x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিপিএল এর পঞ্চম আসরের শিরোপা জিতল রংপুর রাইডার্স। মাশরাফির হাতে চতুর্থ ট্রফি

বিএনপি ও জাপায় বিদ্রোহের ঘণ্টা

  নজরুল মৃধা, রংপুর

২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ১২:৪৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও বিএনপি ও জাতীয় পার্টিতে (জাপা) বিদ্রোহের ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যুবদলের এক নেতা এবং জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তারই ভাতিজা আসিফ ও সাবেক এক নেতা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় দুদলের ঘরের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ দুটি দলের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে আছে আওয়ামী লীগ। দলটির রংপুর জেলা সদস্য রাশেক রহমান মেয়রপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত জমা দেননি। ফলে আওয়ামী লীগে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। অন্য প্রার্থীদের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন দলটির মেয়রপ্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু।

এদিকে বিএনপির প্রার্থী কাউছার জামান বাবলা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এ সরকারের অধীনে অতীতে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো প্রশ্নবিদ্ধ। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মেয়র পদে ১৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। গতকাল জমা দেওয়ার শেষ দিনে ১৩ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তারা হলেনÑ আওয়ামী লীগের সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, বিএনপির কাউছার জামান বাবলা, জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা জাপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এরশাদের ভাতিজা সাবেক এমপি আসিফ শাহরিয়ার, যুবদল নেতা নাজমুল আলম নাজু, সাবেক জাপা নেতা ও সাবেক মেয়র আব্দুর রউফ মানিক, সুইটি আনজুুম, আব্দুল মজিদ, সাকিল রায়হান, মেহেদি হাসান বনি, বাসদের আব্দুল কুদ্দুস, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা, এনপিপির সেলিম আকতার। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাশেক রহমান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত জমা দেননি।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হয়ে অন্তত ১৭ জন মাঠপর্যায়ে নিজেকে জানান দিয়েছিলেন। দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় প্রার্থী হিসেবে সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুকে মনোনয়ন দেন। এর পর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা শেষ পর্যন্ত হয়তো ঝন্টুর পক্ষে থাকবেন না। পরবর্তী সময়ে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভা ডাকা হয়। সভায় সবাই ঝন্টুর পক্ষে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করার জন্য মাঠে থাকবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

এদিকে জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে মনোনয়ন দেওয়ায় বেঁকে বসেছেন তারই ভাতিজা আসিফ। তিনি নির্বাচন করবেন বলে অটল আছেন। আসিফ যদি নির্বাচন থেকে সরে না আসেন, তা হলে তার প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করা হবে; কিন্তু আসিফ এরশাদের সতর্কবার্তা আমলে না নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ফলে জাপার বিভক্তি প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক পৌর মেয়র আব্দুর রউফ মানিকও গতকাল মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। জাতীয় পার্টিতে তারও বিরাট ভোটব্যাংক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ৫ প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠালে কাউছার জামান বাবলাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে খুশি হতে পারেননি জেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল আলম নাজু। তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে গতকাল মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

নাজমুল আলম নাজু জানান, দল তার প্রতি অবিচার করেছে। মেয়র পদে তিনিই যোগ্য প্রার্থী। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার চেয়ে বেশি ভোট পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, আসিফ ও মানিক জাতীয় পার্টির ভোটব্যাংককে হাত দিতে পারবে না। জনসমর্থন তার পক্ষে রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হব। বিদ্রোহী প্রার্থী আসিফ বলেন, আমি এমপি ছিলাম। রাজনীতি করি অনেক দিন ধরে। ভোটাররা আমার পক্ষে। আশা করি আমি জয়ী হব।

আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু বলেন, সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ। নৌকা বিজয়ী হবে।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ রায় জানান, গতকাল সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ২৫ ও ২৬ নভেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৩ ডিসেম্বর এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৪ ডিসেম্বর। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ ডিসেম্বর।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে