সংশোধন হচ্ছে ফোরজি নীতিমালা

পরিবর্তন আসছে সংজ্ঞায়ও

  শাহিদ বাপ্পি

১৯ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৭, ০০:৩৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফোরজি নীতিমালা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল, মিলেছিল প্রয়োজনীয় অনুমোদনও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অপারেটরদের দাবির মুখে সংশোধিত ওই নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে; এমনকি পরিবর্তন আনা হচ্ছে ‘ফোরজি’-র সংজ্ঞায়ও।

পরিবর্তিত নীতিমালায় বেতার তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) কনভারশন ফি ৭.৫ মিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ৪ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। অপারেটরদের বলা হয়েছিল গ্রাহকদের ১২ বছরের তথ্য সংরক্ষণ করার। সেটি নেমে আসছে ২ বছরে। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) বাবদ গ্রাহকের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ অপারেটরদের ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদনে যেসব বাধ্যবাধকতা ছিল, তা-ও শিথিল করা হয়েছে।

বর্তমানে অপারেটররা ৯০০-১৮০০ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম দিয়ে টুজি সেবা দিচ্ছে। আর ২১০০ ব্যান্ডের স্পেকট্রামের মাধ্যমে শুধু থ্রিজি সেবা দিচ্ছে। টেকনিউট্র্যালিটি সুবিধা প্রদান করলে ব্যান্ড স্পেসিফিকেশন আর থাকবে না। অপারেটররা যে কোনো ব্যান্ডের স্পেকট্রামের মাধ্যমে টুজি, থ্রিজি ও ফোরজি পরবর্তী সেবা দিতে পারবে। তবে শর্ত হচ্ছে, কোনো অপারেটর তার কাছে বিদ্যমান সমস্ত তরঙ্গ কনভারশন করলেই এ সুবিধা পাবে; আংশিক কনভারশনে নয়। এ ছাড়া আংশিক কনভারশনের ক্ষেত্রে অপারেটরকে পূর্বনির্ধারিত সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলারই কনভারশন ফি দিতে হবে।

ফোরজির পরিবর্তিত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ন্যূনতম ১০০ এমবিপিএস (মেগাবিট পার সেকেন্ড) স্পিডের পরিবর্তে ২০ এমবিপিএস হলেই ফোরজি হিসেবে চিহ্নিত হবে। এ ছাড়া যেসব তরঙ্গের টেকনিউট্রালিটি নেওয়া হবে, সেসব তরঙ্গ দিয়ে অপারেটররা ফোরজি, থ্রিজি, টুজিসহ সব সেবা প্রদান করতে পারবে বলেও নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে। অপাটেররার দীর্ঘদিন ধরে টেকনিউট্রালিটর সুবিধার আবেদন করে আসছিল।

নীতিমালায় ফোরজির লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ কোটি টাকা, বার্ষিক লাইসেন্স ফি ৫ কোটি, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারী মোবাইল ফোন অপারেটরকে ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে দিতে হবে ১৫০ কোটি টাকা, আবেদন ফি ৫ লাখ টাকা।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম আমাদের সময়কে বলেন, অপারেটররা ২৩টি বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। গত ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতিতে আমরা তাদের আপত্তি ও গাইডলাইন দুটো নিয়ে বসে দেখেছি। তাদের সব আপত্তির যৌক্তিক সমাধান করা হয়েছে। এখন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি। আমরা যত দ্রুত সম্ভব ফোরজি নিলামে যাব, বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি যোগ করেন, অপারেটররাও এ ক্ষেত্রে প্রস্তুত রয়েছে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বর্তমানে তিউনিশিয়া ও ফ্রান্স সফরে রয়েছেন। সফরের প্রাক্কালে এ প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ফোরজি চালু নিয়ে এখন কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। আমাদের কাছ থেকে যেটুকু সাপোর্ট চাওয়া হয়েছিল, আমরা তা দিয়েছি। পাশাপাশি নতুন অপারেটরদের আসার পথও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে ফ্রিল্যান্সার সম্মেলনে প্রধান অতিথি থেকে পেপ্যাল সেবার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, আমরা এ বছরের মধ্যেই ফোরজির নিলাম করতে যাচ্ছি। আমি তাদের সম্পূর্ণ বেতার তরঙ্গের (স্পেকট্রাম) টেকনিউট্র্যালিটি দিয়ে দিচ্ছি। তারা যে কোনো সময়, যে কোনো স্থানে সেটির প্রয়োগ করতে পারে; এমনকি ভবিষ্যতে ফাইভজি সিক্সজি এলেও।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে