পুলিশকে দুই কোটি টাকা না দেওয়ায় ডাকাতি

  আশরাফুল আলম লিটন, মানিকগঞ্জ

১৮ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ১২:৫২ | প্রিন্ট সংস্করণ

মানিকগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ডেকে নিয়ে ২ কোটি টাকা চাঁদা চেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল আউয়াল ও এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে। অবৈধ সোনা কেনাবেচা, স্বর্ণালঙ্কার তৈরিতে অ্যাসিড ব্যবহার ও ভারতীয় কারিগর দিয়ে কাজ করানোসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাদের কাছে এ চাঁদা দাবি করা হয়। পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের চাঁদা চাওয়ার কয়েকদিন পর গত বুধবার স্বর্ণকার পট্টির নাগ জুয়েলার্সে ডিবি পরিচয়ে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ডাকাতির ঘটনা ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত করে তুলেছে।

জেলা স্বর্ণ শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ তোতা মিয়া বলেন, কয়েকদিন আগে মানিকগঞ্জ এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ চৌধুরী ফোন করে তাকে এবং সাধারণ সম্পাদক রঘুনাথকে সার্কেল এসপির অফিসে যেতে বলেন। সেখানে সার্কেল এসপি আবদুল আউয়াল তাদের দুজনকে বলেন, ‘আপনাদের দোকানগুলোয় অবৈধ সোনা কেনাবেচা হয়। স্বর্ণালঙ্কার তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ অ্যাসিড। আপনারা ভারত থেকে কারিগর এনে কাজ করাচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। তাই এ বিষয় নিয়ে একটা সমঝোতা করে ফেলেন। তা হলে আপনাদের ব্যবসা করতে অসুবিধা হবে না।’ এর পর সার্কেল এসপি ওই এনএসআই কর্মকর্তাকে টাকার বিষয়ে কথা বলতে বলেন। পরে আসিফ চৌধুরী তাদের দুজনের কাছে ২ কোটি টাকা দাবি করেন।

সাধারণ সম্পাদক রঘুনাথ কর্মকার বলেন, এত টাকা চাঁদা দেওয়া সম্ভব নয় বলে আমরা ওই দিন সার্কেল এসপির অফিস থেকে চলে আসি। পরের দিন তাদের পুনরায় ডেকে পাঠানো হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে দুই কোটি থেকে ৭০ লাখ টাকায় নেমে আসেন ওই দুই কর্মকর্তা। বিষয়টি সব সদস্যের সঙ্গে আলাপ করে জানানো হবে জানিয়ে আমরা চলে আসি। পরে সমিতির মিটিং ডেকে সব সদস্যকে ওই টাকার ব্যাপারে জানানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানান, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সব মালিককে নিয়ে মিটিং করে চাঁদার কথা জানালে বেশ কয়েকজন দোকান মালিক ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দেন। তবে অনেকইে টাকা দিতে অসম্মতি জানিয়েছিলেন। পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার চাঁদা দাবির পর থেকেই ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন তারা।

অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই দুই কর্মকর্তা। এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়িক বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতেই তাদের ডেকে আনা হয়েছিল। তাদের কাছে কোনো টাকা চাওয়া হয়নি।

মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল আউয়াল বলেন, এনএসআই কর্মকর্তাই আমার এখানে তাদের ডেকে এনেছিল। আমি তাদের কাছে কোনো টাকা চাইনি। ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা তাদের কাছে টাকা চাইতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ সুপার বলেন, ‘পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার চাঁদা দাবি সংক্রান্ত খবর আমার কানেও এসেছে। এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে। দায়ী সে যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নাগ জুয়েলার্সে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে একজন ধরা পড়েছে। পরিত্যক্ত অবস্থায় এক ভরির মতো স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাতির সঙ্গে জড়িতরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য। তাদের একজন নেতা আছে। এই নেতাই বিভিন্ন জেলা থেকে সদস্য সংগ্রহ করে। এ দলের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ডাকাতির অভিযোগও রয়েছে। এই দলের কয়েকজন এরই মধ্যে পুলিশের সঙ্গে ক্রসফায়ারে মারাও গেছে।

এদিকে ডাকাতির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্বর্ণকার পট্টির সব দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে