sara

উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছেন গ্রামীণ নারীরা

  রওনক বিথী

০৭ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তিন সন্তান ও স্বামী নিয়ে রাজশাহীর নওগাঁ জেলার শরিফা বেগমের সংসার। এক সময় স্বামীর একার রোজগারে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো তাকে। তবে গ্রামের একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মুরগির খামার করে সংসারের অভাবকে বিদায় জানিয়েছেন শরিফা। মুরগির খামারের পাশাপাশি বর্তমানে হাঁস পালন এবং পানির ওপর ভাসমান সবজি চাষও করছেন তিনি। প্রতি মাসে সেসব থেকে ভালো আয়ও হচ্ছে। করেছেন সাতজন নারীর কর্মসংস্থানও। গোয়ালন্দ বাজারে ভাতের হোটেল দিয়েছেন শিউলি আক্তার। তার স্বামী পাটুরিয়া ঘাটে কাজ করেন। হোটেলের কাজে সহযোগিতার জন্য পাঁচজন লোকও নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তার ছেলেও তাকে সহযোগিতা করছে।

দিনাজপুরের মেয়ে আসমাউল হুসনা রিপা। স্বামীর একার রোজগারে এক সময় তার জন্য দুবেলা খাবার জোগাড় করাই ছিল কঠিন। দরিদ্রতা ঘোচাতে ৮০০ টাকায় কাজ শুরু করেন স্থানীয় একটি এনজিওতে। এর পর যোগাযোগ করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে। সেখানে প্রশিক্ষণ এবং ৫০,০০০ টাকা যুবঋণ নিয়ে ‘প্রিন্স টেইলার্স অ্যান্ড ফিশারিজ’ নামে একটি প্রকল্প চালু করেন। পরবর্তীকালে তিনি নিজের এলাকায় হতদরিদ্র যুবমহিলা ও আদিবাসী সাঁওতালদের কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর রাইটস অ্যান্ড পিচ’ নামে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি ‘বাংলাদেশ ওমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র একজন সদস্য।

গ্রামের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী উদ্যোক্তাদের জীবনের গল্প এসব। যারা গৃহবধূর পাশাপাশি হয়ে উঠছেন উদ্যোক্তাও। ফলে নিভৃত পল্লীর যে নারীদের সংসারে এক সময় অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী, এখন তাদের ভাগ্য বদলে এসেছে সচ্ছলতা। তারা নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন, স্বাবলম্বী করেছেন গ্রামের অন্য নারী-পুরুষদেরও। হাঁস, মুরগি, গরুর খামার, নার্সারি, হস্তশিল্প তৈরি, হোটেল ব্যবসা, মুদি দোকান, কাপড়ের দোকানসহ ছোটখাটো নানা ধরনের ব্যবসার সঙ্গে এখন জড়িত হচ্ছে গ্রামের নারীরা। অনেকেই দক্ষতা অর্জন করে ধীরে ধীরে ব্যবসাটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বড় পরিসরে। গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য এখন দেশের গ-ি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিদেশের মাটিতেও। অর্জিত অভিজ্ঞতাকে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে তাদের অনেকেই কাজ করছেন ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের বিভিন্ন বিষয়ের প্রশিক্ষক হিসেবেও। নারী উদ্যোক্তা হেলেনা জাহাঙ্গীর মনে করেন, নারীদের বিভিন্নরকম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে হয়। গ্রামের নারীদের ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপটটি আরও কঠিন। শত বাধা পেরিয়েও গ্রামের সাধারণ নারীদের ব্যবসার সঙ্গে এই সম্পৃক্ততা নারী উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে। গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তা এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর রাইটস অ্যান্ড পিচের নির্বাহী পরিচালক আসমাউল হুসনা রিপা জানান, এক সময় গ্রামের নারীদের অর্থ উপার্জন করার তেমন কোনো সুযোগ ছিল না। সে জায়গা থেকে তারা এখন শুধু অর্থই উপার্জন করছেন না বা স্বাবলম্বীই হচ্ছেন না, গ্রামের দুস্থ, দরিদ্র নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়াতেও শেখাচ্ছেন, গ্রামে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনছেন।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে