সঞ্চয়কারীদের সুখবর দিল ডাক বিভাগ

  শাহিদ বাপ্পি

০১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন বছরে সঞ্চয়কারীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে ডাক বিভাগ। জাতীয় ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের আওতায় তিনটি সঞ্চয়ী প্রকল্পে গ্রাহকদের আগের মতো বাড়তি মুনাফা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এসব সঞ্চয়ী প্রকল্পে যাতে সব শ্রেণির মানুষ বিনিয়োগ করতে পারে, সেই সুযোগও রয়েছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষও এই সঞ্চয়ের সুবিধা পাবেন। আগে শহর বা গ্রামের সব মানুষ এই সুবিধা পেতেন না।

ডাকঘরের অধীনে জাতীয় ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের আওতায় তিনটি সঞ্চয়ী প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হচ্ছে ডাক সঞ্চয় ব্যাংক সাধারণ হিসাব, ডাক সঞ্চয় ব্যাংক মেয়াদি হিসাব এবং ডাক জীবন বীমা। এই তিন ধরনের হিসাবে প্রায় ৫৭ লাখ গ্রাহক সঞ্চয় করেছেন।

বেসরকারি ব্যাংকে মুনাফা কিছুটা বেশি হলেও এগুলোর বেশিরভাগের শাখাই জেলা শহরের বাইরে কম। কিছু শাখা উপজেলা শহরে রয়েছে। এর বাইরে নেই। সরকারি সঞ্চয়পত্রগুলোয় মুনাফা বেশি হলেও এগুলো জেলাশহরের বাইরে পাওয়া যায় না। বেসরকারি ব্যাংক বা সরকারি সঞ্চয়পত্রে স্বল্প আয়ের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুযোগ কম। কেননা এগুলোয় বিনিয়োগে বড় অঙ্কের টাকার প্রয়োজন। কিন্তু ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে স্বল্প টাকায় যেমন বিনিয়োগ করা যায়, তেমনি মুনাফাও ব্যাংকের চেয়ে বেশি। আবার জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে এর শাখা রয়েছে। সব শাখা থেকেই এগুলোয় নতুন বছরে বিনিয়োগ করা যাবে। ফলে স্বল্প আয়ের গ্রামের মানুষ এসব সঞ্চয়ী প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন।

সাধারণ হিসাব : সব শ্রেণিপেশার বাংলাদেশি নাগরিক এই হিসাব খুলে সঞ্চয় করতে পারবেন। মুনাফার হার বছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ (সরল হারে)। একক ও যৌথ নামে হিসাব খোলা যাবে। একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ও যৌথ নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা রাখা যাবে। তবে সর্বনিম্ন যে কোনো অঙ্কের টাকা রাখা যাবে। এই হিসাবে যে কোনো সময় টাকা জমা দেওয়া এবং তোলা যাবে। পোস্টাল কার্ডের মাধ্যমেও এই হিসাব থেকে টাকা তোলা যাবে। এ ক্ষেত্রে ডাক পোস্টাল বুথ ও কিছু ব্যাংকের এটিএম বুথ ব্যবহার করা যাবে।

এটি ব্যাংকের সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের মতো। এর কোনো মেয়াদ নেই। জমা টাকার ওপর মুনাফা পাওয়া যাবে। যে কোনো সময় টাকা তোলা যাবে। ব্যাংকে এসব হিসাবে বলতে গেলে কোনো মুনাফা দেওয়া হয় না।

মেয়াদি হিসাব : ৩ বছর মেয়াদি এই হিসাবে মুনাফা দেওয়া হয় ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে মেয়াদ শেষে ৩৩ হাজার ৮৪০ টাকা মুনাফা পাওয়া যাবে। এর মধ্যে থেকে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর বাবদ ৩ হাজার ৩৮৪ টাকা কেটে নেওয়া হবে। নিট মুনাফা দাঁড়াবে ৩০ হাজার ৪৫৬ টাকা। এক বছরের জন্য মুনাফার হার ১০ দশমিক ২০ শতাংশ, দুই বছরের জন্য ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং তিন বছরের জন্য ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। এই হিসাবেও একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ এবং যৌথ নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা সঞ্চয় করা যাবে। হিসাব পরিচালনা বা খুলতে কোনো ফি বা সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয় না। এর সবই সঞ্চয়ী প্রকল্প রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত।

বিনিয়োগ করতে যা লাগবে : গ্রাহকের দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। জাতীয় পরিচয় পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্টের ফটোকপি এবং নমিনির প্রত্যেকের দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। নমিনি নিয়োগের পর তা পরিবর্তন করা যাবে। হিসাবের এক মেয়াদ শেষ হলে স্বংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়ানের সুবিধা পাওয়া যাবে। অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স সর্বনিম্ন ২ টাকা রাখতে হবে।

ডাক জীবন বীমা : যারা বীমা করতে চান, তারা এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন। ১৯ থেকে ৫৫ বছর বয়সী সব শ্রেণি-পেশার বাংলাদেশি নাগরিক এর আওতায় বীমা করতে পারেন। এর আওতায় জীবন চুক্তি বীমা, মেয়াদি বীমা, শিক্ষা মেয়াদি বীমা, বিবাহ বীমা এবং অ্যান্ডোমেন্ট বীমা করা যাবে।

অন্যান্য সুবিধা : এসব হিসাবে সঞ্চয় ও বীমায় আয়কর রিবেট পাওয়া যায়। সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে মুনাফার হার বেশি। বীমার ক্ষেত্রে প্রিমিয়ামের হার কম এবং বোনাসের পরিমাণ বেশি। শতভাগ ঝুঁকির নিরাপত্তা দেওয়া হয়। আকস্মিক মৃত্যু ও চির-অক্ষমতার মঙ্গল বিধান চুক্তি ও ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়াই পলিসি সুবিধা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আজীবন বীমায় প্রতিহাজারে বোনাস ৪২ টাকা। মেয়াদি বীমায় বোনাস মিলবে প্রতি হাজারে ৩৩ টাকা।

সারা দেশে জেলা, উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে ডাকঘরের শাখা রয়েছে। আগে এসব সঞ্চয়ী উপকরণ জেলা শাখা ও সীমিত কিছু উপজেলা শাখা থেকে পাওয়া যেত। ইতোমধ্যে ডাকঘরের প্রায় সব শাখা অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। কিছু শাখা বাকি আছে, সেগুলোও অনলাইনের আওতায় আনা হবে। ফলে যে কোনো শাখা থেকে এসব সঞ্চয়ী প্রকল্পে বিনিয়োগ করা যাবে। বর্তমানে ডাকঘরের শাখা ৯ হাজার ৮৮২।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে