ইন্টারনেটে নিরাপত্তা ভেঙে দিতে পারে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং

  শেখ নিয়ামত উল্লাহ

১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০১:৫৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, শব্দটি অনেকের কাছেই নতুন। পদার্থবিজ্ঞানের কোয়ান্টাম তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই এই কম্পিউটিং ব্যবস্থা উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। এই প্রযুক্তি আবিষ্কারের পর মানুষের হাতের নাগালে চলে আসবে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। তেমনই তা হতে পারে নানা অসুবিধার কারণ। কীভাবে এই কম্পিউটিং সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে জানাচ্ছেন

এতদিন গণিত আর অ্যালগরিদম ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করে রেখেছিল। কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ক্রমেই উন্নতি সেসবের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রযুক্তিবিদরা। তারা জানিয়েছেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটার মানুষের হাতের নাগালে এলে প্রচলিত পদ্ধতিতে ইন্টারনেটে তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা আর নিরাপদ থাকবে না। তাহলে জেনে নেওয়া যাক কীভাবে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রচলিত ইন্টারনেট নিরাপত্তাব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে। তবে কোয়ান্টম কম্পিউটিং সম্পর্কে আমাদের ধারণা তেমন স্বচ্ছ না হওয়ায় প্রথমেই পরিচিত হতে হবে কিছু শব্দের সঙ্গে।

এনক্রিপশন-ডিক্রিপশন

এর মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট তথ্যকে এমন কিছু সাংকেতিক ভাষায় রূপান্তরিত করা হয়। ডিক্রিপশন এনক্রিপশনের ঠিক উল্টো। সাংকেতিক ভাষা থেকে আসল তথ্যটি বের করে আনার প্রক্রিয়াকে ডিক্রিপ্ট করা বলে। ইন্টারনেটের তথ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য বর্তমানে প্রধানত দুই ধরনের এনক্রিপশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়Ñ সিমেট্রিক কি ক্রিপটোগ্রাফি ও পাবলিক কি ক্রিপটোগ্রাফি।

সিমেট্রিক কি ক্রিপটোগ্রাফি

এ পদ্ধতিতে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য প্রেরক ও প্রাপকের কাছে একই ধরনের কি (চাবি) থাকতে হবে। যে তথ্য পাঠাবে, সে যে চাবি দিয়ে তার তথ্যকে এনক্রিপ্ট করবে; যার কাছে পাঠাবে, তাকে সেই এনক্রিপ্টেড তথ্য থেকে মূল তথ্য বের করতে হবে। তবে একবার কোনো হ্যাকার এই কি পেয়ে গেলে তথ্য তাদের হাতের নাগালে চলে আসে।

পাবলিক কি ক্রিপ্টোগ্রাফি

এ ধরনের ক্রিপ্টোগ্রাফির ক্ষেত্রে প্রেরক ও প্রাপকের কাছে দুই ধরনের কি থাকতে হবে। পাবলিক কি ও প্রাইভেট কি। এ ক্ষেত্রে যদি কোনো হ্যাকার পাবলিক কি পেয়েও যান, তা হলে প্রাইভেট কির নাগাল পাবে না তারা।

ট্র্যাপডোর ফাংশন

পাবলিক কি ক্রিপ্টোগ্রাফির ক্ষেত্রে বুঝতে হবে ট্র্যাপডোর ফাংশন। ট্র্যাপডোর ফাংশন হলো এমন এক ধরনের ফাংশন, যা দিয়ে একদিকে খুব সহজেই হিসাব করা যায়, কিন্তু বিশেষ তথ্য জানা না থাকলে বিপরীত দিকে হিসাব করা খুবই কঠিন।

প্রাইম ফ্যাক্টরাইজেশন

এটি হলো কোনো সংখ্যাকে তার মৌলিক উৎপাদকগুলোতে বিশ্লেষণ করা। যেমন ৩৫-এর প্রাইম ফ্যাক্টরাইজেশন করলে ৫ এবং ৭ পাওয়া যাবে।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, পাবলিক কি ক্রিপ্টোগ্রাফিতে পাবলিক কি এবং প্রাইভেট কির গুণফল আর সেই গুণফলের প্রাইম-ফ্যাক্টরাইজেশন, এই দুই জিনিসের ওপর ইন্টারনেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ভর করে।

এবার বুঝে নিই কোয়ান্টাম কম্পিউটার সম্পর্কে। প্রচলিত কম্পিউটার গণনা করে বিট দিয়ে, যা ০ বা ১Ñ এই দুই অবস্থার যে কোনো একটি অবস্থায় থাকতে পারে। আর কোয়ান্টাম কম্পিউটারের গণনার মূল একক হলো কিউবিট। কিউবিট ব্যবহারের ফলে এর গণনা ক্ষমতা প্রচলিত কম্পিউটারের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যায়। যার মাধ্যমে এক নিমিষেই করে ফেলা সম্ভব জটিল সব হিসাব।

১৯৯৪ সালে ম্যাসেচুসেটস ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির অধ্যাপক পিটার শো কোয়ান্টাম অ্যালগরিদমের ধারণা দেন। যার ফলে খুব সহজেই বড় বড় সংখ্যাকে উৎপাদকে বিশ্লেষণ করা সম্ভব। এর ফলে হ্যাকারদের আর প্রাইভেট কি প্রয়োজন হবে না, কোয়ান্টাম কম্পিউটার দিয়ে সহজেই তথ্য ডিক্রিপ্ট করতে পারবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই কোয়ান্টাম কম্পিউটার সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে চলে আসবে। তখন প্রকৃতপক্ষেই প্রচলিত ইন্টারনেট নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়তে পারে নতুন কোনো অ্যালগরিদমের। যা নিয়ে বিজ্ঞানিরা এখনও গবেষণা করে যাচ্ছেন।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে