জন্ম নেয় নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ

  শান্তা মারিয়া

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বমানচিত্রে জন্ম নেয় নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। বাংলার আকাশে ওড়ে স্বাধীন দেশের পতাকা। ত্রিশ লাখ শহীদ, দুই থেকে তিন লাখ যুদ্ধাহত নারী, বুদ্ধিজীবী হত্যা, যুদ্ধশিশু, যুদ্ধাহত যুবশক্তি, বিধ্বস্ত অবকাঠামো, লুণ্ঠিত অর্থনীতিÑ এসবের মধ্যেই আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।

এর আগে বাঙালিদের নিশ্চিহ্ন করতে পাকিস্তানিরা গ্রহণ করে পোড়ামাটি নীতি। তারা এ দেশের ভূমি অধিকার করতে চেয়েছে। এ দেশের মানুষকে হত্যা করে কায়েম করতে চেয়েছে নিজেদের রাজত্ব। নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে দেশমাতৃকাকে ক্ষত-বিক্ষত করে হানাদার বাহিনী।

ওই সময় মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়লাভের আগেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভুটান। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভুটান এ স্বীকৃতি প্রদান করে। যুদ্ধকালীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মিত্র ছিল ভারত। ২৫ মার্চের কালরাত্রির পর থেকেই প্রাণ বাঁচাতে ভারতীয় সীমান্তের দিকে যাত্রা শুরু করে অসংখ্য মানুষ। পাকিস্তানিরা যখন বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে গণহত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ চালাতে থাকে, তখন দলে দলে নিঃসম্বল সাধারণ মানুষ ছুটে যান সীমান্তের দিকে। তারা শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নেয় ভারতে। ১ কোটি ১৭ লাখের ওপর শরণার্থী ভারতের আশ্রয়শিবিরগুলোয় আশ্যয় নেয়। সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় ভারত, বিশেষভাবে পশ্চিমবঙ্গ। শরণার্থী শিবির স্থাপন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দান, আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসাÑ সবই হয় ভারত সরকারের সহায়তায়। ৬ ডিসেম্বর ভারত অনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ভারতের পার্লামেন্টে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের ঘোষণা দেন ইন্দিরা গান্ধী। বিপুল জয়ধ্বনির মধ্যে সে প্রস্তাব পাস হয়।

১৬ ডিসেম্বর বিজয় লাভের পর এক মাসের মধ্যে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে পূর্ব জার্মানি প্রথম দেশ হিসেবে ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়া ১২ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) ১৩ এবং নেপাল ১৬ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয়। আন্তর্জাতিক লড়াইয়ে বাংলাদেশের বড় মিত্র সোভিয়েত ইউনিয়ন ২৬ জানুয়ারি স্বীকৃতি প্রদান করে। সোভিয়েত ব্লকের অন্য দেশগুলো এ সময়ের কাছাকাছি স্বীকৃতি দেয়। যুক্তরাজ্য স্বীকৃতি দেয় ৪ ফেব্রুয়ারি। জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ের মধ্যে ইউরোপের অনেক দেশ স্বীকৃতি দিতে থাকে। বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে বড় ভূমিকা রাখেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তিনি যুদ্ধ চলার সময়ই পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশ সফর করে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত প্রবাসী বাঙালিরাও বাংলাদেশের প্রতি বিদেশের সমর্থন আদায়ে কাজ করেন।

আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সবার আগে সেনেগাল ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও মালোয়েশিয়া ২৫ ফেব্রুয়ারি এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইরাক ৮ জুলাই স্বীকৃতি দেয়। পাকিস্তানের মিত্র হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিরোধিতাকারী যুক্তরাষ্ট্র ৪ এপ্রিল ১৯৭২ এবং চীন ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। পাকিস্তান স্বীকৃতি দেয় ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। সৌদি আরব ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। এর মধ্যে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ কমনওয়েলথের সদস্যভুক্ত হয়; আর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে ১৯৭৪ সালে। ওই বছরই ওআইসির সদস্যপদ পায় বাংলাদেশ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে