সবার আগে বাংলাদেশ : সুষমা

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক

২৪ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ০০:১১ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গেই সবার আগে সুসম্পর্ক তৈরি এবং সব সমস্যার সমাধান করতে চায় ভারত। যেসব বিষয়ে এখনো দুই দেশ একমত হতে পারেনি, সেসব বিষয় দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়ে থাকে। এ প্রতিবেশীর তালিকায় সবার আগে রয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের নতুন চ্যান্সারি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সুষমা বলেন, ‘পাড়োশি পেহেলে, লেকিন বাংলাদেশ সাবসে পেহেলে।’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমামও উপস্থিত ছিলেন ওই অনুষ্ঠানে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এবং ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলাও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দি।

ইংরেজিতে বক্তৃতা দিতে শুরু করে সুষমা স্বরাজ এক পর্যায়ে হিন্দিতে বলতে শুরু করেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে ‘অসাধারণ’। দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত যে বিষয় রয়েছে, তার সমাধানে দুপক্ষই ‘বন্ধুত্বের মেজাজে সঠিক পথে’ কাজ করছে। কোন কোন সমস্যা মেটাতে দুই দেশ কাজ করছে, সুষমা তা স্পষ্ট না করলেও তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার টেবিলে ঝুলে আছে। সুষমা বলেন, আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আমরা দুই দেশ মিলে সব বিষয় ইমানদারির সঙ্গে মিটিয়ে ফেলব।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে উদ্দেশ করে সুষমা স্বরাজ বলেন, ‘তিনি আমাকে দিদি বলেন, আমি তাকে দাদা বলি। সম্পর্কটা এখন পারিবারিক। সম্পর্ক যখন পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক হয়, তখন সেটা ভিন্ন মাত্রা পায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর আমার কাছে প্রস্তাব আসেÑ কোন দেশে সবার আগে সফর যেতে চান। আমি বলি, সবার আগে প্রতিবেশী বাংলাদেশে যাব। উদ্বোধন হওয়া প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সুষমা স্বরাজ বলেন, এক বছরের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে যা ‘সুপারসনিক’ গতিতে সম্পন্ন হবে। সুষমা বলেন, আমাদের তরুণদের ওপর বেশি করে বিনিয়োগ করতে হবে। এতে আমাদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকবে। নতুন চ্যান্সারি কমপ্লেক্স উদ্বোধন করতে পেরে আমি খুশি। এ বছর প্রায় ১৪ লাখ বাংলাদেশি নাগরিককে ভিসা দেওয়ার আশা করছি।

এর আগে সুষমা স্বরাজ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ফটোকপি মেশিনসহ বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

১-৩, বারিধারা পার্ক রোডে প্রায় ৫ একর জায়গা নিয়ে তৈরি এ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স। ১৯৯৩ সালে এ কমপ্লেক্সের জন্য জায়গা বরাদ্দ পায় ভারত। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাস থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে চ্যান্সারি ব্লকে কাজ শুরু হলেও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি। এই কমপ্লেক্সের মধ্যে রয়েছে চ্যান্সারি ব্লক, হাইকমিশনারের বাসভবন, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, রিক্রিয়েশন হল, বাগান প্রভৃতি। ঢাকার তত্ত্বাবধানে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

ভারতীয় অর্থায়নের ৭২ কোটির ১৫ প্রকল্প উদ্বোধন

ভারত সরকারের অর্থায়নের ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, পানি সরবরাহ এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে, যেগুলো বাছাই করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পিরোজপুরের ভা-ারিয়ায় ১১টি পানি শোধনাগার নির্মাণ। সেখানে লবণাক্ত পানি শোধন করে দেড় লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো সুপেয় পানি উৎপাদন করা যাবে। একটি প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন স্থানে ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হবে। আরেকটি প্রকল্প নতুন করে নির্মাণ করা হবে রমনা কালীমন্দিরে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী রমনা কালীমন্দির গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। সেখানে মূল মন্দির ছাড়াও একটি পাঁচতলা অতিথিশালা নির্মাণ করা হবে। মন্দির প্রাঙ্গণে বসানো হবে একটি গভীর নলকূপ। মন্দিরের মূল ফটকও নির্মাণ করা হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম বাঁশখালীতে ১১টি গভীর নলকূপ, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রতিষ্ঠিত চাঁদপুর ফারাক্কা বাঁধ ডিগ্রি কলেজে একতলা মহাত্মা গান্ধী ভবন নির্মাণ প্রভৃতি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে