রংপুরে লাঙলই এগিয়ে

  আসাদুর রহমান

১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:৪৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি নির্বাচনগুলোকে মহড়া হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে চলতি মাসেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জন্মশহরে গত সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হন। তবে এবার মনোনয়ন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলটির মধ্যে মতবিরোধ, বিএনপির অবস্থান শক্তিশালী করতে না পারা এবং সম্প্রতি রংপুর সিটিতে যুক্ত হওয়া ইউনিয়নগুলোয় লাঙলের সমর্থন বেশি হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, রংপুর সিটি নির্বাচনে জয়ী হবেন জাপা প্রার্থী। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেও একই তথ্য উঠে এসেছে। আওয়ামী লীগের অন্তর্দ্বন্দ্বের সুযোগে এবার লাঙ্গল জয়ী হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। সব মিলিয়ে জাতীয় পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জয়ী হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা গত বৃহস্পতিবার রংপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে যা যা প্রয়োজন, তা-ই করা হবে। নির্বাচনে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যদের নিয়ে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধে ২২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ২২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে দায়িত্ব পালন করছে জানিয়ে সিইসি বলেন, শুক্রবার থেকে ৩৩টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৩৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবেন।

এদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিগত দিনের উন্নয়ন কর্মকা- প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শনের দায়ে ৩ হাজার এবং আচরণবিধি অমান্য করে রাস্তা বন্ধ করে প্রচার চালানোর দায়ে তার ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আবু রাফা মো. আরিফ জানান, আচরণবিধি লঙ্ঘনকারী যে দলের প্রার্থীই হোক, তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপরদিকে ৪ ডিসেম্বর নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের রংপুরে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা এখনো যাননি। ফলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক ও মিঠাপুকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রাশেক রহমানও মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য প্রচার চালিয়েছিলেন। পরে মনোনয়ন না পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেন। তার সমর্থকরাও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় নন। এ ছাড়া রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাদেরও প্রচারে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয় নিয়ে সন্দিহান সাধারণ ভোটাররা।

অপরদিকে রংপুর সিটিতে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে ১২টি ইউনিয়ন। এর মধ্যে ৭টি পূর্ণাঙ্গ এবং ৫টি আংশিক ইউনিয়ন যুক্ত হয়েছে। এসব ইউনিয়নে ভোটারসংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগকারী ভোটাররা আসন্ন সিটি নির্বাচনের ফলে বড় ভূমিকা রাখবেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব এলাকার ভোটার ১৯৯০ সাল থেকে লাঙ্গলে ভোট দিয়ে অভ্যস্ত। এখানে জাপা প্রার্থীর সমর্থন বেশি।

জাপার জয়ের পথে বাধা স্বতন্ত্র প্রার্থী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফকে ইতোমধ্যে বহিষ্কার করেছে জাতীয় পার্টি। গতকাল রবিবার গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, সে আমারই আপন ভাতিজা। তাকে বহিষ্কার করার একটাই কারণ, সে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করেছে। ভাই বা ভাতিজা যে-ই হোক না কেন, আমার কাছে দল বড়। এরশাদের ভাতিজা এককভাবে নির্বাচন করেলও তাতে খুব প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। এ ছাড়া বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা মনে করেন, এখানে ধানের শীষ জয়ী হতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে নৌকাকে হারাতে তারা লাঙ্গলে ভোট দিতে পারেন। সব মিলিয়ে জাপা প্রার্থীর অবস্থান বেশ শক্ত বলেই মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

আগামী ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় রংপুর সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৭ মেয়র প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগের সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, বিএনপির কাওসার জামান বাবলা, জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু, বাসদের আবদুল কুদ্দুস, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সেলিম আখতার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ। এ ছাড়া ৩৩টি ওয়ার্ডে ২১১ জন কাউন্সিলর এবং ১১টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন লড়াই করছেন। এ সিটি করপোরেশনে বর্তমানে ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৯ এবং নারী ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬২ জন। ৫ বছর আগে রংপুর সিটির প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে