x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিপিএল এর পঞ্চম আসরের শিরোপা জিতল রংপুর রাইডার্স। মাশরাফির হাতে চতুর্থ ট্রফি

পুলিশের ফাইনাল রিপোর্ট

সস্ত্রীক অভিযুক্ত ফরহাদ মজহার

  শাহজাহান আকন্দ শুভ

১৩ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৭, ১০:৪৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

লেখক ফরহাদ মজহার অপহরণ মামলার তদন্তশেষে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট (মিথ্যা) দাখিল করেছে পুলিশ। তদন্তকালে অপহরণের কোনো প্রমাণ পায়নি গোয়েন্দা পুলিশ। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করেছেন। মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগে ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে দ-বিধির ২১১ এবং ১০৯ ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি গোলাম মোস্তফা রাসেল আমাদের সময়কে বলেছেন, আদালত পুলিশের অভিযোগ আমলে নিলে এ ব্যাপারে ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আখতারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দ-বিধির ২১১ ধারায় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, গত ৩ জুলাই ভোরে রাজধানীর শ্যামলীর রিং রোডের ১ নম্বর হোল্ডিংয়ের ‘হক গার্ডেন’ থেকে বেরিয়ে ফরহাদ মজহার অপহৃত হন বলে তার স্ত্রী ফরিদা আখতার আদাবর থানায় একটি জিডি করেন। পরে জিডি থেকে একটি অপহরণ মামলা করা হয়। ওই রাতেই যশোরে ঢাকাগামী একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে র্যাব-পুলিশ। পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ফরহাদ মজহার উল্লেখ করেন, তিনি অপহৃত হয়েছিলেন। তার ওই কথার সত্যতা নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিল পুলিশ। অপহৃত হওয়ার পর ফরহাদ মজহার পাঁচবার তার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছিলেন।

পুলিশ তার মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড যাচাই করে অর্চনা রানী নামে এক নারীকে আদালতে উপস্থিত করে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অর্চনা বলেন, তার জন্য অর্থ জোগাড় করতেই সেদিন ফরহাদ মজহার বেরিয়েছিলেন এবং তিনি টাকাও পাঠিয়েছিলেন।

ওদিকে দুজনের জবানবন্দি নিয়ে যখন আলোচনা-সমালোচনা চলছিল, তখন খুলনার একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পায় পুলিশ। তাতে ফরহাদ মজহারকে কথিত অপহরণের দিন বিকালে খুলনা নিউমার্কেটে একাকী ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। আরেকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ফরহাদ মজহার মোবাইল ব্যাংক এজেন্টের দোকানে।

ফরিদা আখতারের করা মামলায় বলা হয়, আমার স্বামী সাধারণত খুব ভোরে ঘুম থেকে জাগেন এবং লেখালেখি করেন। সকাল ৫টার দিকে আমার ঘুম ভাঙার পর আমি ওনাকে লেখার টেবিলে না দেখতে পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি এবং সারা ঘরে খুঁজতে থাকি। ইতোমধ্যে সকাল ৫টা ২৯ মিনিটে আমার স্বামী তার ফোন থেকে আমাকে কল দেন। তিনি ভয়ার্ত কণ্ঠে বলেন, ‘ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে, মেরে ফেলবে।’ এর পর ফোনটি কেটে যায়।

পরে পুলিশের উপস্থিতিতেই সারা দিনে ফরহাদ মজহারের ফোন থেকে আরও চারবার কল পান ফরিদা। সেসব ফোনালাপে ফরহাদ মজহার জানান, অপহরণকারীরা ৩৫ লাখ টাকা চেয়েছে; ওই টাকা পেলে তারা তাকে ছেড়ে দেবে।

পরিবারের জিডির ভিত্তিতে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে অনুসন্ধান করে যশোরে একটি বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করে। যশোর থেকে ঢাকায় নিয়ে আসার পর ফরহাদ মজহারকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় বিচারিক জবানবন্দি দেন এবং বিচারকের কাছ থেকে নিজের জিম্মায় বাড়ি ফেরার অনুমতি পান। তাকে বাসায় না নিয়ে রাতেই বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশর কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তকালে বিভিন্ন জনের জবানবন্দিসহ অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণ বলছে, ফরহাদ মজহার অপহৃত হননি। আর তার স্ত্রী ফরিদা আক্তার অপহরণের মিথ্যা অভিযোগ করেন। ফরহাদ মজহারও তার জবানবন্দিতে অপহরণের কথা উল্লেখ করেন। পুলিশ বলছে, তার স্ত্রী মিথ্যা অভিযোগ করলেও পরবর্তীকালে মামলা তোলেননি। এ কারণে ফরহাদ মজহারের পাশাপাশি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে আদালতে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে