বিশ্বকাপের মাঠে প্রযুক্তির দখল

  অনলাইন ডেস্ক

১৯ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ জুন ২০১৮, ০১:১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

দিন যত যাচ্ছে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরগুলোতেও যোগ হচ্ছে নতুন নতুন সব প্রযুক্তি। বলা হচ্ছে, প্রযুক্তি এবং নতুনত্বের দিক থেকে রাশিয়া বিশ্বকাপ আগের সব বিশ্বকাপকে ছাপিয়ে যাবে। অনেক আগে থেকেই ফুটবলেও ক্রিকেটের মতো থার্ড আম্পায়ার ব্যবস্থা রাখার দাবি জানিয়ে আসছিল ফুটবলভক্ত এবং বোদ্ধারা। ফিফাও বিষয়টি যে একেবারে উড়িয়ে দিয়েছিল সে রকম নয়। যার ফলে এবারের বিশ্বকাপে বিশ্ববাসী পেয়েছে ফুটবলে নতুন এক প্রযুক্তির দেখা। একে বলা হচ্ছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তি। বিশ্বকাপের প্রযুক্তিগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত জানাচ্ছেন, আজহারুল ইসলাম অভি

ভিএআর প্রযুক্তি : রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত এড়াতে আরও সহজভাবে বললে ভুল সিদ্ধান্ত এড়াতে রেফারিকে সহযোগিতা করতে রাশিয়া বিশ্বকাপে এবার যুক্ত হয়েছে ভিএআর প্রযুক্তি। সর্বমোট ১৩ জন রেফারি থাকবেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হিসেবে। এই ভিএআররা থাকবেন মস্কোয় ভিডিও অপারেশন রুমে। সব ভেন্যু থেকে ভিডিও এসে পৌঁছবে মস্কোয়, যা দেখে ভিএআররা তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন রেফারিকে।

সরাসরি ক্রিকেটের মতো রিভিউ দেখবে দর্শক : মাঠে বা টিভি পর্দায় চোখ রাখা সব দর্শক দেখতে পারবেন এই ভিএআর পর্যালোচনা। টিমের করা পুরো কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ টিভির পর্দায় এবং স্টেডিয়ামে থাকা ব্যাক স্ক্রিনে দেখানো হবে। রিভিউ প্রদর্শনের জন্য প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হচ্ছে ক্রিকেটের অনুরূপ হ্যান্ড সিগন্যাল। মোদ্দা কথা হলো দর্শকের জন্য সব ধরনের রিভিউ দেখার ব্যবস্থা করছে এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপ।

গোললাইন প্রযুক্তি : ফুটবলে গোল হওয়া না হওয়া একটি বড় বিষয়, মাঝে মাঝে দেখা যায় বল গোল লাইন ক্রস করলেও তা রেফারির দৃষ্টি এড়িয়ে যায়, যা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক, এমনকি যা থেকে বদলে যেতে পারে খেলার ফলাফলও। এ নিয়ে এতদিন যাবৎ তাবত দুনিয়ার ফুটবল বোদ্ধাদের মনে ছিল ক্ষোভ। ঠিক এমন এক সমস্যা সমাধান করতে ২০১২ জাপান বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছিল গোললাইন প্রযুক্তি। পরে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে মেলে এই গোললাইন প্রযুক্তির সুফল। বেলজিয়াম আর হুন্ডুরাসের খেলায় দর্শকদের তৃপ্ত করতে পেরেছিল সেবারের এই প্রযুক্তি। অনিশ্চিত জয়কে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসে গোললাইন প্রযুক্তি। এই গোললাইন প্রযুক্তিতে মূলত ‘হক আই’ ও ‘গোল রেফ’ নামের দুটি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। ‘হক আই’ প্রযুক্তিতে দুটি গোলপোস্টের দিকেই তাক করে স্থাপন করা হয়েছে সাতটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা। আর ডেনিস উদ্ভাবিত ‘গোল রেফ’-এর জন্য বলে ব্যবহৃত হচ্ছে উচ্চক্ষমতার সেন্সর সংযুক্ত কয়েল।

ইলেকট্রনিক পারফরম্যান্স অ্যান্ড ট্র্যাকিং সিস্টেমস : রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রযুক্তির কিছু নমুনা প্রকাশ করে ফিফা, যা ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে খেলায়। এমনই একটি প্রযুক্তি হচ্ছে ইলেকট্রনিক পারফরম্যান্স অ্যান্ড ট্র্যাকিং সিস্টেমস (ইপিটিএস)। এ প্রযুক্তি মূলত দলের কোচের জন্য। ফিফা বলছে, এটি দলের কোচকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করবে। দুটি ক্যামেরার মাধ্যমে দুই দলের খেলোয়াড় ও বলের গতিবিধি ধারণ করা হবে। ধারণকৃত সেই ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য ইপিটিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে দুই দলের নির্ধারিত ফুটেজ বিশ্লেষক ও চিকিৎসক দলের কাছে সরাসরি পাঠানো হবে।

ফিটনেস ট্র্যাকার : এবারের বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে বিশেষ ফিটনেস ট্র্যাকার। খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণে যার দরকার ছিল, প্রথমে এটি নিয়ে নানা জটিলতা থাকলেও পরে ঠিকই ব্যবহৃত হচ্ছে এই প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ফিটনেস ট্র্যাকার। ট্র্যাকারগুলো খেলোয়াড়দের বুকে ও পিঠে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে ইতোমধ্যেই খেলোয়াড়রা এ ডিভাইসগুলো ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।

সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে সামরিক প্রযুক্তি : ইউক্রেন এবং সিরিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে যেসব উন্নত প্রযুক্তির পরীক্ষা করা হয়েছে বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামগুলোর বাইরে সেসব ড্রোন প্রযুক্তি স্থাপন করেছে রাশিয়া। যার সবই সামরিক প্রযুক্তি। সন্ত্রাসীরা যাতে মাঠে কোনো ধরনের হামলা বা বোমা হামলা চালাতে না পারে সে জন্যই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে আয়োজক দেশটি।

ফক্স স্পোর্টসের বিশেষ প্রযুক্তি : রাশিয়া বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য স্পেশাল ব্যবস্থা করছে ফক্স স্পোর্টস। তারা মোট চারটি শো করার জন্য একটি বিশেষ স্টুডিও সাজিয়েছে। স্টুডিওতে থাকবে রোবটিক ক্যামেরা, ১৮০ ডিগ্রি ভিজুয়াল অ্যাঙ্গেল। সেখানে ব্যবহার হবে ৩৭টি ক্যামেরা। বিশ্বকাপের বিভিন্ন ভেন্যুতে থাকবে ফক্স স্পোর্টসের ৮০টি মাইক্রোফোন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে