রাখাইনে সেনারা খুন-ধর্ষণ করেনি: মিয়ানমার

চোখে ধুলো দেওয়ার অপচেষ্টা–অ্যামনেস্টি # প্রতিবেদন হাস্যকর-এইচআরডব্লিউ

প্রকাশ | ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০৯

আমাদের সময় ডেস্ক

রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ, লুট এবং তাদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সেনাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর করা অভ্যন্তরীণ এক তদন্ত প্রতিবেদনে। বিবিসি গতকাল জানায়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সবার চোখে ধুলো দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে, মিয়ানমারের এমন প্রতিবেদন হাস্যকর। এদিকে সেনাবাহিনীর এহেন প্রতিবেদনে বিস্মিত বিশ্ব সম্প্রদায়ও।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের বিভিন্ন পুলিশ তল্লাশি চৌকিতে একযোগে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এ জন্য বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মিকে (আরসা) দায়ী করে এবং শুরু করে কথিত ‘শুদ্ধি অভিযান’। অভিযানের নামে ব্যাপক দমন-পীড়নের মুখে প্রাণ বাঁচাতে লাখো রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন। সে তথ্য-প্রমাণ বিবিসির কাছে আছে। জাতিসংঘও এটাকে ‘জাতিগত নিধনের প্রামাণ্য উদাহরণ’ বলেছে। কিন্তু এর পরও মিয়ানমার সেনাবাহিনী এ ধরনের প্রতিবেদন দিল।

সেনাবাহিনীর এই প্রতিবেদনকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ‘দোষ ঢাকার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি সত্য যাচাইয়ে জাতিসংঘের কমিটিকে দেশটিতে অবাধে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়।

রোহিঙ্গাদের প্রতি চরম দমন-পীড়নের অভিযোগের মধ্যে কড়া নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে নিয়ে যায় মিয়ানমার সরকার। তখন বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি জনাথন হেড চারপাশে ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে পান। দেশটি থেকে পালিয়ে এখন পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ফেসবুকে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কয়েক হাজার গ্রামবাসীর সাক্ষাৎকার নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সেনাসদস্যদের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। বিবৃতিতে উপরন্তু বলা হয়, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং তাদের হুমকিতেই হাজার হাজার মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে।