x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিকালের মধ্যেই বিদ্যুৎ বৃদ্ধির ঘোষণা আসছে: বিইআরসি

কারিগরি শিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে নারীরা

  সাজেদা স্নিগ্ধা

১১ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাধারণ শিক্ষায় এগিয়ে থাকলেও কারিগরি শিক্ষায় এক সময় নারীরা ছিল অনেকটাই পিছিয়ে। ধীরে ধীরে কারিগরি শিক্ষাতেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। ইউসেপ বাংলাদেশ জরিপের তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ ৩৮ শতাংশ। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের মুদি দোকানদার সফর উদ্দিনের দ্বিতীয় মেয়ে রতœা আক্তার। ছোটবেলা থেকেই রতœা পড়াশোনায় বেশ মেধাবী। মা-বাবা স্বপ্ন দেখেন তাকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াবেন। কিন্তু টানাপড়েনের সংসারে কীভাবে তা সম্ভব এ চিন্তা ভাবিয়ে তোলে রতœার মা-বাবাকে। কিন্তু দমে যাননি রতœার মা-বাবা। স্কুলের শিক্ষকরা পরামর্শ দেন কারিগরি শিক্ষায় খুব কম খরচে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষকদের পরামর্শে এইচএসসি পাস করার পর রতœাকে ভর্তি করা হয় ঢাকার একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। রতœা এখন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করছে।

তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার এবং কর্মক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি করতে নারীরা এখন ধীরে ধীরে কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। পড়াশোনার খরচ কম হওয়ায় কিংবা দীর্ঘ বিরতির কারণেও অনেক ভর্তি হচ্ছে কারিগরি শিক্ষায়। ইউসেপ বাংলাদেশ জরিপের তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ ৩৮ শতাংশ। গত সাত বছরে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ১ থেকে ১৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

ময়মনসিংহ পলিটেকনিকের ইনস্ট্রাক্টর মিজানুর রহমান জানান, ‘একসময় নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা পলিটেকনিকে ভর্তি হলেও উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী ছাত্রীদের পলিটেকনিকে ভর্তির প্রতি আগ্রহ ছিল কম। এখন তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী ছাত্রীরাও পলিটেকনিকে ভর্তিতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এখানে চার বছর মেয়াদি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছে অর্ধশত নারী। পলিটেকনিকের ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও রয়েছে রেকর্ডসংখ্যক ৪০ থেকে ৫০ নারী শিক্ষার্থী।’

সরকারের জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন (২০১৬-১৭) তথ্যমতে, বর্তমানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় মোট ৮ লাখ ৭২ হাজার ৬৫৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৮ হাজার ৮৭০ জন। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) তথ্যে জানা যায়, বর্তমানে দেশে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় ছয় হাজার। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান ২৮৮টি। এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত প্রায় নয় লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে নারী শিক্ষার্থী দুই লাখের কিছু বেশি। কারিগরি শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। এ ক্ষেত্রে মোট শিক্ষার্থীর ৩৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী। এর বাইরে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ১৪ দশমিক ২৭ শতাংশ, টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২১ দশমিক ১৯, গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটে ৯ দশমিক ৯৩, মেডিক্যাল টেকনোলজিতে ৩১ দশমিক ৬০, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে ৭ দশমিক ৮১, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ২১ দশমিক ৫১ ও মেরিন টেকনোলজিতে ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী রয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অন্যতম অগ্রজ দোহাটেক নিউ মিডিয়ার চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষায় আগের চেয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তবে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং প্রযুক্তি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে কারিগরি শিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ ও অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এতে কর্মমুখী এই শিক্ষা নারীদের কর্মক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

বর্তমানে কারিগরি শিক্ষায় নারীদের আগ্রহ বাড়লেও সেই তুলনায় ভর্তির সুযোগ সীমিত। সরকারিভাবে ছাত্রীদের জন্য শুধু ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনায় চারটি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট আছে। শিক্ষানগরী বলে খ্যাত ময়মনসিংহ শহরে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার অসংখ্য সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অথচ কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে নার্সিং ইনস্টিটিউট ছাড়া সরকারি পর্যায়ে ময়মনসিংহে নারীদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই একটিও। একইভাবে দেশের অন্যান্য জেলাতেও সরকারিভাবে কারিগরি শিক্ষার সুযোগ অপর্যাপ্ত। ফলে প্রতিবছর জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় যে পরিমাণ নারী শিক্ষার্থী পাস করে বের হচ্ছে, তাদের খুব কমই কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, ছাত্রীদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য সরকারিভাবে এরই মধ্যেই আরও তিনটি ইনস্টিটিউট ও প্রতিটি বিভাগীয় শহরে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে