এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র গৃহীত

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গতকাল রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’ এর পর সন্ধ্যায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আমাদের সময়কে বলেন, ‘পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে কাগজপত্র বঙ্গভবন থেকে পাঠিয়েছে শুনেছি। এখনো হাতে পাইনি। কাল (আজ বুধবার) দেখব। এখন আপাতত ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সবকিছু চলবে।’

গত ১০ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে বসে পদত্যাগপত্র পাঠান প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। সেটি ১১ নভেম্বর বঙ্গভবনে পৌঁছে। গতকাল এটি রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি তার ইচ্ছেমতো একজনকে এখন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন।

সংবিধানে প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হলে তা কত দিনের মধ্যে পূরণ করতে হবে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো বিধান নেই। সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করে থাকেন। এ অনুচ্ছেদে শুধু বলা আছেÑ ‘প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন।’ সংবিধানে প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হলে কী করণীয়, সে ব্যাপারে সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে।

এই অনুচ্ছেদে বলা হয়Ñ ‘প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে প্রধান বিচারপতি তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে ক্ষেত্রমত অন্য কোন ব্যক্তি অনুরূপ পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা প্রধান বিচারপতি স্বীয় কার্যভার পুনরায় গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারকের মধ্যে যিনি কর্মে প্রবীণতম, তিনি অনুরূপ কার্যভার পালন করিবেন।’

এর আগে ২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা যখন ছুটিতে যান, তখনই রাষ্ট্রপতি সংবিধানের এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেন। এখনো তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা যায়, ১ আগস্ট উচ্চ আদালতের বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে নিয়ে করা ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এ রায়ে প্রধান বিচারপতির দেওয়া বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন মন্ত্রী, দলীয় নেতা ও সরকারপন্থি আইনজীবীরা। সমালোচনার মধ্যেই ২ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধান বিচারপতি হঠাৎ এক মাসের ছুটির কথা জানিয়ে চিঠি দেন। পরদিন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর আইনমন্ত্রী জানান, প্রধান বিচারপতি ক্যানসারে আক্রান্ত। পরে ১১ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতির এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার ছুটি ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে