তবলিগ জামাতে কোন্দল

বিশ্ব ইজতেমা মালয়েশিয়ায়!

  সানাউল হক সানী

১০ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব ইজতেমা। প্রতিবছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলিমরা ইজতেমা উপলক্ষে বাংলাদেশে আসেন। মুসলিমদের এ মহাসম্মিলন নিয়ে তৈরি হয়েছে ধূম্রজাল। মালয়েশিয়া থেকে আবদুল চং নামে এক চাইনিজ নও-মুসলিমের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো কেন্দ্র করে এমন অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। চিঠিতে তিনি বিশ্ব ইজতেমা মালয়েশিয়ায় আয়োজনের কথা বলেন।

জানা যায়, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি ও ১৯ জানুয়ারি দুই দফায় তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফায় ১৪ জানুয়ারি ও দ্বিতীয় দফায় ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে তবলিগ জামাতের সদস্যদের মধ্যে বিভক্তির কারণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এর আয়োজন নিয়ে। ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিশ্ব ইজতেমায় আগমন নিয়ে সর্বপ্রথম অস্থিরতা দেখা দেয়। তবলিগের একটি পক্ষ তাকে ইজতেমায় আনার কথা বললেও অপর পক্ষ অনাগ্রহ দেখান। এ নিয়ে শুরু হয় গ্রুপিং। তবে তবলিগের মুরব্বিরা কিছু দিন আগে বিষয়টির ফয়সালা করে দিয়েছিলেন। গত ৭ জানুয়ারি তবলিগ জামাতের মুরব্বি ও কওমি আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি সাদের ঢাকা সফরের প্রতি নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেন। ওই বৈঠকে ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন এবারের ইজতেমায় মাওলানা সাদ কান্ধলভীর না আসার পক্ষে মত দেন।

কিন্তু সম্প্রতি কাকরাইলের মুরব্বি প্রকৌশলী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম সাদকে বিশ্ব ইজতেমায় আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিলে দ্বন্দ্ব ক্রমে প্রকাশ্য চলে আসে। তবে এতে স্বাক্ষরকারীর মধ্যে শূরা সদস্য নন এমন দুজনের স্বাক্ষরও রয়েছে।

একই সঙ্গে এই ১৩ সদস্য দিল্লির নেজামুদ্দীন মারকাজের মুরব্বি মাওলানা মুহাম্মাদ সাদ ও মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ এবং নেজামুদ্দীনের বাইরের মাওলানা ইবরাহীম দেওলা ও মাওলানা আহমাদ লাটকে না এনে ইজতেমায় তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর সুপারিশ করেন। এর পর লিখিতভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাকিস্তানের সাথীদের আসার প্রতিও নিষেধাজ্ঞা জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। তবে তবলিগ জামাতের নেতৃস্থ’ানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন জানান, ২০১১ ও ২০১২ সালের দিকে ওয়াসিফের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়েই তবলিগ জামাতের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এ দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত রূপ পায় মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে আসা কেন্দ্র করে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে আবদুল চং নামে এক চাইনিজ নও-মুসলিম বাংলাদেশে একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়Ñ মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে না আনলে বিশ্ব ইজতেমা মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়া হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে পত্র দেওয়া হয় বাংলাদেশে। এমনকি মালয়েশিয়া থেকেও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছেÑ বাংলাদেশে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। মালয়েশিয়া তবলিগের শূরার ৬ সদস্যের একটি চিঠি ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আবদুল্লাহ চংয়ের চিঠির বিরোধিতা করে ঢাকার ইজতেমার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি মাওলানা সাদ ও বিতর্কিত আলেমরা যেন ঢাকার ইজতেমায় না আসেন, এ জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে তবলিগ জামাতের শূরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, মাওলানা সাদের আগমন নিয়ে একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে পারব না। তবে আপনি টঙ্গী এলে অন্য শূরা সদস্যদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন।

ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব ইজতেমায় না আনলে তারা সাদকে নিয়ে বিশ্ব ইজতেমা করতে প্রস্তুত। তবে বিষয়টি নিয়ে তবলিগ জামাতের অপরাপর মুরব্বিরা সমাধান করবেন বলেও জানান তিনি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে