x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিপিএল এর পঞ্চম আসরের শিরোপা জিতল রংপুর রাইডার্স। মাশরাফির হাতে চতুর্থ ট্রফি

খালেদা জিয়ার সম্পদের খোঁজে এনবিআর

  আবু আলী

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সম্পদের খোঁজে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর সূত্র জানায়, গত ১৪ নভেম্বর আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ১১৩ (এফ) ধারার বিধান অনুসারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে খালেদা জিয়ার হিসাবের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠান কর অঞ্চল ৮-এর উপকর কমিশনার। চিঠিতে বলা হয়, খালেদা জিয়ার কর নির্ধারণ কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে দপ্তরের সব শাখায় রক্ষিত সব ধরনের হিসাবের পরিপূর্ণ তথ্য প্রয়োজন। ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে তথ্য প্রদানের তারিখ পর্যন্ত সব তথ্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়। রাজস্ব আহরণের স্বার্থে বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যথাযথ গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে সরকারি রাজস্ব আহরণে সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।

বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, উপকর কমিশনারের চিঠি পাওয়ার পর বিএসইসির সহকারী পরিচালক সৈয়দ গোলাম মওলা সংশ্লিষ্ট করদাতার সব ধরনের তথ্য চেয়ে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টের কাছে চিঠি পাঠান।

চিঠিতে বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়ার নামে বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ব্রোকারেজ হাউস/প্রতিষ্ঠানে বিও হিসাব পরিচালিত বা রক্ষিত থাকে অথবা তার তথ্য সংরক্ষিত থাকে তা হলে ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে তথ্য পাঠানোর দিন পর্যন্ত সময় পর্যন্ত হাল নাগাদ বিবরণী, শেয়ারের ক্রয়মূল্য, বাজারমূল্য, বিও হিসাবে জমা, বিও হিসাবের স্থিতি, উত্তোলনের তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করেন। সেখানে আগে ছিল বর্তমানে বন্ধ অথবা সুপ্ত অবস্থায় থাকলেও চাহিদা অনুসারে তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্র জানিয়েছে, কমিশনের চিঠি পাওয়ার পর ২৯ নভেম্বর ডিএসইর সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম ভূইয়া সব স্টেকহোল্ডার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠান। চিঠিতে খালেদা জিয়ার নামে কোনো বিও হিসাব পরিচালিত হয়ে থাকলে তার তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করা হয়। বেগম খালেদা জিয়ার বিও হিসাব খোলা ফরম (স্বাক্ষরিত কার্ডসহ), লেনদেন খতিয়ান (২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে হালনাগাদ), পোর্টফোলিও স্টেটমেন্ট (অর্থবছর ভিত্তিক), ডিপি-০১, ডিপিএ-৬/ডিপি-০৪ ইত্যাদি তথ্যের সত্যায়িত কপি তিন কার্য দিবসের মধ্যে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।

অন্যদিকে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ১১৩ (এফ) ধারা অনুসারে বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশের সব তফসিলি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, লিজিং ও বীমা কোম্পানি, সঞ্চয় অধিদপ্তর এবং সব ডাকঘরে ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে চিঠি পাওয়া পর্যন্ত পরিচালিত সব ধরনের লেনদেনের হিসাব বিবরণী সংগ্রহ করে কর অঞ্চল ৮-এর কর সার্কেল ১৬৩ উপকর কমিশনারের কাছে পাঠাতে বলা হয়।

ব্যাংক হিসাব তলব করেছে এনবিআর। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ১১৩ (এফ) ধারা অনুসারে খালেদা জিয়ার বাংলাদেশের সব তফসিলি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, লিজিং ও বীমা কোম্পানি, সঞ্চয় অধিদপ্তর এবং সব ডাকঘরে ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে চিঠি পাওয়া পর্যন্ত পরিচালিত সব ধরনের লেনদেনের হিসাব বিবরণী সংগ্রহ করে কর অঞ্চল ৮-এর কর সার্কেল ১৬৩ উপকর কমিশনারের কাছে পাঠাতে বলা হয়। কর অঞ্চল ৮-এর কর কমিশনার মোহা. আবু তাহের চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সব তফসিলি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, লিজিং ও বীমা কোম্পানি, সঞ্চয় অধিদপ্তর এবং সব ডাকঘরকে চিঠি পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে তথ্য পাঠাতে হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আহমেদ আজম খান আমাদের সময়কে বলেন, সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ দুরভিসন্ধিমূলক। তার হিসাবে কোনো অনিয়ম পাবে না। সব কিছুই ঘোষণা দেওয়া আছে। তবে আমাদের আশঙ্কা সরকার হয়রানি করার জন্য এটি করতে পারে।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ২৫ এপ্রিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব তলব করেছিল এনবিআরের গোয়েন্দা শাখা। পরে একই বছরের শেষের দিকে ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। অবশ্য বেগম খালেদা জিয়া ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার আবেদন এনবিআর পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কর ফাইলটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায় এনবিআর। পরে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর আর আলোর মুখ দেখেনি সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর কর ফাইল।

২০১১ সালে করা ওই আবেদনে বলা হয়, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমুদয় ব্যাংক হিসাব জব্দ আছে, যাহা ইতোপূর্বে একাধিক আবেদন করা সত্ত্বেও অবমুক্ত করা হয়নি। খালেদা জিয়ার নামে যেহেতু এনবিআরের কোনো মামলা নেই, তাই ব্যাংক হিসাবগুলো অবমুক্ত করতে আইনগত বাধা নেই।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো কর মামলা নেই, তবু হিসাবগুলো খুলছে না এনবিআর। ব্যাংক হিসাবগুলো ২০০৭ সালের শেষের দিকে জব্দ করেছিল। ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব জব্দে ভূমিকা রেখেছিল। পরবর্তী সময়ে মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার ব্যাংক হিসাব খোলা হলেও, এখনো জব্দ রয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে