x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিকালের মধ্যেই বিদ্যুৎ বৃদ্ধির ঘোষণা আসছে: বিইআরসি

সহিংসতার কি কোনো শেষ নেই?

  শান্তা মারিয়া

১১ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৭, ০০:৫১ | প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ কয়েক বছরের প্রেম। প্রেমিকা বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা। শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়া। সেখানে গিয়ে তাকে হত্যা করা। তার মৃতদেহ সাত টুকরা করে ড্রামে ভরে রাখা। সম্প্রতি বরগুনায় আলমগীর নামে এক নরপিশাচ এভাবেই হত্যা করে মালা আক্তার নামে এক কলেজছাত্রীকে। একজন পাঠকের কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে এ ঘটনাটি পত্রিকায় পড়ার পর? কেন এমন ঘটনা ঘটছে দেশের আনাচে-কানাচে। কখনো নারী হচ্ছেন ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার। কখনো তাকে হত্যা করা হচ্ছে পৈশাচিক কায়দায়। আবার কখনো প্রাণে বেঁচে গেলেও তার ওপর নির্যাতন ঘটছে, এমন ভয়াবহ মাত্রায় যে ঘটনার বিবরণ আতঙ্কিত করছে পাঠককে। নারীর ওপর সহিংসতা ঘটছে ক্রমাগত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা মহামারীর মতো বিশ্বব্যাপী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশ্বে প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে একজন কোনো না কোনো ধরনের যৌন অথবা শারীরিক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এ সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, স্বামী অথবা সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী দ্বারা নারী সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। বিশ্বব্যাপী ৩০ শতাংশ নারী এর শিকার। তাদের প্রতিবেদনে দেখা যায়Ñ আফ্রিকায় ৪৫ শতাংশ এবং আমেরিকা ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ৩৬ শতাংশ নারী যৌন সহিংসতার শিকার।

বাংলাদেশে প্রতিদিনই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে কোনো না কোনো এলাকায় সংঘটিত ধর্ষণ ও অন্যান্য সহিংসতার খবর। তনু, মিতু, রিশা, খাদিজা, রূপা, মালাÑ এমনিভাবে শুধু বাড়ছে নামের তালিকা। একটি ঘটনা পৈশাচিকতায় হার মানাচ্ছে আগের ঘটনাকে। একের পর এক নারী জীবন হারাচ্ছে অথবা পঙ্গু হয়ে পড়ছে। নারীর প্রতি সহিংসতার বিচার হওয়া দরকার অতি দ্রুত। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি মামলাগুলো কেবলই ঝুলে থাকছে। আমাদের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে জানা যায়, আলোচিত তনু ও মিতু হত্যারহস্য এখনো তদন্তের মধ্যে বৃত্তবন্দি হয়ে আছে। রিশা হত্যা মামলারও কোনো অগ্রগতি নেই। এভাবে বছরের পর বছর যদি মামলাগুলো ঝুলে থাকে এবং অপরাধীকে যদি দ্রুত শাস্তির আওতায় না আনা যায়, তাহলে জনমনে বিরূপ প্রভাব পড়তে বাধ্য।

এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার নুসরাত জাহান স্বাতী সমান্তরালকে বললেন, ‘দরকার দ্রুত বিচার। কারণ মানুষ ক্রমেই বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। একের পর এক ঘটনা ঘটছে, অথচ অপরাধীর দ্রুত শাস্তি হচ্ছে না। ফলে মানুষ ভাবছে কই কিছুই তো হচ্ছে না। এতে অপরাধ করে পার পাওয়ার একটা ধারা তৈরি হচ্ছে। এ ধারার অবসান চাই।’ পরিবার, নারী ও শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহকারী পরিচালক ড. ফ্লাভিয়া বুয়েস্ত্রো এসব সহিংসতার পেছনের কারণগুলো মোকাবিলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, সহিংসতার জন্য দায়ী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে হবে। ড. বুয়েস্ত্রো জানান, ১৫ থেকে শুরু করে ৬৫ বছরের নারী একই ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। কোনো দেশের গড় আয়ের হার যাই হোক না কেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নারীর প্রতি সহিংসতা দৃশ্যমান।

নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে দ্রুত বিচার এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরে সহিংসতাবিরোধী প্রচারণা প্রয়োজন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে