মুস্তাকিমের হরেক রকমের চাপ

  অনলাইন ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুস্তাকিমের চাপের নাম

শোনেনি এমন মানুষ ঢাকায় খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের ব্যস্ততম এলাকার সহজেই চোখে পড়ার মতো জায়গায় চলছে গরু, মুরগি, খাসির মাংস, কলিজা ও মগজ দিয়ে তৈরি নানা

রকম চাপের আয়োজন। পাওয়া যায় কবুতরের চাপও। ২০১২ সালে রূপচাঁদা হটস্পট অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী মুস্তাকিমের চাপ পৌঁছাতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। শিগগিরই

ঢাকার আরও কয়েকটি ব্যস্ততম এলাকার পাশাপাশি চলছে সৌদি আরবের জেদ্দায় চাপ চালুর

পরিকল্পনা। লিখেছেন-

সুহৃদ সুফিয়ান

শুরুর গল্প

১৯৮২ সালের কথা। মোহাম্মদপুর বয়েজ স্কুলের সামনে ছোট্ট একটা চৌকিতে শুরু হয় মুস্তাকিমের চাপ বিক্রি। প্রথমে অল্প কয়েকটি আইটেম দিয়ে শুরু করলেও একসময় বাড়তে থাকে ভোজনরসিকদের চাপ, বাড়ে ব্যবসায়ের পরিধিও। টানা ৮ বছর ওই চৌকিতে থাকার পর ১৯৯০ সালের শেষের দিকে আসে বর্তমান ঠিকানায়। জমে ওঠে আরও।

 

নানা আইটেম, নানা দাম

এখানে সব মিলিয়ে প্রায় ২০ রকমের আইটেম পাওয়া যায়। এর মধ্যে বিফ চাপ-৮০ টাকা, বিফ বটি কাবাব-৮০ টাকা, গরুর ব্রেন ফ্রাই-৮০ টাকা, গরুর খিরি কাবাব-৮০ টাকা, গরুর গুর্দা কাবাব-৮০ টাকা, মাটন চাপ-৯০ টাকা, মাটন বটি কাবাব-৯০ টাকা, খাসির ব্রেন ফ্রাই-৯০ টাকা, খাসির খিরি কাবাব-৯০ টাকা, খাসির গুদ্ধা কাবাব-৯০ টাকা, চিকেন চাপ হাফ-১৫০ টাকা, চিকের ফ্রাই-১২০ টাকা, মুরগির গিলা-কলিজা-৮০ টাকা, চিকেন কর্নস্যুপ-৩০ টাকা, কবুতরের চাপ-১৫০ টাকা। এ ছাড়া টিকা কাবাব প্রতিটি-৫ টাকা, সামি কাবাব-১৫ টাকা, লুচি ছোট-২ টাকা আর বড়-৫ টাকা। স্বাভাবিক দামে পাওয়া যায় কোমল পানীয়। সময় বুঝে লাচ্ছি চলে ৫০ টাকা করে।

 

সিক্রেট রেসিপি

চাপ তো অনেকেই বানায়। কিন্তু মুস্তাকিমের চাপের সামনে স্বাদের প্রশ্নে দাঁড়াতে পারে না কেউ। এটার প্রধান কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মুস্তাকিম সাহেবের বড় ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাদের রেসিপিটাই অন্যদের থেকে আলাদা। এই রেসিপির মূল কারিগর আমার মা। এখনো পর্যন্ত তিনিই জানেন মূল ব্যাপারটা। এই অনন্য রেসিপির জন্যই চাপগুলো এত মুখরোচক। আর এই স্বাদের টানে শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে নিয়মিত ছুটে আসেন অনেকেই।

 

পরিচালনা ও লোকবল

২০০৩ সালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মুস্তাকিম সাহেব নিহত হওয়ার পর থেকে টানা ১০ বছর দায়িত্ব ছিল তার স্ত্রীর কাঁধে। বর্তমানে দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন তার বড় ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন ও তার মামারা। প্রতিদিন হাজার হাজার ভোজনরসিকদের সার্ভ করার পাশাপাশি লুচি স্ট্যান্ড, কাবাব স্ট্যান্ড প্রভৃতি সচল রাখতে নিয়োজিত আছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন চাপকর্মী। খাদ্যপ্রেমিকদের চাপের চাহিদা মেটাতে সবসময় এই চাপকর্মীদের চাপেই থাকতে হয়। তাদের একজন বলেন, ‘ভাই, এখন তো ভালোই দেখতাসেন। ৭টা-৮টা থেইকা ভাজা ভাজা হইয়া যাই। গরমকাল হইলে তো কথাই নাই। মন চায় লাফ দিয়া ভাইগ্যা যাই।’

 

সন্ধ্যার পরে ভিড়, ছুটির দিনে আরও ভিড়

বিকাল ৩টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে ‘মুস্তাকিম ভ্যারাইটিজ কাবাব অ্যান্ড স্যুপ’। বিকেলে বেচাকিনি থাকে স্বাভাবিক। সন্ধ্যার পর নামে বিভিন্ন বয়সী মানুষের ঢল। তরুণরাই আসে বেশি। হৈ-হুল্লোড় করে চলে তাদের ভোজনবিলাস। ছুটির দিনের ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাইলে দীর্ঘ হাসি দিয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সন্ধ্যার পর ক্যাশ কাউন্টারে বসলে মাথা নষ্ট হয়ে যায়। কত বিল নেওয়া যায় বলেন। কাস্টমারদের বসার জায়গা দেওয়াই দায়। কে খেল, কে খেল না; কে বিল দিল, কে দিল না বুঝি না। সংকীর্ণ হলেও ভেতরে তিনটে বসার জায়গা এবং বাইরের খোলা জায়গা মিলিয়ে একসঙ্গে সর্বনিম্ন ১২০ জন কাস্টমারকে সার্ভিস দিতে হয়। সময়ের অভাবে অনেকে দাঁড়িয়েই অর্ডার দেয়, খায়, নিয়ে যায়। এরকম উপচেপড়া ভিড়ের সময় এলাকার অনেক দুষ্ট ছেলে এসে খেয়েদেয়ে বিল না দিয়েই হাঁটা ধরে।

 

ক্যাটিরিং সার্ভিস

জন্মদিন, গায়ে হলুদ, বিয়ে কিংবা অন্যান্য সভা- সেমিনারে অর্ডার অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করে ‘মুস্তাকিম ভ্যারাইটিজ কাবাব অ্যান্ড স্যুপ’। অর্ডার বড় হলে পুরো সেট-আপ নিয়ে চলে যায় স্পটে। খাবার তৈরির সমস্ত কাজ চলে সেখানেই। পরিবেশন করা হয় গরম গরম। তবে এর জন্যে আলাদা চার্জ দিতে হয়। অনুষ্ঠান ভেদে এ টাকার পরিমাণ ৮০০০ টাকা থেকে ১০০০০ টাকা।

 

নতুন ভাবনা ও নিরাপত্তা

আগে কখনো কখনো রাত ২টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও ইদানীং নিরাপত্তার কথা ভেবে ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে মুস্তাকিমের চাপ। কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও অল্পকিছু দিনের মধ্যেই কাস্টমারদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সিসি ক্যামেরা লাগানোর ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া ঢাকার ধানম-ি, মোহাম্মদপুর রিংরোড, উত্তরার দিয়া বাড়ির দিকে চালু হবে মুস্তাকিমের চাপ। চালু হবে সৌদি আরবের জেদ্দায়ও।

বিদেশেও কদর আছে মুস্তাকিমের চাপের

মুস্তাকিমের চাপ ও মসলা অনেকেই কিনে নেন বাইরে থাকা বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের পাঠানোর জন্যে। যারা এখানে খেয়ে অভ্যস্ত ছিলেন কিন্তু বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন তাদের অনেকেরই আবদার থাকে এটা। তাই পাঠাতে হয়। সুদূর আমেরিকা, ইউরোপ, এদিকের সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া, থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশে থাকা বাংলাদেশিরা এখনো ভুলতে পারেননি মুস্তাকিমের চাপের কথা।

 

লোকেশন ও ঠিকানা

মুস্তাকিম ভ্যারাইটিজ কাবাব অ্যান্ড স্যুপ, জেনেভা ক্যাম্প, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭। শ্যামলী থেকে আদাবর রিংরোড হয়ে কুষি মার্কেট পার হয়ে মোড় নিতে হয় বায়ে। রিকশা নিলেই সুবিধা। অথবা, কলেজ গেট থেকে সোজা পশ্চিমে মিনিট দশেক হাঁটার পর যে মোড় পড়বে তার ডানেই ‘মুস্তাকিম ভ্যারাইটিজ কাবাব অ্যান্ড স্যুপ’।

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে