x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিপিএল এর পঞ্চম আসরের শিরোপা জিতল রংপুর রাইডার্স। মাশরাফির হাতে চতুর্থ ট্রফি

রায়ের পর্যবেক্ষণ বাতিলেই গুরুত্ব রাষ্ট্রপক্ষের

  কবির হোসেন

১৯ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৭, ১৩:৪৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের দেওয়া পুরো রায় বাতিল চাওয়া হবে রিভিউ আবেদনে। তবে রায়ে দেওয়া পর্যবেক্ষণ বাতিলের বিষয়টিই গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। আর এ লক্ষ্যে রিভিউ আবেদনে প্রায় অর্ধশত যুক্তি তুলে ধরা হতে পারে। আবেদনের ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আপিল বিভাগের সাত বিচারপতি একমত পোষণ করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে রায় দিয়েছেন। এ রায় পুরো বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা কতটা তা আমাদের জানা নেই। রিভিউ আবেদনে আপিল বিভাগের দেওয়া ‘বিতর্কিত’ সব পর্যবেক্ষণ বাতিলের বিষয়টিই গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। যেসব পর্যবেক্ষণে রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি রয়েছে, সেগুলো আলাদা করে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হচ্ছে। মূল মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় দাবি করে এসব পর্যবেক্ষণ বাতিলের পক্ষে যুক্তি দেখানো হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, রিভিউ আবেদন তৈরির কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। এটা অনেক বড় একটা কাজ। এ কাজ করতে ১১ সদস্যের একটি টিম কাজ করছে। আশা করছি এ মাসের মধ্যেই আমরা রিভিউ করতে পারব।

গত ১ আগস্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হয়। রায়ে জাতীয় সংসদ, নির্বাচন কমিশন, রাজনীতি, গণতন্ত্র, সেনাশাসনসহ নানা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সরকার সমর্থকরা। বিশেষ করে বিচারপতি এসকে সিনহার পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগেরও দাবি তোলা হয়। অবশেষে ১০ নভেম্বর এসকে সিনহা সিঙ্গাপুর থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরো রায়টা বাতিল চেয়ে এখন আপিল বিভাগের কাছে রিভিউ আবেদন করা হবে। সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। তৈরি করা হয়েছে খসড়া রিভিউ আবেদন।

সূত্রমতে, খসড়া রিভিউ আবেদনে বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। বলা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বাধীন গণপরিষদে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১৯৭২ সালের আদি সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে বিচারপতি অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে নেওয়া হয়। পরে সামরিক ফরমানের ক্ষমতাবলে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বিচারক অপসারণসংক্রান্ত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানের ৫ম ও ৭ম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেন। ফলে সরকার সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান বাতিল করে ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে ’৭২-এর আদি সংবিধানের ৯৬ অনুুচ্ছেদ পুনর্বহাল করে। যেহেতু আদি সংবিধানে বিচারপতি অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ছিল, সেহেতু এটি সংবিধান পরিপন্থী নয়।

যুক্তিতে আরও বলা হচ্ছে, পঞ্চদশ সংশোধনীর সময় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান বাতিল করা হলে একটা সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হতো। এ কারণে ষোড়শ সংশোধনী এনে ওই বিধান বাতিল করে ‘৭২-এর ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিচারপতি অপসারণের ক্ষেত্রে একটি আইন প্রণীত হবে। কিন্তু ওই আইন প্রণয়নের আগেই ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়। ওই রিট ছিল অপরিপক্ব। আর বিষয়টি এমন নয়, সংসদ সদস্যরা হাত তুললেই বিচারপতি অপসারিত হবেন। অভিযোগের তদন্ত ও বিচারপতিরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন। যুক্তিতে আরও বলা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা এই সংবিধান পেয়েছি। এই সংবিধানের মাধ্যমেই সংসদের সৃষ্টি। সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। এ সংসদের প্রতি অবিশ্বাস, অনাস্থা আনা দুঃখজনক। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা রায়ে জাতীয় সংসদকে শিশু ও অপরিপক্ব উল্লেখ করে, সংবিধানের ১১৬ ও ৭০ অনুচ্ছেদ, সংরক্ষিত নারী আসন, রাজনীতি, নির্বাচন কমিশন নিয়ে যেসব পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, তা মূল মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় উল্লেখ করে সেগুলো বাতিল চাওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে