ব্যাংকে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও শীর্ষপদে অংশগ্রহণ কম

  আমান উল্লাহ

০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষার ছোঁয়ায় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। অন্যান্য পেশার মতো ব্যাংকিং সেক্টরেও বেড়েছে নারীর অংশগ্রহণ। তবে ব্যাংকের শীর্ষপদে নারীদের অংশগ্রহণ এখনো কম। যদিও বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনতা ব্যাংকসহ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ পদে নারীরা সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তা সত্ত্বেও ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনো নারীরা অনেক পিছিয়ে।

২০১৫ সালে ব্যাংকিং মেলা উপলক্ষে দেশের ৫৬টি ব্যাংকের মধ্যে ৫৩টি ব্যাংকের তথ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত ‘সুবর্ণভূমি’ সংকলনে দেখা যায়, ২০১৪ সালে দেশের ব্যাংকগুলোতে কর্মরত জনবলের সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৬৫ জন। এর মধ্যে নারী ব্যাংকার ২০ হাজার ৬০২ জন, যা ব্যাংকিং সেক্টরে কর্মরত মোট জনবলের ১৩.২৫ শতাংশ। আগের যে কোনো বছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেশি।

‘সুবর্ণভূমি’ সংকলন তথ্যমতে, সরকারি ব্যাংকগুলোতে নারী ব্যাংকারের সংখ্যা সবচেয়ে কম, ১১.৪৯ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত আট ব্যাংকে মোট জনবল ৭২ হাজার ৮৯৩ জন। এর মধ্যে নারীকর্মী ৮ হাজার ৩৮২ জন। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে নারীকর্মী ১১ হাজার ৯২৭ জন, যা মোট জনবলের ১৪.৭৪ শতাংশ। আর বিদেশি সাত ব্যাংকের ১ হাজার ৬৬৩ জনের মধ্যে নারীর সংখ্যা ২৯৩ জন।

এদিকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সর্বশেষ জরিপে দেখা যায়, ২০১৪ সালে ব্যাংক খাতে মোট জনবলের মধ্যে নারীকর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১২ শতাংশ, ২০১০ সালে ১০.৬৫ শতাংশ, ২০১১ সালে ১১.১৫ শতাংশ। বর্তমানে দেশের মোট ৫৬টি তফসিল ব্যাংকের প্রায় ১০ হাজার শাখা রয়েছে। এসব শাখায় এন্ট্রি ও মিড লেভেলের সব পদেই নারীকর্মীদের উপস্থিতি রয়েছে। তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায় এখনো পুরুষ দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত। সরকারি ব্যাংকের তুলনায় বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে এই চিত্র আরও প্রকট। দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম নারী ডেপুটি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাজনীন সুলতানা। বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ধানম-ি কর্পোরেট শাখায় ডিজিএম হিসেবে কর্মরত আছেন আসমা আক্তার। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও কিছুসংখ্যক নারী দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লুনা সামসুদ্দোহা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের লিঙ্গ সমতাবিষয়ক প্রতিবেদন তথ্য অনুযায়ী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নারীর অংশগ্রহণের হার ১৪ শতাংশ। আর উচ্চ পর্যায়ে মোট অংশগ্রহণের হার ৭.৫৭ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ব্যাংক খাতের মোট পরিচালকের ১৩.৭০ শতাংশ নারী। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নারী পরিচালক রয়েছেন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। এসব ব্যাংকের পরিচালকদের ২০ শতাংশ নারী। তবে সরকারি বিশেষায়িত দুই ব্যাংকে কোনো নারী পরিচালক নেই। বিদেশি ব্যাংকে এ হার ১৯.৩৫ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকে ১২.৮৩ শতাংশ।

সোনালী ব্যাংকের খিলগাঁও শাখার সিনিয়র অফিসার শেখ আমীর আলী বলেন, এন্ট্রি লেভেলে যোগ্যতা অনুযায়ী পুরুষ ও নারীকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও অনেক নারীকর্মীই মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গেলে আর ফিরে আসেন না। অনেকে ফিরে এলেও অফিস টাইমের পরও দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয় বলে এ সময়টাতে মানিয়ে নিতে পারেন না। ফলে চাকরি ছেড়ে দেন। এ কারণে ব্যাংকের সিনিয়র পদে নারী সংখ্যা কম।

‘ব্যাংকের এন্ট্রি লেভেল ও মিড লেভেলে নারীরা এগিয়ে থাকলেও নেতৃত্বে এখনো পিছিয়ে আছে। অথচ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে নারীরা সফলতার সঙ্গে কাজ করার বহু উদাহরণ রয়েছে। তাই নীতিনির্ধিারণী পর্যায়ে নারীদের পিছিয়ে থাকাটা দুঃখজনক। ব্যাংকিং সেক্টরে নারীর অংশগ্রহণ শুধু বাড়লেই চলবে না, নেতৃত্বের পর্যায়েও আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে নারীদের আরও উন্নয়ন ও অংশগ্রহণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন’ বলে মনে করেন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনতা ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান লুনা সামমুদ্দোহা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে