সাইবার হামলার ঝুঁকিতে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল

  আনিসুর সুমন

০৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৮, ০০:২৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সত্যিই যদি অনাকাক্সিক্ষত কোনো সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে, তা হলে ক্ষতির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াতে পারে ১ দশমিক ৭৪৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে এই সাইবারঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকতে বেশ কিছু পরামর্শও দিয়েছে মাইক্রোসফট। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আনিসুর সুমন

মাইক্রোসফটের গবেষণা প্রতিবেদন

সাইবার হামলার ঝুঁকিতে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল

সাইবার হামলার ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলগুলোর মধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল (এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল) তুলনামূলকভাবে ওপরের দিকে রয়েছে। সত্যি সত্যি যদি এমন সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে, তা হলে ক্ষতির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াতে পারে ১ দশমিক ৭৪৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। মাইক্রোসফটের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ফ্রস্ট ও সুলিভানের একটি গবেষণা প্রতিবেদন সম্প্রতি এমনটাই জানানো হয়েছে।

‘এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে সাইবার নিরাপত্তা হুমকির সম্যক ধারণা : ডিজিটাল বিশ্বে আধুনিক এন্টারপ্রাইজগুলোর সুরক্ষা’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনের লক্ষ্য ব্যবসা ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এ অঞ্চলের সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়ে সচেতন করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইবার নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো চিহ্নিত করা। প্রতিবেদন অনুযায়ী এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে সাইবার নিরাপত্তাজনিত কারণে ব্যবসা ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত ১.৭৪৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে, যা এ অঞ্চলের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২৪.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের সাত শতাংশেরও বেশি। গবেষণায় ব্যবসা ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে মাঝারি মানের প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা (২৫০ থেকে ৪৯৯ জন কর্মী) এবং বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কর্মীদের নিয়ে জরিপ করা হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জরিপ করা অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠানে (২৫ শতাংশ) সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কিংবা তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয় অথবা তথ্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

এ নিয়ে মাইক্রোসফট এশিয়ার এন্টারপ্রাইজ সাইবার সিকিউরিটি গ্রুপের পরিচালক এরিক লাম বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো এখন তাদের গ্রাহকদের সঙ্গে সংযুক্ত হতে এবং তাদের কার্যক্রমের পূর্ণ উপযোগিতা ব্যবহারে ক্লাউড ও মোবাইল কম্পিউটিং সেবা গ্রহণ করছে। তিনি আরও বলেন, প্রথাগত যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিপক্ষকে অদৃশ্য করার ফলে আক্রমণের নতুন লক্ষ্য তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যা সাম্প্রতিক কিছু সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় সুস্পষ্ট। গবেষণায় বলা হয়, আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যতের ডিজিটাল অর্থনীতির সুযোগ গ্রহণে প্রতিষ্ঠানের সম্ভাবনা ও ক্ষমতা হ্রাস করছে। মুক্তিপণ দাবির মতো সাইবার আক্রমণ এন্টারপ্রাইজগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রতারণাপূর্ণ ওয়্যার ট্রান্সফার, ডেটা দুর্নীতি ও অনলাইন ব্র্যান্ড ইমপারসোনেশন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় ও শঙ্কার কারণ। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে চারটির মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান সাইবার নিরাপত্তার সুরক্ষা বৃদ্ধিতে ইতোমধ্যেই এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে কিংবা করার পথেই রয়েছে। ডিজিটাল বিশ্বে আধুনিক এন্টারপ্রাইজগুলোর সুরক্ষায় করণীয় হিসেবে বলা হয়েছে, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তায় এবং এর রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিষ্ঠানগুলোর এইআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করা প্রয়োজন। সাইবার হামলা ও ম্যালওয়্যার ইনফেকশন নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার এবং ‘বেস্ট-অব-স্যুইট’ সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে দক্ষতা ও উপকরণের সক্ষমতা বাড়ানো ও পর্যালোচনাসহ সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে এইআই ও অটোমেশনের সুবিধা গ্রহণ করা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে