অ্যান্ড্রয়েড না আইফোন

প্রকাশ | ১০ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০১৭, ২০:৪২

অনলাইন ডেস্ক

এক সময় স্মার্টফোন যোগাযোগের পাশাপাশি গান শোনা, ক্যামেরায় কয়েকটি ছবি তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০০৭ সালে অ্যাপলের আইফোন আধুনিক স্মার্টফোনের সংজ্ঞাটাই বদলে দেয়। আর সেই সুবিধাগুলোকে সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্বটা অ্যান্ড্রয়েডের। সেই থেকে স্মার্টফোনের দুনিয়ায় দুই চির-প্রতিদ্বন্দ্বী আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড। শুরু থেকেই ভোক্তারাও দুটি দলে বিভক্ত। কারো কাছে আইফোন সেরা আর কারো কাছে অ্যান্ড্রয়েড। আসুন দেখে নেওয়া যাক দুটি মোবাইল প্ল্যাটফর্মের বিশেষ দিকগুলো। তারপর বিচারটা আপনার হাতেই। এ নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন বরকত উল্লাহ সাবা...

আইফোন

উন্নত হার্ডওয়্যার : অ্যাপলের জন্মলগ্ন থেকেই তারা একটি বিষয়ে আপসহীন। আর তা হলো, তাদের পণ্যের মান। তাদের ফোনটিও এর ব্যতিক্রম নয়। আইফোনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, তাদের ফোনের যে কোনো মডেলে সেই যুগের সর্বোচ্চ মানের হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হয়। আর তাই এর বাজারমূল্য আর ভাবমূর্তি দুটোই বেড়ে যায় বহুগুণে।

সফটওয়্যার আপডেট : একটি মুঠোফোন বা কম্পিউটারে সফটওয়্যার আপডেট দেওয়ার মাধ্যমে সেটিতে নতুন সুযোগ-সুবিধা যোগ করা হয় আর ভিতরকার কিছু সমস্যারও সমাধান করে দেওয়া হয়। যেখানে সাধারণ একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন সর্বোচ্চ দুই বছর এই আপডেটগুলো পায় সেখানে একটি আইফোন চার থেকে পাঁচ বছর এই আপডেটগুলো পেয়ে থাকে।

অ্যাপস : আইফোন ব্যবহারকারীরা এমন কিছু অ্যাপস ব্যবহার করতে পারেন যা অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা পারেন না (যেমন : ফেসটাইম, আইম্যাসেজ ইত্যাদি)। এ ছাড়াও যখন নতুন কোনো অ্যাপস বাজারে আসে, বেশিরভাগ সময়েই সেগুলো প্রথমে আইফোন ব্যবহারকারীরা পেয়ে থাকেন।

গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা : গোপনীয়তার ব্যাপারে আইফোন কর্তৃপক্ষ খুবই সচেতন। ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত কোনো তথ্য যেন পাচার না হতে পারে সেদিকে তারা সর্বদা সজাগ। তাই বলা যায় নিরাপত্তার দিক দিয়ে আইফোনই সবার উপরে।

পুনঃবিক্রয় মূল্য : আইফোনের পুনঃবিক্রয় মূল্য খুবই ভালো। অর্থাৎ আপনি একটি আইফোন অনেকদিন ব্যবহার করার পরেও যথেষ্ট ভালো মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন।

অ্যান্ড্রয়েড

বৈচিত্র্য : এক বছরে বাজারে কেবল একটি কিংবা দুটি মডেলের আইফোন বাজারে আসে, কিন্তু অ্যান্ড্রয়েডচালিত ফোন আসে শত শত। তাই বিভিন্ন রকমের মডেল থেকে নিজের পছন্দমতো মুঠোফোনটি বেছে নেওয়া যায়।

সহজ ব্যবহার : অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করা আইফোনের তুলনায় অনেক সহজ। কিছু কিছু কাজ যা আইফোনে করতে অনেক কাঠখড় পোরাতে হয়, তা অ্যান্ড্রয়েড ফানে খুব সহজেই করে ফেলা সম্ভব। আর এই কারণেই কোনো অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী যখন প্রথমবারের মতো আইফোন ব্যবহার করেন, তখন যথেষ্ট বিরক্তির সম্মুখীন হয়ে থাকেন।

স্বাধীনতা : আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটিকে আপনি নিজের মতো করে সাজাতে পারবেন। নিজের ইচ্ছেমতো আইকন পরিবর্তন করতে পারবেন, উইজেট চালাতে পারবেন, নিজের ইচ্ছেমতো অ্যাপস ব্যবহার করতে পারবেন যার বেশিরভাগই আইফোনে সম্ভব নয়।

সুযোগ-সুবিধা : এনএফসি ফাইল শেয়ারিং, ফাস্ট চার্জিং, ওয়ারলেস চার্জিং, ওলেড স্ক্রিনসহ এমন অনেক সুবিধা বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার স্বাদ শুধু অ্যান্ড্রয়েডের ভোক্তারাই পেয়েছেন। সাধারণত এই জাতীয় সুবিধাগুলো অ্যান্ড্রয়েডের অনেক পরে আইফোনে আসে। যদিও অনেক সময় উল্টোটাও হয়।

সহজলভ্যতা : অ্যান্ড্রয়েডের বাজার সবার জন্য উন্মুক্ত। মাত্র ২,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মূল্যের অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে রয়েছে। একজন ভোক্তা তার সামর্থ্য আর পছন্দমতো যে কোনোটি বেছে নিতে পারেন।

 

 

"