x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিপিএল এর পঞ্চম আসরের শিরোপা জিতল রংপুর রাইডার্স। মাশরাফির হাতে চতুর্থ ট্রফি

দুর্বল কোম্পানির অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি

  আবু আলী

১৯ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ছোট মূলধনী ও পুঞ্জীভূত লোকসানি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এসব কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা কম হওয়ায় এগুলোকে কেন্দ্র করেই কারসাজি চক্রের দৌরাত্ম্য। ফলে শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এসব দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সকর্তকা অবলম্বনের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, বাজারে ভালো শেয়ারের অভাব রয়েছে। এ জন্য ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে হবে। এ ছাড়া বাজারে কোম্পানি থাকলে তার ক্রেতাও থাকবে। এ জন্য অস্বাভাবিক কিছু হলে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দেখা উচিত। তবে তিনি নিজের অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করছেন সে বিষয় ভেবে সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন।

সম্প্রতি অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি পাওয়া এমন একাধিক কোম্পানির শেয়ার নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। অন্যদিকে তদন্ত কমিটি করে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে কাজ করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাজারে ইতিবাচক প্রবণতার সুযোগ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে একাধিক কোম্পানির শেয়ার নিয়ে যাতে কারসাজি না করতে পারে, সেদিকে সব পক্ষকে নজর রাখার পরামর্শ বাজার সংশ্লিষ্টদের।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ছয় মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক বেড়েছে ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ। অর্থাৎ সূচকে অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম যেখানে গড়ে ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে মন্দ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩৪ থেকে ১৮৪ শতাংশ পর্যন্ত।

কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার কোনো কারণ নেই বলে জানানোর পরও শেয়ারের দাম বাড়ছেই।

জানা গেছে, যেসব কোম্পানির কারখানা বা উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ কিংবা যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ দিতে পারে না কিংবা যেসব কোম্পানি বার্ষিক সাধারণসভা করতে পারে না তাদের মন্দ কোম্পানি হিসেবে ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত করা হয়। তবে বিশ্বের কোনো দেশেই এভাবে ক্যাটাগরিভুক্ত করা হয় না। বাংলাদেশে শেয়ার বিনিয়োগকারীদের মন্দ কোম্পানি হিসেবে সতর্ক করে দেওয়ার জন্যই এ কোম্পানিগুলোকে ‘জেড’ ক্যাটাগরি করে দেওয়া হয়। এর পরও এসব কোম্পানিতেই ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।

ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ছয় মাসে জেড ক্যাটাগরির সাভার রিফেক্টরিজের শেয়ারের দাম বেড়েছে ১৮৪ শতাংশ। চলতি বছরের ১২ জুন কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ৪৯ টাকা। গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১৪২ টাকায় ৯০ পয়সা উঠে এসেছে। অর্থাৎ প্রায় ৫ মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ১৮৪ শতাংশ। ইমাম বাটনের শেয়ারের দাম বেড়েছে ১৫১ শতাংশ। ছয় মাস আগে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ১৩ টাকা ৯০ পয়সা। গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৩৭ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে দাম বেড়েছে ১৫১ শতাংশ। এ ছাড়া একই ক্যাটাগরির দুলামিয়া কটনের শেয়ারের দাম ১৩৭ শতাংশ, কে অ্যান্ড কিউর শেয়ারের দাম ১৩৬ শতাংশ, আজিজ পাইপসের শেয়ারের দাম ৮৩ শতাংশ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের শেয়ারের দাম ৭৪ শতাংশ, বিডি ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ারের দাম ৬৯ শতাংশ, জীল বাংলার শেয়ারের দাম ৬৬ শতাংশ এবং মেঘনা পেটের শেয়ারের দাম ৩৪ শতাংশ বেড়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে