দুবাইয়ে বসে নিয়ন্ত্রণ ঢাকার অপরাধজগৎ

  হাবিব রহমান

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত কয়েক বছর ধরে এক রকম স্থায়ী আস্তানা গড়েছেন দুবাইয়ে। তবে মাঝেমধ্যেই তাকে লন্ডনেও দেখা যায়। কিন্তু যেখানেই অবস্থান হোক না কেন, সব সময় তার নজর থাকে ঢাকায়। ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক সময়ের ত্রাস পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ওরফে মন্টির ইশারায় এখনো চলছে অনেক কিছু। ঢাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে জিসানের বিশ্বস্ত তিন সহযোগী। ওই তিনজনের সঙ্গে কাজ করছে আরও বেশ কয়েকজন। চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে তারা। চাঁদাবাজির একটি বড় অংশ জিসানের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে অ্যাপসভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা নিয়ে কাজ করা একটি গোয়েন্দা সংস্থা সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

ইন্টারপোলের রেড নোটিশে থাকা নয়াটোলার জিসান ঢাকার এক সময়ের ত্রাস। রাজধানীর মালিবাগে সানরাইজ হোটেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দুই কর্মকর্তাসহ চাঞ্চল্যকর অনেক হত্যাকা-ের নেপথ্যের নায়ক এই জিসান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এক সময় বিএনপির কয়েক নেতার সঙ্গে খুব সখ্য ছিল জিসানের। বর্তমানে জিসান দুবাই বসে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের একটি সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তাদের মাধ্যমে তার লোকজন প্রভাব বিস্তার করে থাকে। ঢাকায় জিসানের প্রধান ক্যাডারের নাম মো. জাফর। তাকে সহযোগিতা করেন তৌফিক, মিরাজ, মোফাজ্জল, হারুন, ইসরাফিল, বাবু, মিলন, সজল, দিদার, রনি, লিটন। ইতোমধ্যে একটি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এসেছে বেশ কয়েকজনের নাম।

সূত্র জানায়, পিডব্লিউডি, বিদ্যুৎ, সিটি করপোরেশন ও ক্রীড়া পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে জিসানের ঢাকাইয়া টিম। জিসানের সঙ্গে দেখা করতে মাঝেমধ্যেই দুবাই উড়াল দেন জাফর। এ ছাড়া হুন্ডির মাধ্যমে জিসানের কাছে টাকাও পাঠান। অস্ত্র দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন জিসানের আরেক ঘনিষ্ঠ সহচর মিরাজ। মগবাজারে জিসানের নাম ব্যবহার করে অপরাধ কার্যক্রম চালাচ্ছে শোভন, রনি, সেন্টু, স্বপন। ডিশ ব্যবসাসহ অনেক কিছুর নিয়ন্ত্রণ এখন এই চক্রের হাতে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জিসান দুবাইয়ে হোটেল ব্যবসা করছেন। সেখানে দুটি হোটেলের কর্ণধার। নামে বেনামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। তার ব্যবসায়ী সহযোগীর ভূমিকায়ও জাফরকে দেখা যায়।

২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর চারদলীয় জোট সরকার ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামের তালিকা প্রকাশ করে পুরস্কার ঘোষণা করে। এ তালিকার অন্যতম ৪৭ বছর বয়সী জিসান। তার বিরুদ্ধে শুধু হত্যা মামলাই আছে ৮টি। ডিবি পুলিশ হত্যা ছাড়া আনসার সদস্য হত্যা, বাড্ডায় তোবা গ্রুপের এমডির শ্বশুরসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত হত্যাকা-ে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর রয়েছে ভারতীয় নাগরিকত্ব। পুরস্কার ঘোষণার পর প্রথমে বাংলাদেশ থেকে জাফরের সহায়তায় কুমিল্লা দিয়ে ভারতে ঢোকেন জিসান। সেখান থেকে দুবাই পাড়ি জমান।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জিসানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অ্যাপসের ওপর নির্ভরশীল তার ঢাকার অনুসারীরা। বিশেষ এই অ্যাপস নজরদারির মাধ্যমে তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি উইং।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান আমাদের সময়কে বলেন, সব ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর নজর রাখছে র্যাব। শুধু জিসান নয়, অপরাধী যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন, সেসব বিবেচনা করে না র্যাব। অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, জিসানের হয়ে ঢাকায় কাজ করছে এমন বেশ কয়েকজনের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যে কোনো সময় তাদের গ্রেপ্তারও করা হতে পারে।

অপর একটি সূত্র জানায়, কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা করছে কয়েকটি চক্র। ওই চক্রগুলোর বিষয়েও সতর্ক রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। কারা সত্যিকার অর্থে শীর্ষ সন্ত্রাসীর হয়ে কাজ করছে, আর কারা প্রতারণা করছেÑ সেটিও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে