নারী বিক্রয়কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে বাণিজ্যমেলায়

  অনলাইন ডেস্ক

০৭ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

 

শুরু হয়েছে ২২তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। এবারের মেলায় প্রায় তিন হাজার তরুণ-তরুণী খ-কালীন বিক্রয়কর্মী হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন, সংখ্যায় নারীরাই বেশি। বিস্তারিত জানাচ্ছেনÑ কেয়া আমান

 

বিবিএ প্রথম বর্ষ পরীক্ষা শেষ হয়েছে আনিকার। রেজাল্ট হতে খুব বেশি দিন বাকি না থাকলেও রেজাল্টের পরও কিছুদিন পড়াশোনার চাপটা কমই থাকবে। এ সময়টা কীভাবে কাজে লাগানো যায় বিষয়টি বান্ধবীদের সঙ্গে আলোচনা করতেই এক বান্ধবী বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন। এরপর পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে সাক্ষাৎকার দিয়ে এবারের বাণিজ্য মেলায় প্রাণ আরএফএলের প্যাভিলিয়নে অংশগ্রহণের সুযোগ পান আনিকা। বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এবারই প্রথম বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করছি। খ-কালীন এ পেশাটি অর্থের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে আমাকে অভিজ্ঞতা, ফুলটাইম কাজ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেবে কর্মক্ষেত্রে নানাদিক জানার সুযোগ।’

আনিকার মতো অনেক তরুণীই এখন লেখাপড়ার ফাঁকে অর্থ উপার্জন ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় খ-কালীন সেলস গার্ল হিসেবে কাজ করছেন। মাসব্যাপী কাজের জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সম্মানজনক বেতন-ভাতার ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ দিচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নারী কর্মীদের যানবাহন সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি খাবারও সরবরাহ করছে।

একটা সময়ে দেশে খ-কালীন চাকরির তেমন কোনো সুযোগ না থাকলেও বর্তমানে অনেকটাই সম্প্রসারিত হয়েছে এর ব্যাপ্তি। যার ফলে শিক্ষার্থীদের একদিকে যেমন কাজের সুযোগ বাড়ছে, অন্যদিকে এই অভিজ্ঞতা তাদের সহায়তা করছে পরবর্তী সময়ে স্থায়ী চাকরি লাভে। পড়ালেখার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য অনেকে নারীই এখন বেছে নিচ্ছেন বিক্রয়কর্মী পেশা। এতে বিক্রয়কর্মী পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ যেমন বাড়ছে, তেমনি পারফম্যান্সেও এগিয়ে রয়েছেন নারীরা। কোনো কোনো প্যাভিলিয়নে শুধু মেয়েরাই পণ্য বিক্রি করছেন। কেবল বিক্রয়কর্মী নন, বিজনেস প্রোমোটার, সেলস প্রোমোটার, সেলস অফিসার, ম্যানেজার এমনকি দোকান মালিক হিসেবেও এখন মেলায় অংশ নিচ্ছেন আমাদের নারীরা। শুধু অংশগ্রহণ করেই শেষ নয়, কপালের টিপ থেকে শুরু করে টিভি-ফ্রিজ বিক্রিতেও অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করা নারী বিক্রয়কর্মীরা।

মেলা আয়োজন সূত্রে জানা যায়, রপ্তানি উন্নয়ন বুরো (ইপিবি) এরই মধ্যে তাদের নানা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। গত মেলার লে-আউট প্ল্যান দেওয়া হয়েছিল ৫৬৮টি, কিন্তু চূড়ান্ত স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫৬৫টি। এবারের মেলায় আরও বেশিসংখ্যক দেশি-বিদেশি স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকছে। আর এসব প্যাভিলিয়ন ও স্টলে চলতি বছর তিন হাজার তরুণ-তরুণী খ-কালীন সেলস গার্ল হিসেবে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে প্রাণ-আরএফএলই খ-কালীন সেলস গার্ল হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে ৫০০ জনকে আর ওয়ালটন নিয়োগ দিচ্ছে ২০০ জনকে। একইভাবে বেঙ্গল, সিঙ্গার, সনি, কাজী ফার্মস, ইরানি স্টলসহ বহু স্টলে নারী বিক্রয়কর্মীদের অংশগ্রহণ এবারও চোখে পড়ার মতো।

এ প্রসঙ্গে বেঙ্গল প্লাস্টিকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নাজমুন নাহার ডেইজী বলেন, ‘বাণিজ্য মেলায় সেলস পদে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ থাকে মেয়েদের। এটি মেয়েদের জন্য শুধু খ-কালীন চাকরিই নয়, এটি নারীদের কর্মক্ষেত্র তৈরির সুবর্ণ সুযোগ। বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারী তরুণীরা নানা ধরনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী সময়ে চাকরির জন্য নিজেদের মানসিকভাবে তৈরি করারও সুযোগ পায়। এ ছাড়া মেলায় সেলস পদে যেসব তরুণী ভালো পারফরম্যান্স দেখায়, অনেক সময় তাদের অনেকে নিয়মিত চাকরির সুযোগও পায়।’

তবে সব ক্ষেত্রের মতো এখানেও নারীদের কিছু সাধারণ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। মেলায় অংশগ্রহণকারী নারীদের জন্য অনেক প্রতিষ্ঠানই পরিবহনের ব্যবস্থা করে থাকে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের নারীরা এ সুযোগটি পান না, অনেক ক্ষেত্রেই তাদের যাতায়াত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আবার প্যাভিলিয়নে আসা পুরুষ ক্রেতাদের নানা ধরনের বাজে মন্তব্যের সম্মুখীনও হতে হয় সেলস গার্লদের। যদিও প্রতিষ্ঠান ও পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে অনেক বেশি সাপোর্ট পান বলে জানান বেশ কয়েকজন নারী বিক্রয়কর্মী।

বাণিজ্য মেলায় বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের বিএসসি ছাত্রী শম্পা ইসলাম। তিনি জানান, ‘স্টলে কাজ করতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। তবে যাতায়াতে সমস্যা হয়। রাত হয়ে যাওয়ায় গাড়ি পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। আবার একসঙ্গে অনেক লোক বের হয় বলে বাস পেলেও সিট খালি পেতে সমস্যা হয়।’ কাজের সুযোগ প্রসঙ্গে মেলায় অংশ নেওয়া ইডেন কলেজের রুমানা তাবাসসুম রুমা বলেন, ‘মেলায় তিনভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। প্রথমত সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত; দ্বিতীয়ত, দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত এবং তৃতীয়ত, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান লিখিত পরীক্ষাও নিয়ে থাকে। সাহসী, বুদ্ধিমতী ও আত্মবিশ^াসী মেয়েরাই এ ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায়।

 

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে