জেরুজালেম নিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে নিন্দা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ০১:৪৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বসম্প্রদায়ের মতামত তোয়াক্কা না করে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা দেওয়ায় বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় বইছে। মার্কিনবিরোধী দেশগুলো তো বটেই, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও। খবর বিবিসি, আলজাজিরা ও এএফপি।

সমালোচনার মূল ভাষ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই অঞ্চলে শান্তির পথ একেবারে বন্ধ করে দিলেন। যুক্তরাজ্যের ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি মঈনু হোসাইন একে মধ্যপ্রাচ্যে ‘যুদ্ধ ঘোষণার’ শামিল বলে বর্ণনা করেছেন। যদিও ট্রাম্পের ঘোষণায় খুশি ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তিন ধর্মের তীর্থস্থান হিসেবে স্বীকৃত জেরুজালেমকে শুধু ইরায়েলের রাজধানী ঘোষণায় ফিলিস্তিনের গাজায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একে অগ্রহণযোগ্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। এ ছাড়া মার্কিন মিত্রদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সৌদি আরব, পাকিস্তানও ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে ইরান, সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ ট্রাম্পের এ ঘোষণার সমালোচনা করেছে।

সৌদি আরব এ ঘোষণাকে অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন হিসেবে বর্ণনা করেছে। সৌদি রয়্যাল কোর্টের বিবৃতির বরাত দিয়ে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়ার প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। একই সঙ্গে এটি জেরুজালেম প্রশ্নে ঐতিহাসিকভাবে আমেরিকার নিরপেক্ষ অবস্থানের বিপরীত।

এর আগে গত মঙ্গলবার ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়ে সৌদি বাদশাহ সালমান বলেছেন, তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এ পদক্ষেপের কারণে বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহিদ খাকান আব্বাসী বলেছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি এবং সেখানে দেশটির দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধী। এ বিষয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের অনুরোধ সত্ত্বেও আল কুদস আল শরিফের জেরুজালেম বৈধ ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বলেছেন, তার সরকার মার্কিন ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সমর্থন করছে না। এটি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনার জন্য সহায়ক হবে না। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তিনি এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন না। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ভঙ্গ করে ট্রাম্প যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তিনি সমর্থন করেন না। ‘পৃথক দুই রাষ্ট্র’ নীতিই এ সমস্যার সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন তিনি, যা এত দিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিয়ে আসছিল। ট্রাম্পের ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রধান কূটনীতিক। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, জেরুজালেমের কী হবে, তা শুধু আলোচনার ভিত্তিতেই হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত সোয়া ১২টার দিকে (বাংলাদেশ সময়) জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম, যারা জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিল।

প্রসঙ্গত, মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিস্টানÑ এ তিন সম্প্রদায়েরই গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা জেরুজালেমে অবস্থিত। ১৯৬৭ সালে ৬ দিনের যুদ্ধে জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল। কিন্তু সেটি কখনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। তবে ইসরায়েল সব সময় বলে আসছে, অভিন্ন জেরুজালেম তাদের রাজধানী। অন্যদিকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পশ্চিম জেরুজালেমকে দাবি করে আসছে ফিলিস্তিনিরা। জেরুজালেমের অধিকার নিয়ে অনেক রক্তপাত হয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার মাধ্যমে আবারও রক্তপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে