পাকিস্তানি মুরব্বির বার্তা গোপন

কাকরাইল মসজিদে দুপক্ষের সংঘর্ষ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তবলিগ জামাতের প্রধান কেন্দ্র কাকরাইল মসজিদে বিভক্ত দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুর হয়েছে। পাকিস্তানে তবলিগ জামাতের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মজলিশের এক সদস্য সফরের বার্তা গোপন করা এবং মতাদর্শগত বিরোধের সূত্র ধরে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে পাকিস্তানে তবলিগ জামাতের এক আয়োজনে বাংলাদেশের মজলিশে শূরা সদস্য ও ফায়সাল (আমির) সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম এবং হাফেজ মাওলানা জুবায়েরের যাওয়ার কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে জুবায়ের অংশ নেন। সেখানে তিনি তবলিগের আরেক মুরব্বি আহমেদ লাকশাহর সঙ্গে দেখা করেন। ওই সময় আহমেদ লাকশাহ বাংলাদেশের তবলিগ জামাতের জন্য একটি বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশে ফেরার পর মাওলানা জুবায়ের সে বার্তা বাংলাদেশি মুরব্বিদের জানাননি। এমনকি সফরের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে বললেও তা করেননি।

পরে শূরা সদস্যরা অন্য মাধ্যমে বার্তাটির বিষয়ে অবগত হন। এ নিয়ে মতবিরোধ জোরালো হয়। তবে বিষয়টি সমাধানে গতকাল সকালে কাকরাইল মসজিদে মাসোয়ারা (বৈঠক) ছিল। এ সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনাও হয়। কিন্তু আগের নানা বিরোধকে কেন্দ্র করে মসজিদের মধ্যেই দুগ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তবলিগের এক সাথী জানান, বাংলাদেশের পরিচালনা কমিটির শূরা সদস্য ১১ জন। এর মধ্যে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম এবং হাফেজ মাওলানা জুবায়েরের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং দীর্ঘদিনের। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন। তিন থেকে চার বছর ধরেই এই দলাদলি চলছে। এর আগে মাসোয়ারায় ঝামেলা হওয়ায় কোনো বৈঠক হতো না। সংকট নিরসনে সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে বৈঠক শুরু হয়। এ সময় ওয়াসিফুল ও জুবায়ের গ্রুপ একে অন্যের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করতে থাকেন। তখন দুপক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রথমে ধাক্কাধাক্কি, এর পর হাতাহাতি হয় তাদের মধ্যে। এ সময় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জুবায়ের গ্রুপের পক্ষ হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে ওয়াসিফুল গ্রুপকে ধাওয়া করলে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মাসোয়ারা কক্ষসহ মসজিদের ভেতরের কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করা হয় বলেও জানান তিনি।

তবে বিষয়টি জানার জন্য তবলিগ জামাতের মজলিশে শূরা সদস্য ও ফায়সাল (আমির) সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম এবং হাফেজ মাওলানা জুবায়েরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য মেলেনি। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মইনুল ইসলাম জানান, তবলিগ জামাতের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধের জেরে গতকাল দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি আপাত সুরাহা করা হয়েছে। এখনো ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কাকরাইল মসজিদের তবলিগ জামাতের দুগ্রুপ একে অন্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনছে। প্রায় চার বছর ধরে চলা এ বিরোধের জেরে গতকাল হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ বিরোধ নিয়ে এর আগেও দুপক্ষের মধ্যে মামলা পাল্টামামলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তাদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেও কোনো সমাধানে আসতে পারেননি।

এদিকে তবলিগ জামাতের দিল্লির মারকাজের মুরব্বি মাওলানা সাদকে ঘিরেও সম্প্রতি দুপক্ষের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। একপক্ষ আগামী ইজতেমায় তাকে বাংলাদেশে আনার পক্ষে, অন্যপক্ষ আবার বিরুদ্ধে। এ সংকট নিরসনে ওলামা মাশায়েখ একাধিকবার পরামর্শসভা করলেও বিষয়টির সুরাহা হয়নি। গত ১৪ নভেম্বর উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডের আয়েশা মসজিদে এ ইস্যুতে একটি সভাও হয়। সেখানে হেফাজতপন্থি আলেমরা অংশ নেন। তারা মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারিও দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেফাজত ইসলামের নায়েবে আমির নূর হোসাইন কাসেমী, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা আবদুল কুদ্দস, মাওলানা সাজিদুর রহমান প্রমুখ। তবে সংগঠনের আমির শাহ আহমদ শফীর উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার জন্য আসতে পারেননি। তার পক্ষে ছেলে মাওলানা আনাস বক্তব্য রাখেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে