আগামী দিন রোবট-ড্রোনের

  শেখ নিয়ামত উল্লাহ নিয়াম

১২ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব, এগিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তি, বাড়ছে প্রযুক্তির ওপর মানুষের নির্ভরশীলতা। এগুলোর প্রকৃত উদাহরণ জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে কম্পিউটার, রোবট ও মেশিনের ব্যবহার। বলতে গেলে প্রযুক্তির দখলেই চলে যাচ্ছে আমাদের এই পৃথিবী। বর্তমানে রোবট ও ড্রোন প্রযুক্তির উন্নতি হচ্ছে খুবই দ্রুততার সঙ্গে। এ নিয়ে বাস্তব উদাহরণের সঙ্গে মিলিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। তার আলোকে বিস্তারিত জানাচ্ছেনÑ শেখ নিয়ামত উল্লাহ নিয়াম

দৃশ্যটা দুবাইয়ের। রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে পুলিশ। তবে আদতে তারা মানুষ নয়, বরং চলেফিরে বেড়ানো রোবট। অপরাধীদের শনাক্ত ও প্রমাণ সংগ্রহে বেশ পারদর্শী তারা। এ ছাড়া খুঁটিনাটি নানা কাজ তো আছেই। চলতি জুনেই শহরটিতে দেখা গেছে এসব পুলিশ রোবট। রোবটগুলোর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পিএএল রোবটিকস বলছে, পর্যটক ও বয়স্ক নাগরিকদের সাহায্যের জন্যই ছাড়া হয়েছে রোবটগুলো। তবে এর পেছনে যে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের উদ্দেশ্যটাও ফেলনা নয়, তা বুঝছেন অনেকেই। দুবাই পুলিশও বেশ আগ্রহী এসব রোবটের বিষয়ে। তারা জানিয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যেই এর সংখ্যা ২৫ শতাংশ বাড়ানো হবে। কারণ, রোবটদের মানুষের মতো ছুটি, অসুস্থতা ঝামেলা নেই। কাজও করতে পারে ২৪ ঘণ্টা। শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নোয়েল শারকেও বিষয়টি দেখছেন ইতিবাচক হিসেবে। তিনি বলেন, রোবট পুলিশ অনেক সমস্যার সমাধান করবে। আসছে দিনে এগুলো কাজ করতে পারে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণের কাজে। তবে নেতিবাচক দিকটাও তুলে ধরেছেন তিনি। আগের অভিজ্ঞতা থেকে তার ধারণা রাস্তার এই রোবটগুলো নিয়ে মজা করতে পারে সবাই। এ ছাড়া কমবে মানুষের কর্মসংস্থান। রোবট ব্যবহারে এগিয়ে আছে চীনও। দেশটিতে নজরদারির জন্য রয়েছে সবচেয়ে বড় সিসিটিভি ক্যামেরা নেটওয়ার্ক। এখানেই শেষ নয়, সম্প্রতি দেশটিতে ছাড়া হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুটের একটি রোবট। নাম ই-পেট্রোল শেরিফ। শরীরে ক্যামেরা লাগানো এই রোবটের কাজও পুলিশিং। শুধু রোবটই নয়, চীনে শুরু হয়েছে ড্রোন সেবারও বাড়বাড়ন্ত। যাত্রী কিংবা কুরিয়ার সেবায় ব্যবহার করা হচ্ছে এসব ড্রোন। একই চিত্র দুবাইতেও। সেখানেও কাজ করা হচ্ছে ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে। পরিকল্পনা রয়েছে এক ধরনের হাইব্রিড হোভার বাইক নির্মাণেরও, যেগুলো ব্যবহার করে সহজেই কাজ করতে পারবে পুলিশ। অধ্যাপক নোয়েল বলছেন, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির এই বাড়বাড়ন্ত থামানো সম্ভব নয়। খুব শিগগিরই দুবাইয়ের আকাশ ব্যস্ত হয়ে উঠবে ড্রোনের আনাগোনায়। আর রীতিমতো শূন্য হয়ে পড়তে পারে শহরটির রাস্তাগুলো। লিডস ইউনিভার্সিটির গবেষক বিলাল কাদোউহ কাজ করছেন ড্রোন নিয়ে। তার গবেষণার বিষয় হলো নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ড্রোন। নিজ কাজে অনেক দূর এগিয়েছেন তিনি। নির্মাণ করেছেন তিন ধরনের ড্রোন। সেগুলোর একটি রাস্তার কাজ পর্যবেক্ষণ করবে, অন্যটি রাস্তা নির্মাণে সরাসরি হাত লাগাবে। আর শেষটির কাজ হলো প্রয়োজনে রাস্তার সংস্কার করা। বিলাল মনে করেন, এক সময় নির্মাণকাজেও একচ্ছত্র আধিপত্য থাকবে ড্রোন প্রযুক্তির। এমনকি এ ধরনের ড্রোনে ভরে যাবে শহর। এর ফলে যেমন কাজ সহজ হয়ে পড়বে, তেমন কর্মসংস্থান হারাবে লাখ লাখ নির্মাণশ্রমিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি সামনের দিকে এগিয়ে যাবেই, এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে। কারণ মানুষের প্রয়োজনেই প্রযুক্তির সৃষ্টি। তাই এর ভালো দিকগুলোর পাশাপাশি মানুষ নেতিবাচক দিকগুলোও মেনে নিতে অনেকটাই বাধ্য। তাই প্রযুক্তির পরিবর্তন সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে, মেনে নিতে হবে নতুনকে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে