খালেদার রায়ের আগে প্রস্তুত হচ্ছে বিএনপি

*৭৭ সাংগঠনিক টিম যাচ্ছে তৃণমূলে *আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত রাখাই উদ্দেশ্য *৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসও পালন করবে

  নজরুল ইসলাম

১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:৫১ | প্রিন্ট সংস্করণ

জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত সাজা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। তাই উদ্ভূত ওই পরিস্থিতি মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে বিএনপির ৭৭ সাংগঠনিক টিম জেলা সফর শুরু করেছেন। এর মূল উদ্দেশ্য আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত রাখা। এ ছাড়াও ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবসে ব্যাপক কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে দলটি।

দলের নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, নির্বাচনের বছর আগে সাংগঠনিক টিমগুলোর এ সফর থেকে নির্বাচনী আসনভিত্তিক একটি ধারণা পাওয়া যাবে। সফর শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিবেদন দলীয় চেয়ারপারসনকে দিতে বলা হয়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে- মহাসচিব, স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের নেতাদের টিমপ্রধান করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠিও তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আগামী ৩০ ডিসেম্বর সফর শেষ করতে বলা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার মামলার কার্যক্রমও এ মাসে শেষ হচ্ছে বলে ধারণা করছেন দলটির নেতারা। এ লক্ষ্যে কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের সময়কে জানান, ‘দলকে সুসংহত করতেই তৃণমূলে কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শুধু দলকে শক্তিশালীই নয়, আগামী নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। আমাদের দাবিগুলোও জনসাধারণের মধ্যে তুলে ধরা হবে। মূলত এ সফরের মাধ্যমে বিএনপি নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের আরও কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আমি আশা করছি।’

দলের এক নেতা জানিয়েছেন, চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বিশেষ আদালতে খালেদা জিয়ার মামলা-হাজিরা আছে। ওই সময় তার মামলার রায়ের তারিখ দেওয়া হতে পারে বলে তাদের ধারণা। সে বিষয়টি মাথায় রেখে দলকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ জন্য সাংগঠনিক সফর শুরু হবে।

প্রতি টিমপ্রধানকে দেওয়া বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছেÑ ‘দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর পর্যায়ে কর্মিসভার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য এই সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সভা সাফল্যম-িত করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত টিম সারা দেশের জেলা/মহানগরে সাংগঠনিক সফরের জন্য আপনাকে দলনেতা করে টিম গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে কর্মিসভা সাফল্যম-িত করতে আপনার নেতৃত্বে গঠিত টিমকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করছি।’

চিঠি সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট জেলা বা মহানগর এলাকার কেন্দ্রীয় নেতা, সংশ্লিষ্ট কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্য, সাবেক এমপি, বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা পাওয়ার পর গতকাল থেকেই প্রাথমিক কাজ শুরু করতে সিলেট গেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরাহ সালেহ প্রিন্স বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সংশ্লিষ্ট জেলার নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

৭৭ টিমে যারা আছেন : পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে মিজানুর রহমান মিনু; দিনাজপুরে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ; সৈয়দপুর ও নীলফামারীতে হারুন অর রশীদ; লালমনিরহাট, রংপুর জেলা ও মহানগরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় হাবিব-উন নবী খান সোহেল; জয়পুরহাট ও বগুড়ায় ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু; চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুষ্টিয়ায় সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল; নওগাঁ, রাজশাহী জেলা ও মহানগরে মির্জা আব্বাস; নাটোর ও মাগুরায় আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সিরাজগঞ্জও পাবনায় অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন; শেরপুর, ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণে আবদুল্লাহ আল নোমান; নেত্রকোনায় রুহুল আলম চৌধুরী; কিশোরগঞ্জে সেলিমা রহমান; মানিকগঞ্জ ও ঢাকা মহানগরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকা জেলায় বরকত উল্লাহ বুলু; গাজীপুরে জয়নুল আবদিন ফারুক; নরসিংদীতে ফজলুর রহমান; নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ; রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ; ফরিদপুরে আতাউর রহমান ঢালী; মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে আহমেদ আজম খান; সুনামগঞ্জ এবং সিলেট জেলা ও মহানগরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়; মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে শামসুজ্জামান দুদু; কুমিল্লা জেলা উত্তর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবদুল আউয়াল মিন্টু; মেহেরপুর অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন (ভিপি); চুয়াডাঙ্গায় খায়রুল কবীর খোকন; যশোর ও ঝিনাইদহে অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী; নড়াইল ও বাগেরহাটে নিতাই রায়চৌধুরী; খুলনা জেলা ও মহানগর ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া; সাতক্ষীরায় ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন; বরগুনায় অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন; পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলায় মজিবুর রহমান সরোয়ার; বরিশাল জেলা উত্তর, বরিশাল জেলা দক্ষিণ ও বরিশাল মহানগরে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন; ঝালকাঠিতে আলতাফ হোসেন চৌধুরী; টাঙ্গাইল ও জামালপুরে আমানউল্লাহ আমান; চট্টগ্রাম মহানগর ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও উত্তর জেলা নজরুল ইসলাম খান; ফেনী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও কুমিল্লা মহানগরে মো. শাহজাহান; কক্সবাজার ও চাঁদপুরে মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন; নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে ড. আবদুল মঈন খান; বান্দরবনে আবদুস সালাম; খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে শওকত মাহমুদ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে