১০ হাজার পিস ইয়াবার তথ্য গোপন করে জামিন

ক্ষমা চেয়ে ব্যারিস্টার খোকনের আবেদন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৭, ০১:১০ | প্রিন্ট সংস্করণ

১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য গোপন করে এক আসামিকে জামিন করানোর অভিযোগ উঠেছে সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি ধরা পড়লে গতকাল রবিবার হাইকোর্টের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন জানান বার অ্যাসোসিয়েশনের পাঁচবার নির্বাচিত এই সম্পাদক।

গতকাল বিচারপতি মো. শওকত হোসেন ও বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তার ক্ষমার আবেদন মঞ্জুর করে এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল গাজী মামুনুর রশিদ।
জানা গেছে, গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শ্যামলী থেকে ৭০ হাজার পিস ইয়াবাসহ কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দারুসসালাম থানায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে পুলিশ। এ মামলার তিন নম্বর আসামি প্রাইভেটকারচালক মিঝু হোসেনকে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই আসামি নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে হাইকোর্টের দারস্থ হন।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন তার পক্ষে জামিন আবেদন দাখিল করেন। গত ১৩ জুন হাইকোর্টের বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির আহম্মেদের সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন বেঞ্চ থেকে এ আসামি জামিন পান। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই জামিন আদেশ আপিল বিভাগ গত ১৭ জুলাই স্থগিত করে দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, মিঝুর জামিন পাওয়ার পর একই মামলার ২ নম্বর আসামি আরিফুর হাসান গত ৯ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ আব্দুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে জামিনের আবেদন জানান। তার কাছ থেকেও ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। আরিফুরের আবেদনে আসামি মিঝুর হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়। আইনজীবীরা জানান, ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া আসামির কারাগারে যাওয়ার ৬-৭ মাসের মধ্যে জামিন পাওয়ার কথা নয়। এ অবস্থায় আরিফুরের জামিন আবেদন হাতে পেয়ে বেঞ্চের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জিন্নাহ অবকাশকালীন বেঞ্চের বিচারপতি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তখন অবকাশকালীন বেঞ্চের একজন বিচারপতি মিঝুর জামিনের ফাইল নিয়ে আসেন এবং দেখতে পান পুলিশ এ মামলায় দুটি সিজার লিস্ট করেছে। এর একটিতে মিঝুর কাছ থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখ আছে। আর অপরটিতে তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের কোনো তথ্য নেই। আসামি মিঝুর জামিন আবেদনের সময় যে সিজার লিস্টে ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখ নেই, সেটি আদালতের কাছে দাখিল করা হয়েছে। আদালত সেটি বিবেচনায় নিয়ে জামিন দিয়েছেন। কিন্তু ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য পাওয়ার পর আদালত ফৌজদারি বিধি শাখা থেকে মিঝুর জামিন আবেদনের ফাইলটি নিয়ে আসেন। তদন্ত করে দেখতে পান জামিন আবেদনের ফাইলে ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের তথ্যসংবলিত সিজার লিস্টের তিনটি পাতা এফিডেভিট ছাড়াই ঢোকানো আছে। এ অবস্থায় আদালত গত ১৮ অক্টোবর মিঝুর জামিন আবেদনের বিষয়টি হাইকোর্টের বিচারপতি মো. শওকত হোসেন ও বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদারের বেঞ্চের কার্যতালিকায় আনেন।
এ বিষয়টি শুনানিকালে ব্যারিস্টার খোকন প্রথমে সেকশনের লোকজনকে দায়ী করেন। কিন্তু সেকশনের লোকজন এর জন্য আইনজীবীকেই দায়ী করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। গতকাল ব্যারিস্টার খোকন এফিডেভিট দাখিল করে ভুলের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের অঙ্গীকারও করেন।
পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার খোকন আমাদের সময়কে বলেন, কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি। ওখানে একটা এনেক্সচার করা হয়েছে। জাজ সাহেব বলেছেন, দুটো এনেক্সচার করলে ভালো হতো। এটা করা হয়নি, যার কারণে দুঃখিত। কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি। তা হলে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইলেন কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা (আইনজীবীরা) দৈনিক কোর্টের কাছে অন্তত ১০ বার ক্ষমা চাই। এটা কোর্টের লিগ্যাল ল্যাঙ্গুয়েজ।’

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে