নারী উত্ত্যক্তের নয়া কৌশল

  অনলাইন ডেস্ক

২৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নারীদের উত্ত্যক্ত করা হচ্ছেই। প্রতিদিন নানাভাবে। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে নারীদের উত্ত্যক্ত করার নতুন ধরন। বাসে নারীদের পরনের পোশাক ব্লেড কিংবা এন্টিকাটার দিয়ে কেটে দেওয়া হচ্ছে। উত্ত্যক্তের নতুন এই আতঙ্কে এখন আতঙ্কিত নগরের নারীরা। জানাচ্ছেনÑ কেয়া আমান

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে সহপাঠীর সঙ্গে রামপুরা থেকে রাইদা বাসে ওঠেন। হঠাৎ ছাত্রীটির কাছে মনে হয় তার পিঠের সিট আর বসার সিটের মাঝখানের ফাঁকা জায়গা দিয়ে পেছনের লোকটি হাত দেওয়ার চেষ্টা করছে। ছাত্রীটি সরে পাশের সিটে বসেন। বাস থেকে নামার পর তিনি লক্ষ করেন তার পরনের জামা ও পায়জামার পেছনে বেশ কিছুটা অংশ কাটা। ছাত্রীটি বুঝতে পারেন পেছনে বসা পুরুষ যাত্রীটিরই কাজ এটি। সম্প্রতি ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটির বর্ণনা দিয়েছেন।

কয়েক দিন আগে এমন এক উত্ত্যক্তকারীকে হাতেনাতে ধরেন এক তরুণী। বাসে ওই তরুণীর পেছনে বসা ছিলেন এক মাঝবয়সী পুরুষ যাত্রী। হঠাৎ তরুণীটির কাছে মনে হয় কে যেন পেছন থেকে জামা ধরে টানছে। উঠে দাঁড়িয়ে পেছনে হাত দিয়ে দেখেন তার পোশাকের পেছনের দিকটা পুরাটা কাটা। তরুণী টের পেতেই পেছনে বসা যাত্রীটি দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তরুণীটি গিয়ে তাকে ধরে ফেলেন। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্ত্যক্তের এ ঘটনাগুলো ভাইরাল হয়েছে। নারীদের উত্ত্যক্ত করার এই অভিনব কৌশলের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পর জানা যাচ্ছে অনেকেই এ রকম ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পেজে অসংখ্য মন্তব্য পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই ভুক্তভোগী। এতে বোঝা যায় ঘটনাটি এখন আর দু-একজনের মধ্যে আটকে নেই, ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

এটা চুরি বা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে না। কারণ নারীদের পরনের পোশাক কেটে চুরির কথা এখনো শোনা যায়নি। এ ক্ষেত্রে নারীদের আতঙ্ক আর অস্বস্তিতে ফেলে শুধু বিকৃত আনন্দ লাভ করাই হচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য। এরা কি সুস্থ না সাইকো?

নারীদের উত্ত্যক্ত করা যেমন বন্ধ হচ্ছে না, তেমিন বন্ধ হচ্ছে না উত্ত্যক্ত করার অভিনব সব কৌশলও। নতুন এই কৌশলে উত্ত্যক্ত করার সময় দু-একজন উত্ত্যক্তকারীকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এভাবেই আমাদের সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে, থাকতে হবে সজাগ। শুধু নারী নয়, গণপরিবহনে এ রকম উত্ত্যক্তকারীদের ধরতে সচেতন পুরুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের অপরাধের জন্য আইনে গুরুতর শাস্তির বিধান রয়েছে বলে জানান অ্যাডভোকেট দিলরুবা সরমিন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার কথা এখন প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকটা কমে আসবে। এ ক্ষেত্রে আমরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মামলা করতে পারি। যেখানে ১০ বছরের সশ্রম কারাদ- কিংবা যাবজ্জীন কারাদ-ের বিধান রয়েছে।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে