একাদশ জাতীয় নির্বাচন

কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জে পড়বে সরকার

  আরিফুজ্জামান মামুন

০৯ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ২০১৪ সাল থেকেই তৎপরতা চালাচ্ছেন কূটনীতিকরা। নিয়মানুযায়ী চলতি বছরের শেষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকারকে কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে কূটনৈতিক তৎপরতাও তত দৃশ্যমান হবে বলে তাদের ধারণা।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির বর্জনে একতরফা নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশের অভাব ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা না থাকায় কোনো পর্যবেক্ষক পাঠায়নি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউ এখনো তার অবস্থান অপরিবর্তিত রেখেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা দশম সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই বিদেশিরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে আসছেন। একই সঙ্গে তারা দশম সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ বলেও অভিহিত করেছেন। গত চার বছর ধরেই এ নিয়ে কোনো না কোনো বিদেশি কূটনীতিক, বন্ধু-উন্নয়ন সহযোগী কথা বলছে। সরকার, নির্বাচন কমিশন, নাগরিক সমাজ এবং স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ-বৈঠক বা মতবিনিময়ে জোরালোভাবে বিষয়টি আসছে। কূটনৈতিক দৈনন্দিন কর্মসূচি, ডিপ্লোমেটিক পার্টি কিংবা আনুষ্ঠানিক সাংবাদিক সম্মেলনেও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দিচ্ছেন বিদেশিরা। জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এমনকি প্রতিবেশী ভারতও বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন চায়।

বিদেশি কূটনীতিকরা এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠকও করছেন। কোন প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় এমন একটি গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়াও খুঁজছেন বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চাচ্ছে বাংলাদেশে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বেশ কিছু দেশের কূটনীতিকরা সাক্ষাৎ করেছেন। তারা একাদশ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানারও চেষ্টা করেন।

ইইউ বৈশ্বিক এজেন্ডা হিসেবে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। এমন ধারণায় ইইউ তা পর্যবেক্ষণে আগাম পর্যবেক্ষক টিম পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান ইইউ রাষ্ট্রদূত। ইইউ সূত্র বলছে, মোট ৪টি ধাপে তারা পরবর্তী নির্বাচনটি পর্যবেক্ষণ করতে চায়। প্রথমত নির্বাচন নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের মনোভাব, দলগুলোর প্রাথমিক প্রস্তুতি এবং ওই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। দ্বিতীয়ত নির্বাচনপূর্ব মাসগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তৃতীয়ত নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি, চতুর্থত এবং সর্বশেষ নির্বাচনপরবর্তী পরিস্থিতি।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করে। আমাদের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তাতে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যে ঐকমত্য নেই বলে বিদেশিরা হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পায়। আমাদের মতো বিদেশিরাও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আশা করে। সেই হিসেবে আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরেপেক্ষ করতে সরকার যে কূটনৈতিক চাপে থাকবে এটি বলা যায়। বরং যদি না থাকে সেটিই হবে অস্বাভাবিক।

দ্বিমত পোষণ করে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের দেশে কর্মরত কূটনীতিকরা বিভিন্নœ ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এখানে চাপের কিছু নেই। আমরা যদি নিজেরাই নিজেদের মধ্যকার সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারি তাহলে তো সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এদিকে আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকার যে চ্যালেঞ্জে পড়বে তা মানতে রাজি নন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যায় কোনো আবদার পূরণে বিদেশি কূটনীতিকরা এবং রাষ্ট্রগুলো অতীতের মতো এবার আর সময় নষ্ট করবে না। এর আগে আমরা নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন দেশের এক ধরনের তৎপরতা দেখেছি। এবার আর সেটি হবে বলেও আশা করি না। তিনি বলেন, আমরা পিছনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি জাতীয় নির্বাচন এলেই কেউ কেউ বিদেশিদের দিয়ে নিজেদের মতামতকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। কূটনীতিকরাও এসব বিষয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু এবার তারা বুঝে গেছেন। কাজেই আগের বিষয়টা আর বর্তমান সময়টা এক নয়। কোনো দলের ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশ চাপ প্রয়োগ করবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে