ট্রাভেল উদ্যোক্তা ঊষার কথা

  কেয়া আমান

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন ছেলেমেয়ে সবাই। তবে ঘুরে বেড়ানো পেশা হিসেবে নিয়ে ট্রাভেল গ্রুপ উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করা নারীর সংখ্যা আমাদের দেশে এখনো হাতেগোনা। এমন একটি ভিন্নধারার সাহসী পেশা বেছে নিয়েছেন উম্মে সালমা ঊষা। যিনি অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল গ্রুপ ‘উড়ালপঙ্খীর ট্রাভেল গ্রুপের’ উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন।

ছোটবেলা থেকেই ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করতেন ঊষা। আর সেই পছন্দই ধীরে ধীরে নেশা হয়ে ওঠে। একটু সময় বের করতে পারলেই চলে যেতেন পছন্দের বিভিন্ন জায়গায়। আর সেসব জায়গায় ঘুরে ঘুরে প্রচুর ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিতেন। তার এই অ্যাক্টিভিটিস নজরে আসে একটি ট্রাভেল গ্রুপের। গ্রুপটি প্রস্তাব দেয় তাদের সঙ্গে কাজ করার। বিনা পয়সায় ঘুরতে পারার এমন সুযোগ পেয়ে গ্রুপটির সঙ্গে কাজ শুরু করেন ঊষা। চলতে থাকে ট্রাভেল গ্রুপ নিয়ে বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়ানো।

ট্রাভেল গ্রুপের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু প্রসঙ্গে ঊষা বলেন, ‘অন্য গ্রুপের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে এক সময় মনে হলো ট্রাভেল গ্রুপগুলোতে নারী এডমিনের প্রয়োজন রয়েছে। কারণ অনেক নারীর ট্রাভেল গ্রুপের সঙ্গে ঘোরার ইচ্ছে থাকে, তবে গ্রুপে কোনো নারী এডমিন না থাকায় যেতে সাহস পান না। এই ভাবনা থেকেই ২০১৭ সালে উড়ালপঙ্খী ট্রাভেল গ্রুপ চালু করি।’

চালুর পর প্রথম ইভেন্টেই ব্যাপক সাড়া পান ঊষা। তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমার গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র সাতাশ। তখনই সাহস করে দিলাম প্রথম ইভেন্ট। ইভেন্টটি ব্যাপক সাড়া ফেলল। প্রথম ইভেন্টেই ৩৫ হাজার মানুষ আগ্রহ দেখালেন। তখন সেখান থেকে মাত্র ২৩ জন সদস্য নিয়ে সফলভাবে ইভেন্ট শেষ করেছিলাম।’

এক বছরে বর্তমানে ২৩ হাজার সদস্য নিয়ে এগিয়ে চলছে উড়ালপঙ্খী ট্রাভেল গ্রুপ। ঊষা বলেন, ‘অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল বিজনেস বাংলাদেশে খুব বেশিদিন হয়নি। অল্প সময়েই এটা সব বয়সীদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। নারী এডমিন না থাকায় নারীরা এতদিন গ্রুপের সঙ্গে ট্রাভেলে পিছিয়ে ছিল। এখন ট্রাভেল গ্রুপগুলোর সঙ্গে নারী-পুরুষ সবাই ঘুরতে পারবেন।’

একজন নারী হয়ে ট্রাভেল গ্রুপের এডমিন হিসেবে কাজ করাটা বেশ সাহসী উদ্যোগ। তিনি বলেন, ‘আমি এ পর্যন্ত দেশের ভেতর এবং বাইরে মিলিয়ে প্রায় ২০টি ইভেন্ট করেছি। এমনও ইভেন্ট গেছে যেখানে কোনো মেয়ে ট্রাভেলারই ছিল না। কিন্তু কখনো কোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়নি। বরং মেয়ে এডমিনের প্রতি ছেলে ট্রাভেলারদের অনেক বেশি সহযোগী মনোভাব দেখেছি। আমি মনে করি বর্তমানে নারীদের ট্রাভেল উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।’

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় অনার্স সম্পন্ন করা ঊষা বর্তমানে মাস্টার্স করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে। ঊষা মনে করেন, দেশে নারী চলচ্চিত্র নির্মাতার সংখ্যা কম। তাই ভবিষ্যতে বড় পরিসরে ট্রাভেল গ্রুপ নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণের ইচ্ছাও রয়েছে ঊষার।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে