বনানী হত্যাকাণ্ড

কিলিং মিশনে ছিনতাইকারী ভাড়াটে কিলার

  ইউসুফ সোহেল

১৭ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৭, ০০:২৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

বনানীতে জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এমএস মুন্সী ওভারসিজের মালিক মুন্সী সিদ্দিক হোসেন হত্যাকাণ্ডে গুলশান-বনানীর পেশাদার ছিনতাইকারীরা অংশ নেয়। তাদের ভাড়া করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্যই পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের কাছের (ব্যবসায়িক-পারিবারিক) কেউ জড়িত থাকতে পারে। ঘটনাটি পরিকল্পিত হলেও খুনে জড়িত পুরো চক্রটিই সাজাতে চেয়েছিল ডাকাতির নাটক।

এমএস মুন্সি ওভারসিজের ফটকের সিসি ক্যামেরাসহ ভবনটির আশপাশের কয়েকটি ভবনের অন্তত ২০টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কিলিং মিশনে সরাসরি মুখোশধারী ৪ যুবক অংশ নিলেও ভবনটির বাইরেও সন্দেহভাজন আরও ৩ যুবক মুখোশ পরে অবস্থান করছিল। স্থানীয় মোবাইল টাওয়ারের আওতাধীন ঘটনাস্থলের আশপাশের সব সচল মোবাইল ফোন (হত্যাকাণ্ডের ৫ ঘণ্টা আগে ও পরের) কললিস্ট যাচাই করে এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

অসমর্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনায় রাজধানীর বনানী ও কাকলী থেকে সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছতে পারলেও রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মুন্সী সিদ্দিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকেই তারা গ্রেপ্তার করতে পারেননি।

জানা গেছে, আর্থিক বিরোধের জের ধরেই মুন্সী সিদ্দিক খুন হয়ে থাকতে পারেন। তবে দুর্বৃত্তদের চাঁদা কিংবা টাকা লুটের উদ্দেশ্যে এ হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

এদিকে দেনা-পাওনা নিয়ে রিক্রুটিং এজেন্টের দালাল আবদুস সালামের সঙ্গে নিহতের বিরোধ থাকলেও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে কিনা তা এখনই বলতে চাচ্ছেন না তদন্তকারীরা। যদিও নিহতের স্বজনরা মুন্সী সিদ্দিক হোসেনের কাছে টাকা দাবি ও নিহতের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি সামনে এনে ঘটনার পর থেকে অভিযোগের তীর ছুড়ছেন আবদুস সালামের দিকেই। ঘটনার পর থেকে সালামকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বনানী থানার পুলিশ।

ব্যবসায়ী সিদ্দিক হত্যার ঘটনায় বুধবার দুপুরে নিহতের স্ত্রী জোসনা বেগম বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করেন। মামলাটি থানা-পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ছায়া তদন্ত করছে।

এ ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুুল মতিন আমাদের সময়কে বলেন, আমরা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি আছি। খুব শিগগিরই ভালো কিছু (আসামি গ্রেপ্তার) শোনাতে পারব বলে আশা করছি। নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে আবদুস সালামের খোঁজে কয়েক জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে।

নিহত মুন্সী সিদ্দিক হোসেনের জামাতা আবু হানিফ জানান, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতীর পাড়খিতে তার শ্বশুরকে দাফন করা হয়েছে। গতকালও র্যাব-পুলিশের পক্ষ থেকে তার কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে প্রশ্ন করা হয়েছিল। আবদুস সালামের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তকারীরা দেখছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি-উত্তর) এডিসি মো. শাহজাহান সাজু আমাদের সময়কে বলেন, মুন্সী সিদ্দিক হত্যা মামলার তদন্তে নিহতের ব্যবসায়িক, আর্থিক পারিবারিক সব বিষয়ই প্রাধান্য পাচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে