পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি

কেয়া আমান

  অনলাইন ডেস্ক

১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৪৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

তৈরি পোশাক শ্রমিকরা ১৬ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি জানিয়ে আসছে কিছুদিন ধরে। এরই মধ্যে গত ২৫ নভেম্বর ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে সরকার এবং ১ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ নিয়ে আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। বিস্তারিত জানাচ্ছেনÑ কেয়া আমান

তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি বহুদিনের। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও অন্যান্য খাতের শ্রমিকদের মজুরি বিবেচনায় পোশাক শ্রমিকদের এই দাবি নতুন বছরের শুরুতে আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। নতুন মজুরি কাঠামোয় বৈষম্য রয়েছে দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছে পোশাক শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের অভিযোগ সরকার তাদের জন্য যে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দিয়েছে, মালিকপক্ষ সে অনুযায়ী বেতন দিচ্ছে না। নতুন মজুরি কাঠামোয় চলতি মাসে প্রথম মজুরি পাওয়ার পর দেখা যায়, যে হারে সপ্তম গ্রেডের মূল মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে সে হারে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম গ্রেডের মজুরি বৃদ্ধি করা হয়নি। উপরন্তু শ্রমিকের নানাভাবে অন্যায়-অবিচারের শিকার হতে হচ্ছে। তাই বছরের শুরুতেই শ্রমিকরা বিক্ষোভে নেমেছে।

আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শ্রমিক সুমন মিয়া নিহত হওয়ার খরর ছড়িয়ে পড়লে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয় পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে। ওই প্রেক্ষাপটে ৮ জানুয়ারি সরকার-মালিক-শ্রমিক সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় জরুরি বৈঠক করা হয়। সভায় মালিকপক্ষের ৫ জন, শ্রমিকপক্ষের ৫ জন ও বাণিজ্য সচিব ও শ্রম সচিবকে নিয়ে মোট ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে মজুরির অসঙ্গতিগুলো খতিয়ে দেখবে এবং সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বস্ত করা হয়।

মজুরি পর্যালোচনা কমিটির ৩ জানুয়ারির প্রথম সভায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ‘সমস্যার সমাধান দ্রুত করা হবে। মজুরি কাঠামোতে কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে তা দূর করা হবে।’ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘নতুন বেতন কাঠামোর কারণে কোনো শ্রমিকের যদি বেতন কমে যায়, তা হলে তা আগামী মাসের বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিশোধ করা হবে। নতুন বেতন কাঠামোর অসঙ্গতি দূর করতে কমিটি কাজ করছে। এ কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতনের বিষয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’

পোশাক শ্রমিকদের সব গ্রেডে সমান হারে মজুরি বাড়ানোর পাশাপাশি বকেয়া বেতন পরিশোধ, ছাঁটাই ও নির্যাতন বন্ধ এবং পোশাক শ্রমিক নিহতের ঘটনায় বিচার ও যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার বলেন, ‘সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী শ্রমিকরা এ মাসেই বেতন পাওয়া শুরু করেছে নতুন গ্রেডে। মাস শেষে কাক্সিক্ষত বেতন না পেয়েই শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, শ্রমিকরা মাঠে নেমেছেন। এ ছাড়া শ্রমিক ছাঁটাই, টার্গেট চাপ প্রয়োগ এবং শ্রমিকরা নির্যাতনের শিকারও হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এসব বন্ধ করতে হবে।’

অপারেটরাই গার্মেন্টশিল্পের প্রাণ, প্রধান চালিকাশক্তি। সংখ্যার দিক থেকেও তারাই বেশি। এ প্রসঙ্গে নারীনেত্রী রোকেয়া কবির বলেন, ‘শ্রমিকদের বিশাল অংশকে বঞ্চিত করে, অঙ্কের মারপ্যাঁচে ফেলে বেসিক কমিয়ে দিলে শেষ পর্যন্ত শিল্পের মঙ্গল আসবে না। এ কথা মালিকপক্ষকে বুঝতে হবে। তাই চলমান আন্দোলন পরিস্থিতিতে সরকার ও মালিকপক্ষকে এক হয়ে বসে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম গ্রেডের শ্রমিকদের মূল মজুরি অন্যান্য গ্রেডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বেতন বাড়িয়ে শিল্পের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয় সর্বশেষ বেতন কাঠামো। শ্রমিকরা ওই কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেয়েছিলেন ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে কার্যকর হওয়া এই মজুরি বোর্ড প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বেতন বাড়ার পাশাপাশি ৫ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো করার কথা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণের ঘোষণা দেয় সরকার। গত ২৫ নভেম্বর এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। ১ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই হিসাবে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে চলতি মজুরি কাঠামোতে প্রথম বেতন পান পোশাক শ্রমিকরা। এরপর শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দেয় অসন্তোষ। তৈরি পোশাকশিল্পে চীনের পরই বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ। এই খাতে আনুমানিক ৪ কোটি শ্রমিক কাজ করে। তাদের বেশিরভাগই নারী শ্রমিক। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখে তৈরি পোশাকশিল্প। তবু এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশেই সর্বনিম্ন মজুরি প্রদান করা হয়ে থাকে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে