুজ চা পান করেন তাদের পরিপাকতন্ত্রে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কম। অর্থাৎ যারা সবুজ চা পান করেন না, তাদের চেয়ে এদের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা ১৪ শতাংশ কম।

আদা চা : আদা দেওয়া রং চায়ের অনেক উপকারিতা আছে। আদা চা খেলে বমি-বমি ভাব দূর হবে। আদা চা হজমের ক্ষমতা বাড়ায়। আদা চায়ের ভিটামিন, খনিজ ও অ্যামাইনো অ্যাসিড রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটায়। ফলে হৃদরোগের আশঙ্কা কমে যায়। আদার মধ্যে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এ কারণে আদা চা খেলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার হয়। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর করতেও আদা চায়ের জুড়ি নেই।

জেসমিন টি : জেসমিন চা সম্পূর্ণ হারবাল চা এবং এর গুণাগুণও অনেক। জেসমিন চা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এই চা শরীরে জমে থাকা ফ্যাট বার্ন করতে সহায়তা করে। তাছাড়া জেসমিন চায়ে আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং ইজিইজি ক্যাফেইন, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এই চা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এই চা ত্বকের জন্যও অনেক উপকারী। তারুণ্য ধরে রাখতে চাইলে জেসমিন চা পান করা উচিত। এ ছাড়া এই চা নার্ভকে শান্ত করে এবং ক্লান্তি দূর করে।

চা যেভাবে পান করবেন : অনেকে চায়ের সাথে দুধ মিশিয়ে পান করেন। যা খেতে সুস্বাদু হলেও মোটেও স্বাস্থ্যের উপকারী নয়। চায়ে দুধ মেশালে চায়ের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই  হালকা জাল দিয়ে রং চা খাওয়া উচিত। রং চায়ে আদা দিয়ে খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়া বাজারে সবুজ, জেসমিন, আমলকী, ত্রিফলা ইত্যাদি  হারবাল চায়ের টিব্যাগ কিনতে পাওয়া যায়। যা গরম পানিতে মেশালেই তৈরি হয়ে যায় স্বাস্থ্যসম্মত হারবাল চা।

দার্জিলিং চা : দার্জিলিং পাহাড়ে ক্যামেলিয়ার কোমল কুঁড়ি দিয়ে উৎপাদিত হয় বিশ্ববিখ্যাত দার্জিলিং চা। চা শিল্প বিকাশের শুরু হতে আজ পর্যন্ত অনেক গবেষণা, অনেক প্রতিযোগিতা হয়েছে, কিন্তু দার্জিলিং চায়ের মতো চা তৈরি করা দূরে থাক, সৌরভে গুণগত উৎকর্ষতায় এর ধারে কাছেও আসতে পারেনি কোনো চা-উৎপাদনকারী। কেন এত মনোমুগ্ধকর সৌরভ, কেন এত মনকাড়া স্বাদÑ এ প্রশ্নের জবাব নেই। চায়ের বীজ, সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ভূমির উচ্চতা, পাহাড়ের খাড়াই, বৃষ্টিপাত, সূর্যের তীব্রতা, মৃত্তিকার বুনন, মাটির উর্বরতা, তাপমাত্রা, আকাশের পরিচ্ছন্নতা, মেঘের স্থায়িত্ব, বাতাসের গতি, অভিজ্ঞ শ্রমিক, যন্ত্রপাতি, ব্যবস্থাপনা প্রত্যেক উপাদানের ওপর চা-বিশারদরা আলাদাভাবে গবেষণা করে দেখেছেন, কিন্তু কোনো ফল পাননি।

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে