সংগ্রামের আরেক নাম মুরশিদা

  শামীম হোসেন

০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাল্যবিয়েকে না বললেন মুরশিদা। উল্টো পিতার কাছ থেকে ভরণপোষণের অর্থ আদায় করে আলোর পথে এগিয়ে যাচ্ছেন মুরশিদা খাতুন। জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করে তিনি এখন একাদশ শ্রেণিতে লেখাপড়া করছেন। আগামীতে তিনি উচ্চশিক্ষিত হয়ে অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়াতে চান। রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল গ্রামের মোকবুল হোসেনের মেয়ে মুরশিদা। তার এ জীবনযুদ্ধে অভিভাবকের মতো পাশে দাঁড়িয়েছে ব্র্যাক।

স্থানীয়রা জানান, মুরশিদার বয়স যখন ৬ বছর তখন তার বাবা-মার তালাক হয়ে যায়। মা অন্যত্র বিয়ে করে। মুরশিদা থেকে যায় বাবার বাড়িতেই। কিছুদিন পর বাবাও দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ২০১৪ সালে মুরশিদা যখন ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে তখন তার সৎমা ও বাবা মিলে বিয়ে ঠিক করেন। মেয়ের মামা উজ্জ্বল হোসেন খবর পেয়ে ব্র্যাক অফিসে বাল্যবিয়ের অভিযোগ করেন।

মোহনপুরের ব্র্যাক মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচির কর্মী এ বিয়ে বন্ধে উদ্যোগ নেন। সেই সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মুরশিদার বাড়িতে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিয়ে বন্ধ করে দেন এবং মেয়েটির পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সাত হাজার টাকা দেন। সেদিন রাতেই বাবা ও সৎমা রাগ করে মুরশিদাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

গ্রামবাসীর সহায়তায় সে নানির বাড়ি আসে। সেখান থেকে আর কোথাও যাননি প্রতিবাদী মুরশিদা। ব্র্যাক আইন সহায়তা কেন্দ্রে সন্তানের ভরণপোষণের দাবিতে পিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। ব্র্যাককর্মী সালিশের জন্য তার বাবাকে ডাকেন। কিন্তু তিনি সালিশে রাজি হন না। উল্টো দলবলসহ অফিসে এসে ব্র্যাককর্মীকে ভয়ভীতি দেখান। তার পর ব্র্যাকের সহায়তায় কোর্টে মামলা করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে এডিআরের মাধ্যমে ২০১৬ সালে মুরশিদাকে নগদ ৮৫ হাজার টাকা আদায় করে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ভরণপোষণের জন্য প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার জন্য আদালত নির্দেশ দেন।

এদিকে মুরশিদা প্রাইভেট পড়িয়ে রোজগার করে নিজের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। জেএসসিতে জিপিএ-৫, এসএসসিতে জিপিএ-৪.৫ পেয়ে পাস করে এখন একাদশ শ্রেণিতে পড়ছেন তিনি। মেয়ের উন্নতি দেখে বাবা তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মামলা করেছেন। সৎমায়ের ঘরে মুরশিদা যেতে চায় না তাই এ মামলাতেও ভিকটিমের পক্ষে ব্র্যাক কাজ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্র্যাকের এই কাজের প্রশংসা করেন এবং ব্র্যাককে ধন্যবাদ জানান।

জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি একেএম জাহেদুল ইসলাম জানান, ব্র্যাক সরকারের সহযোগী হিসেবে সারা বাংলাদেশে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের পাশে থেকে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও আইনগত সহায়তা প্রদান করছে। রাজশাহীর প্রতিটি উপজেলায় ব্র্যাকের আইন সহায়তা কেন্দ্র আছে। নিয়মিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয় এবং সালিশ বা মামলার মাধ্যমে তা সমাধানের ব্যবস্থা করা হয়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে