ব্যাংক যেন মুদির দোকান

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৭, ০১:১৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাংকিং খাতে চরম দুরবস্থা বিরাজ করছে। একচ্ছত্র প্রভাবের কারণে ব্যাংককে মুদির দোকান মনে করেন মালিকরা। গতকাল রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে এক কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এ কথা বলেন।

ইব্রাহিম খালেদ বলেন, গত পাঁচ বছরে অনেক পেছনে চলে গেছি। যার অন্যতম কারণ ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। প্রস্তাবিত ব্যাংক কোম্পানি আইন পাস হলে ব্যাংকিং খাতের অবস্থা আরও খারাপের দিকে চলে যাবে। মালিকদের অযাচিত হস্তক্ষেপ বাড়বে এবং ব্যাংকাররা পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও বেশি সমস্যার সম্মুখীন হবেন।

চূড়ান্ত পর্যায়ে পাস হতে যাওয়া ব্যাংক কোম্পানি আইনে এক পরিবার থেকে চারজন পরিচালক থাকার বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে একই পরিবার থেকে দুজন পরিচালক থাকার আইন রয়েছে। তবে নতুনভাবে একই পরিবার থেকে চারজন পরিচালক রেখে আইন পাস হতে যাচ্ছে। তাই এ আইনটি পাস হলে ভালো ব্যাংকও খারাপ হয়ে যাবে। বিশেষ করে বেসরকারি ব্যাংকে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বেশি। কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না।

নতুন এ ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, এ আইন পাস হতে দেওয়া যাবে না। বাধা দিতে হবে। সবাইকে আরও হইচই করতে হবে। এ আইন নিয়ে লেখালেখি করব, সেমিনার করব। সবাই আমাদের সঙ্গে যোগ দেন।

কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত (মার্জার) করা সম্পর্কে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বিদেশে ব্যাপকহারে মার্জার হচ্ছে। সেখানকার প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বড় হওয়ার জন্য মার্জার করে থাকে। তবে আমাদের দেশে ছোট ব্যাংকগুলোর ধারণা, বড়দের সঙ্গে মার্জার হলে বড়রা তাদের খেয়ে ফেলবে। তবে মার্জারের ফলে ভালো কিছু নাও হতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, সেটি হলো দুটো খারাপ প্রতিষ্ঠান মিলে নতুন একটি বড় খারাপ প্রতিষ্ঠানের জš§ দিয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী বলেন, মার্জার অর্থনীতির জন্য ভালো কিছু নয়। তবে এটিকে আমরা বাদ দিতে পারি না। মার্জারের জন্য যে কোনো সময় আমরা প্রস্তুত আছি। এ বিষয়ে আমরা একটা খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছি।

কর্মশালার বিষয় ছিল দেশের ব্যাংকগুলোকে একীভূতকরণ (এক্সপ্লোরিং মার্জার অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন ইন দ্য কনটেক্স অব দ্য ব্যাংকিং সেক্টর অব বাংলাদেশ)। বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইয়াছিন আলি। এ ছাড়া কর্মশালায় প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক মো. মহিউদ্দিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭২ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তা মনে করে, বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ব্যাংক রয়েছে, তা কমাতে হবে। তবে ১১ শতাংশ ব্যাংকার মনে করে ব্যাংকের সংখ্যা ঠিক আছে। আর ১৭ শতাংশ ব্যাংকার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ছাড়া মার্জারের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলোÑ সুশাসনের অভাব, বোর্ডের গোপন সুবিধা, রাজনৈতিক দুর্বলতা, মানসিকতার পরিবর্তন, পরিচালকদের দুর্বলতা, সঠিক নেতৃত্ব এবং কৌশলগত চ্যালেঞ্জ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে